জানুয়ারি ২০, ২০২২ ২১:০২ Asia/Dhaka
  • ভারতে করোনা টেস্ট
    ভারতে করোনা টেস্ট

ভারতে একদিনে ৩ লাখেরও বেশি নয়া করোনা রোগী পাওয়া গেছে। আট মাস পরে  একদিনে এত বেশি সংক্রমিত রোগী পাওয়া গেল। ১৪ দিন আগে একদিনে সংক্রমণ ছিল এক লাখ। এবার একদিনেই ৩ লাখ রোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে। 

গতকাল (বুধবার) থেকে আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল ৮ টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘন্টায় করোনার ৩ লাখ ১৭ হাজার ৩৫২টি নয়া সংক্রমণ রেকর্ড করা হয়েছে।   পরিসংখ্যানের নিরিখে কোভিডের তৃতীয় ঢেউ সুনামিতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একদিনে করোনায় ৪৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে। করোনাকে পরাজিত করেছেন ২ লাখ ২৩ হাজার ৯৯০ জন। বর্তমানে দেশে করোনার সক্রিয় রোগী রয়েছে ১৯ লাখ ২৪ হাজার ৫১ জন। একইসময়ে, সংক্রমণের হার ১৬.৪১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, এ পর্যন্ত দেশে করোনার নয়া রূপ ওমিক্রনের মোট ৯ হাজার ২৮৭টি ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে।   

ইংরেজি নতুন বছরে যখন দেশবাসী করোনার অবসানের আশা করছে, তখন চলতি জানুয়ারিতেই আক্রান্তের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করেছে। গত ৬ জানুয়ারি  ১ লাখ ১৭ হাজারের বেশি করোনা আক্রান্ত রোগী পাওয়া গিয়েছিল। এরপর ১২ জানুয়ারি ২ লাখ ৪৭ হাজারের বেশি কোভিড রোগী পাওয়া যায়। আজ ২০ জানুয়ারি সকাল ৮ টা পর্যন্ত বিগত ২৪ ঘণ্টায় ৩ লাখ ১৭ হাজারের বেশি নতুন করোনা রোগী পাওয়া গেছে। 

শুধু নতুন রোগীই নয়, ভারতে সক্রিয় করোনা রোগীর সংখ্যাও দ্রুত বেড়েছে। গত ১  জানুয়ারী ভারতে প্রায় ১ লাখ ২২ হাজার সক্রিয় করোনা রোগী ছিল,  আজ ২০ জানুয়ারি তাদের সংখ্যা ১৯ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। 

যখন করোনার ঘটনা কমতে শুরু করেছিল, মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)-এর এপিডেমিওলজি বিভাগের প্রধান ডাঃ সমীরণ পান্ডা ১৯ জানুয়ারি বলেছিলেন যে করোনার তৃতীয় ঢেউ সম্পর্কে কিছু বলা খুব তাড়াহুড়ো হবে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, মার্চের আগে কোনও রেহাই পাওয়া যাবে না।     

হিন্দি গণমাধ্যম ‘আজতক’কে দেওয়া সাক্ষাত্কারে, ডাঃ সমীরণ পান্ডা বলেন, ১১ মার্চের পরে, ভারতে করোনার ঘটনাগুলো স্থানীয় পর্যায়ে পৌঁছতে পারে, কিন্তু এ জন্য কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। স্থানীয় স্তরের অর্থ হল সংক্রমণটি একটি জনসংখ্যা বা এলাকায় তুলনামূলকভাবে কম প্রকোপসহ ক্রমাগত উপস্থিত থাকে। এটি মহামারি থেকে  একটি ভিন্ন পরিস্থিতি।  

ডাঃ সমীরণ পান্ডার মতে,  এরপরে যদি করোনার কোনো নতুন রূপ দেখা না যায়,  তাহলে ১১ মার্চের পরে, করোনা শুধুমাত্র স্থানীয়ভাবে থাকতে পারে। তিনি বলেন, গাণিতিক অনুমানগুলো দেখিয়েছে যে ওমিক্রন ভাইরাস সংকট ভারতে ১১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে তিন মাস ধরে চলবে। ১১ মার্চের পরে আমরা কিছুটা স্বস্তি পাবো বলেও ডাঃ সমীরণ পান্ডা মন্তব্য করেন।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/এনএম/২০

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।       

 

ট্যাগ