জানুয়ারি ১৪, ২০২২ ১৯:১৫ Asia/Dhaka
  • 'উত্তর প্রদেশে দলিত ও সংখ্যালঘুদের চোখে ধুলো দিয়ে ক্ষমতা পেয়েছে বিজেপি '

ভারতের উত্তর প্রদেশের সাবেক মন্ত্রী স্বামী প্রসাদ মৌর্য বলেছেন, ‘বিজেপির লোকেরা দলিত, অনগ্রসর, সংখ্যালঘু, মজলুমদের চোখে ধুলো দিয়ে ক্ষমতা পেয়েছে।’ তিনি আজ (শুক্রবার) উত্তর প্রদেশের রাজধানী লক্ষনৌতে সমাজবাদী পার্টিতে যোগ দিয়ে এক সভায় বক্তব্য রাখার সময়ে ওই মন্তব্য করেন।

রাজ্যের সাবেক মন্ত্রী স্বামী প্রসাদ মৌর্য আজ বিজেপিকে টার্গেট করে বলেন, ‘আজ বিজেপির শেষের ইতিহাস লেখা চলেছে। বিজেপির বড় বড় নেতারা, যারা এতদিন কুম্ভকর্ণী হয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন, যারা নেতা, বিধায়ক ও সাংসদের সঙ্গে কথা বলার সময় পাননি, তারা আজ ঘুমহীন হয়ে পড়েছেন। তাদের  ঘুম আসছে না।’  

তিনি বলেন, ‘এবার বিজেপি সরকারকে বিলুপ্ত করতে হবে এবং উত্তর প্রদেশকে বিজেপির শোষণ থেকে মুক্ত করতে হবে। অখিলেশের সঙ্গে থেকে বিজেপিকে ধ্বংস করব। অখিলেশ একজন যুবক। লেখাপড়া জানা ব্যক্তি। তাঁর মধ্যে নয়া শক্তি আছে।’

উত্তর প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে ক্ষমতাসীন বিজেপিতে বড়সড় ভাঙন শুরু হয়েছে। সম্প্রতি ১৪ জন বিধায়ক বিজেপি ত্যাগ করেছেন। আজ (শুক্রবার) স্বামী প্রসাদ মৌর্য এবং ধরম সিং সাইনিসহ ৮ জন বিধায়ক সমাজবাদী পার্টিতে যোগ দিয়েছেন।

সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব আজ যোগদান মঞ্চে পৌঁছে সবাইকে দলের সদস্যপদ প্রদান করেন। অখিলেশ যাদব কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্ব এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে কটাক্ষ করে বলেন, মানুষ বদল চায়, পরিবর্তন চায়। দিল্লিওয়ালারা যতই আসুক না কেন, ‘বাবা’ (যোগী) পাস করতে পারবেন না।

ড. ইমানুল হক

এ সম্পর্কে আজ (শুক্রবার) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ভাষা ও চেতনা সমিতির সম্পাদক ও কোলকাতার প্রেসিডেন্সী কলেজের সাবেক অধ্যাপক ড. ইমানুল হক আজ রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘বিজেপি জাতপাতের নামে উত্তর প্রদেশে ক্ষমতায় এসেছিল। তারা সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের নামে দলিত, ‘ওবিসি’ ও তফসিলি জাতির মানুষদের ও তাদের যারা জাতি মিত্র সেই মুসলিমদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা দাঙ্গা বাঁধানোর মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছিল। কিন্তু মানুষ তাদের অভিজ্ঞতায় বুঝেছেন, ধর্ম বড় কিন্তু তাঁর চেয়ে অনেক বড় হল পেট। রুটি বড়, রায়টব বড় নয়। এই কারণে গোটা উত্তর প্রদেশ জুড়ে কৃষক আন্দোলনের তীব্রতা দেখা গেছে। গ্রামের পর গ্রামে বিজেপির বিধায়কদের ঢুকতে দিচ্ছে না। দলিত, অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (ওবিসি), তপসিলী জাতির মানুষরা বুঝেছেন তারা নানাভাবে শোষিত হয়েছেন। এখানে কেবল ঠাকুর সম্প্রদায়ের মানুষ সুবিধা পেয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘মানুষজন বুঝতে পেরেছে বিজেপির নৌকায় থাকলে ভোটে জেতা যাবে না, নিজের সম্প্রদায়কেও রক্ষা করতে পারবে না, নিজেও বাঁচবে না। সেজন্য মানুষজন বিজেপি ছাড়তে চাচ্ছে’ বলেও মন্তব্য করেন অধ্যাপক ড. ইমানুল হক।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/১৪

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ