মে ২০, ২০২২ ১৯:২৫ Asia/Dhaka
  • জ্ঞানবাপী মসজিদ
    জ্ঞানবাপী মসজিদ

ভারতে বাবরী মসজিদ মামলায় মসজিদের পক্ষে থাকা হাজী মেহেবুব বলেছেন, বাবরী মসজিদের পর রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) এবার জ্ঞানবাপী মসজিদ ও শাহী ঈদগাহ মসজিদের জন্য ষড়যন্ত্র করছে।

আজ (শুক্রবার) হিন্দি গণমাধ্যম ‘আজতক’ সূত্রে প্রকাশ, হাজী মেহবুব  বলেছেন, মুসলমানরা যদি বারাণসীর জ্ঞানবাপী এবং মথুরার শাহী দরগাহ মসজিদকে বাঁচাতে আন্দোলন করে, তাহলে দেশ ধ্বংসের দিকে যাবে। তিনি বলেন, বাবরী মসজিদের পর রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) এখন জ্ঞানবাপী মসজিদ ও শাহী ঈদগাহ মসজিদের জন্য ষড়যন্ত্র করছে।     

হাজী মেহবুব বলেন, তারা যদি এই দু’টি মসজিদ নেওয়ার কথা ভাবে তাহলে তাদের তা ভুলে যাওয়া উচিত। তিনি বলেন, জ্ঞানবাপী ও শাহী ঈদগাহ মসজিদ বাঁচাতে বৃহৎ আন্দোলন হবে এবং মুসলিমরা এবার পিছপা হবে না। হাজী মেহবুব বলেন, জ্ঞানবাপী মসজিদ যেখানে আছে সেখানেই থাকবে। ‘শিবলিঙ্গ’ পাওয়া গেছে বলে প্রচার করা হচ্ছে। এটি মসজিদের অজুখানার একটি ফোয়ারা, শিবলিঙ্গ নয় বলেও মন্তব্য করেন হাজী মেহবুব।     

বাবরী মসজিদ মামলায় মসজিদের পক্ষে থাকা হাজী মেহবুব ‘রাম মন্দির’ মামলার কথা উল্লেখ করে বলেন, সব কিছু আমাদের পক্ষে ছিল। সুপ্রিম কোর্ট তার সিদ্ধান্তে বাবরী মসজিদের পক্ষে সব কিছু মেনে নিয়ে রাম মন্দিরের পক্ষে রায় দিয়েছে। তিনি বলেন, কিন্তু সত্ত্বেও আমরা চুপ করে থেকেছি এবং এই সমস্যার সমাধান হতে দিয়েছি। 

প্রসঙ্গত, জ্ঞানবাপী মসজিদের বাইরের দেয়ালে হিন্দু দেবতাদের বিগ্রহ, শৃঙ্গার গৌরীর দৈনিক পুজোর অধিকারের দাবিতে বারাণসী আদালতে কিছু মহিলা আবেদন করেছিলেন। ওই আবেদন শুনে বারাণসী আদালত জরিপের নির্দেশ দিয়েছিল। বারাণসী আদালতের পক্ষ থেকে জরিপের জন্য নিযুক্ত কোর্ট কমিশনার রিপোর্ট জমা দিয়েছেন।

একইসঙ্গে শাহী ঈদগাহ মসজিদের বিষয়টিও মথুরার জেলা আদালতে রয়েছে। হিন্দুত্ববাদীদের দাবি, ঈদগাহের ওই জমিতে শ্রী কৃষ্ণের গর্ভগৃহে ছিল প্রাচীন কেশবদাস মন্দির। তাদের দাবি, কাশীর ‘আসল বিশ্বনাথ মন্দিরের’ মতোই মথুরার মন্দিরটিও ধ্বংস করেছিলেন মুঘল সম্রাট অওরঙ্গজেব। অভিযোগ, সেখানে শাহী ঈদগাহ মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন। আদালতে দায়ের করা আবেদনে ২.৩৭ একর জমি দখলমুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে। ওই জমিতে রয়েছে শাহী ঈদগাহ মসজিদ।

হিন্দি গণমাধ্যম ‘দৈনিক ভাস্কর’ সূত্রে প্রকাশ, অ্যাডভোকেট রঞ্জনাসহ ৬ জনের দায়ের করা পিটিশনে দাবি করা হয়েছে, শ্রীকৃষ্ণ বিরাজমানের ১৩.৩৭ একর জমি রয়েছে। শ্রী কৃষ্ণ জন্মস্থান মন্দির এই জমির প্রায় ১১ একর জমিতে নির্মিত, আর শাহী ঈদগাহ মসজিদটি ২.৩৭ একর জমিতে। ২.৩৭ একর জমি মুক্ত করে শ্রী কৃষ্ণের জন্মস্থানের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। আগামী ২৬ মে মথুরার জেলা আদলতে ওই মামলার শুনানি হবে।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/আবুসাঈদ/২০

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ