নভেম্বর ২৮, ২০২১ ১৯:২৪ Asia/Dhaka
  • মথুরার শাহী ঈদগাহে শ্রীকৃষ্ণের মূর্তি স্থাপনের ঘোষণা হিন্দু মহাসভার, ১৪৪ ধারা জারি

ভারতে বিজেপিশাসিত উত্তর প্রদেশে মথুরার শাহী ঈদগাহে শ্রীকৃষ্ণের মূর্তি স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে হিন্দু মহাসভা।

ডানপন্থী হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের ওই ঘোষণায় সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিবেশ বেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

এ বিষয়ে এরইমধ্যে প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। পুলিশ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ১৪৪ ধারা জারি করেছে এবং একইসঙ্গে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত কোনও অনুষ্ঠানে উপস্থিত না হওয়ার জন্য জনগণকে আবেদন করা হচ্ছে।   

আজ (রোববার) হিন্দি গণমাধ্যম ‘জনসত্তা’য় প্রকাশ, অল ইন্ডিয়া হিন্দু মহাসভা ঘোষণা করেছে, আগামী ৬ ডিসেম্বর শাহী মসজিদ ঈদগাহে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জলাভিষেক হবে পূজা-অর্চনা করা হবে। এ ধরণের   কর্মসূচির ঘোষণা এমন সময়ে করা হয়েছে যখন স্থানীয় আদালত ১৭ শতাব্দীর মসজিদটি অপসারণের আবেদনের শুনানি করছে। আদালতে শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি কমপ্লেক্সের মালিকানার অধিকারও দাবি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, সম্প্রতি হিন্দি গণমাধ্যম ‘হিন্দুস্তান’ –এ প্রকাশ, অখিল ভারত হিন্দু মহাসভা ঘোষণা করেছে, তারা মথুরা মন্দিরে ভগবান কৃষ্ণের একটি মূর্তি তার আসল জন্মস্থানে স্থাপন করবে। হিন্দু মহাসভার দাবি- ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আসল জন্মস্থান হল বিখ্যাত মন্দির সংলগ্ন মসজিদ। হিন্দু মহাসভার নেতা রাজ্যশ্রী চৌধুরি বলেন, মহাজলাভিষেকের পরে প্রতিমা স্থাপন করা হবে। ৬ ডিসেম্বর শুদ্ধিকরণের পর এই স্থানে প্রতিমা স্থাপন করা হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

প্রসঙ্গত, ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর ভারতের উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় কয়েকশ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক বাবরী মসজিদ ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল উগ্রহিন্দুত্ববাদীরা।      

এদিকে, হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সাম্প্রতিক ঘোষণার পরে, স্থানীয় সংগঠনগুলো মুখ্যমন্ত্রী যোগি আদিত্যনাথের কাছে শহরে নিরাপত্তা বাড়ানোর আবেদন করেছে যাতে মথুরার সামাজিক সম্প্রীতি কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। মথুরার কওমি একতা মঞ্চের সদস্যরা আগামী ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত নিরাপত্তা দাবি করে বলেছেন, শ্রীকৃষ্ণ জন্মস্থান এবং শাহী ঈদগাহের মধ্যে চুক্তির পর প্রায় ৫৩ বছর হয়ে গেছে। আমরা এটা ভাঙতে দিতে পারি না।  

গতকাল (শনিবার) মথুরা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নবনীত সিং চাহাল এবং সিনিয়র পুলিশ সুপার গৌরব গ্রোভার শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেছেন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার খতিয়ে দেখেছেন। এর পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নিয়োজিত নিরাপত্তাকর্মী ও কর্মকর্তাদেরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সিনিয়র পুলিশ সুপার গৌরব গ্রোভার সাফ জানান, জেলায় ইতোমধ্যেই ১৪৪ ধারা কার্যকর রয়েছে। গুজব ছড়ানো ও শান্তি বিঘ্নিতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।    

বাবরী মসজিদ-রামমন্দির ইস্যুর পাশাপাশি মথুরা ও কাশীর মন্দির নিয়েও আন্দোলনে নেমেছিল সঙ্ঘ পরিবার। রামমন্দির আন্দোলনের সময়েই গেরুয়া  বাহিনীর আওয়াজ ছিল, ‘অযোধ্যা তো সিরফ ঝাঁকি হ্যায়, কাশী-মথুরা  আভি বাকি হ্যায়’।

রামমন্দির আন্দোলনের অন্যতম নেতা বিনয় কাটিয়ার মথুরায় কৃষ্ণজন্মভূমি  ইস্যুতে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, মথুরায় শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি মন্দিরের লাগোয়া ঈদগাহ মসজিদের জমি হিন্দুদের। তার দখল নিতে হবে। প্রয়োজনে আন্দোলনও হবে।    

গতবছর সেপ্টেম্বরে মথুরা আদালতে ওই বিষয়ে ‘ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বিরাজমান’-এর নামে দায়ের হয়েছিল দেওয়ানি মামলা। মামলার মূল বক্তব্য ছিল, ‘শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি’র ১৩.৩৭ একরের অধিকার এবং শাহী ঈদগাহ মসজিদ সরানো। শ্রীকৃষ্ণ বিরাজমানের হয়ে মামলা করেছিলেন রঞ্জনা অগ্নিহোত্রী ও ছ’জন ভক্ত।  

কিন্তু মথুরা নগর আদালতের বিচারক ওই মামলা গ্রহণ করতে রাজি  হননি। আদালত জানিয়েছিল, দেশের বর্তমান আইন অনুযায়ী, ১৯৪৭ সাল থেকে থাকা দেশের যেকোনও প্রান্তে মন্দির-মসজিদ বা গির্জার চরিত্র বদলানোর উপরে আইনি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু ১৯৯১ সালের উপাসনাস্থল সংক্রান্ত বিশেষ আইন অযোধ্যার বিষয়টিকে ছাড় দিয়েছিল।  সেই বিষয়টি শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কিন্তু পরবর্তীতে ওই ইস্যুতে মথুরা জেলা আদালতে নতুনভাবে মামলা দায়ের করা হয়েছে।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/ আবুসাঈদ/২৮

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ