জানুয়ারি ২১, ২০২২ ২০:৩৯ Asia/Dhaka
  • আজম খান ও তাঁর ছেলে আবদুল্লাহ আজম খান
    আজম খান ও তাঁর ছেলে আবদুল্লাহ আজম খান

ভারতের উত্তর প্রদেশে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে সমাজবাদী পার্টির শক্তিশালী নেতা আজম খান এবার জেল থেকেই বিধানসভা নির্বাচনে লড়বেন। তার প্রাক্তন বিধায়ক পুত্র আবদুল্লাহ আজম খানও নির্বাচনে লড়তে চলেছেন। সমাজবাদী পার্টি আজম খানকে রামপুর থেকে এবং তাঁর ছেলে আবদুল্লাহ আজমকে সোয়ার টান্ডা থেকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে।

২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে বন্দি থাকা আজম খানকে দল রামপুর বিধানসভা আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য এগিয়ে দিয়েছে। আজম খান এরই মধ্যে ৯ বার ওই আসনে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। বর্তমানে এই আসন থেকে বিধায়ক আজম খানের স্ত্রী তানজিন ফাতিমা। ইউপি নির্বাচনে আজম খান নিজেই বড় ইস্যু হয়ে উঠেছেন। 

২০১৭ সালে বিজেপি উত্তর প্রদেশে ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রবীণ নেতা আজম খান এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সমস্যা বৃদ্ধি শুরু হয়। তার বিরুদ্ধে মোট ১০০টিরও বেশি ফৌজদারি মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে, যার ফলে তিনি ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে রয়েছেন। এ ছাড়া তার স্ত্রী তানজিন ফাতেমা ও ছেলে আবদুল্লাহকেও একাধিক মামলায় সহঅভিযুক্ত করা হয়েছে।  

গত (শনিবার) উত্তর প্রদেশের সীতাপুর কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান ৩১ বছর বয়সী আবদুল্লাহ আজম। তাঁর বিরুদ্ধে ৪৩টি মামলা রয়েছে।  আজম খানের স্ত্রী ফাতিমাকে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। আজম খান ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে রয়েছেন। কারাগারে থাকা অবস্থাতেই তাকে আগামী নির্বাচনে রামপুর আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে বলে মনে করা হচ্ছে। রামপুর বরাবরই সমাজবাদী পার্টির শক্ত ঘাঁটি। আজম খান নিজে ৯বার এখান থেকে বিধায়ক হয়েছেন। ২০১৭ সালে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি রাজ্যে নিরঙ্কুশ  সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও আজম খান নিজের ওই আসনটি জিততে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনি বিজেপির শিব বাহাদুর সাক্সেনাকে ৪৭,০০০ ভোটে পরাজিত করেছিলেন। এ ছাড়াও তিনি এখান থেকে ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনেও তিনি দুর্দান্ত সাফল্য পান। এরপর রামপুর বিধানসভা আসন শূন্য হলে উপনির্বাচনে স্ত্রীকে নির্বাচনে দাঁড় করিয়েছিলেন এবং তিনিও জিতেছিলেন।     

একই সময়ে, আজম খানের ছেলে আবদুল্লাহ আজমও ২০১৭ সালে রামপুরের সোয়ার টান্ডা আসন থেকে বিধায়ক হয়েছিলেন। তবে তার নির্বাচন শিগগিরি বাতিল হয়ে যায়। নির্বাচনের সময় আবদুল্লাহ আজমের বয়স ২৫ বছর ছিল না এবং জাল নথির সাহায্যে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। জামিন পেয়ে কারাগার থেকে আসার পর গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে আবদুল্লাহ আজম তাঁর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাগুলোকে নৃশংসতা ও বাড়াবাড়ি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।  

আবদুল্লাহ আজম খান বলেন, মামলার সত্যতা কী, তা সবারই জানা,  মাত্র একদফা এজেন্ডা নিয়ে একটি পরিবারকে ধ্বংস ও মানহানি করাই উদ্দেশ্য। সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তিনি বলেন, সরকার যদি অন্যায় করতে শুরু করে, তাহলে কেউ কী করবে?  

আব্দুল্লাহ বলেন, তাদের বিরুদ্ধে মহিষ চুরি, ছাগল চুরি, বই চুরি ও মদের  বোতল চুরির মতোও মামলা রয়েছে। আবদুল্লাহ আজম অবশ্য আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, যেভাবে এবার ন্যায়বিচার পাওয়া গেছে এবং জামিন দেয়া হয়েছে, সেভাবেই পরবর্তীতেও ন্যায়বিচার পাওয়া যাবে।   

সমাজবাদী পার্টির প্রধান ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে আবদুল্লাহ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তিনি অখিলেশ যাদবের সঙ্গে আছেন। তিনি নিজেও জয়ী হবেন বলে পূর্ণ আশা প্রকাশ করেছেন। 

আত্রৌলির সমাজবাদী পার্টির নেত্রী সাজদা বেগম গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে বলেন,  দল সব সময় আজম খানের সঙ্গে আছে। পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, যখন আজম খানজীকে মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছিলেন, সেই সময়ে অখিলেশ  যাদবজী জনেশ্বর মিশ্র পার্কে ধর্নায় বসে অনেক প্রতিবাদ করেছিলেন। কিছু রাজনৈতিক দল সম্প্রদায়ের ভোটের মেরুকরণ করার চেষ্টা করছে কিন্তু এবার সবই ব্যর্থ হবে বলেও মন্তব্য করেন সমাজবাদী পার্টির নেত্রী সাজদা বেগম। #      

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২১ 

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।        

ট্যাগ