মে ২৩, ২০২২ ১৮:০৪ Asia/Dhaka

ভারতে মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার পরিপ্রক্ষিতে দেশটির ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। আর এই কারণেই দেশটির সংখ্যালঘু মুসলিম জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সরকার নানা ধরনের নির্যাতন এবং দমনপীড়নের স্টিমরুলার চাপিয়ে দিয়েছে।

ভারতে মুসলিম জনসংখ্যা দিন দিন বেড়ে যাওয়ার ফলে এ বিষয়টি দেশটির ক্ষমতসীন বিজেপি সরকারকে বিষণভাবে আতঙ্কিত করে তুলেছে। মুসলমানদের ক্রমবর্ধমান এ বৃদ্ধি ঠেকাতে কট্টর হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি সংখ্যালঘু এ জনগোষ্ঠীকে কঠোর চাপে রাখার নীতি অবলম্বন করেছে এবং একইসঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। 

হুজ্জাতুুল ইসলাম ড. সাঈদ জাবেদ ওয়াহিদি ইরানে বর্হিবিশ্ব কার্যক্রমের অংশ দারি রেডিওকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতে সম্প্রতি পাস হওয়া নাগরিত্ব সংশোধনী আইন এবং একে ঘিরে সারাদেশে কঠোর প্রতিবাদ বিক্ষোভের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, বিশাল আয়তনের ভারতের ভূমি বিভিন্ন নৃগোষ্ঠী, জাতি ও ধর্ম সম্প্রদায়ের আবাসস্থল হিসেবে সুপরিচিত ছিল। তারা সেখানে বছরের পর বছর ধরে একসঙ্গে মিলেমিশে বসবাস করে আসছে। কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনের দিকে এগুতে থাকে যখন দুই দশক আগে ক্ষমতাসীন কট্টর হিন্দুত্ববাদী ও জাতীয়তাবাদী বিজেপি দল ভারতে ক্ষমতায় আসে। আমরা প্রত্যক্ষ করলাম যে এ সময় দেশটির সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর বিভিন্ন ধরনের বৈষম্য এবং নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে গেছে। 

তিনি আরো বলেন."সম্প্রতি আমরা প্রত্যক্ষ করলাম যে ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি সরকার কাশ্মিরে মুসলমানদের স্বায়ত্বশাসনের অধিকার কেড়ে নিয়েছে এবং এর বিরুদ্ধে মুসলমানদের বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। এছাড়া ক্ষমতাসীন সরকার হিন্দুদের পক্ষ অবলম্বন করে বহু বছর ধরে বিতর্কিত বাবরি মসজিদের ওপর তাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা  করেছে।" 

এই আফগান ধর্মীয় বিশেষজ্ঞের মতে, ভারতে মুসলমানদের প্রতি বৈষম্যের সর্বশেষ ঘটনাটি তাদের নাগরিকত্বের অধিকার এবং নাগরিকত্ব আইন সংশোধনের সাথে সম্পর্কিত যেখানে ভারতীয় জনসংখ্যার ১৪ ভাগই মুসলমান। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ করার বিষয় হচ্ছে এই বিলের মাধ্যমে আফগানিস্তান, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান থেকে আগত নিপীড়িত সংখ্যালঘু হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি এবং খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী অবৈধ অভিবাসীদের ভারতীয় নাগরকিত্ব পাওয়ার সুযোগ হয়েছে এবং মুসলিমদের জন্য এ জাতীয় কোনো সুযোগের ব্যবস্থা রাখা হয় নি। এই বিল পাসের মাধ্যমে এটি প্রমান করে যে  ভারতে ক্ষমতাসীন জাতীয়তাবাদী এবং হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার দেশটিতে মুসলমানদের উপস্থিতি কিংবা তাদের জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে উদ্বিগ্ন। 

সাইয়্যেদ জাবেদ আরো বলেন, মুসলমানদের বাদ দিয়ে ভারতের এ নাগরিক সংশোধনী আইন সংবিধানের চেতনার পরিপন্থি যা ধর্মনিরপেক্ষতার ওপর ভিত্তি করে অনুমোদিত এবং গৃহিত হয়েছে। এছাড়া এর মাধ্যমে ভারতে সংখ্যালঘু  জনগোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্য করা হয়েছে এবং এটি আন্তর্জাতিক আইনের বিরোধী বলেও মতপ্রকাশ করেন তিনি। তিনি বলেন এখানে অন্য যে বিষয়টি উল্লেখ করার বিষয় সেটি হলো বৈষম্যমূলক নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে আসা মুসলমানদের বিরুদ্ধে সরকারের আচরণ। ভারতের মুসলমানরা মনে করেন সংশোধনী নাগরিকত্ব আইন পাসের মাধ্যমে তাদের প্রতি বৈষম্য করা হয়েছে। তাই এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়া তাদের নাগরিক অধিকার। কিন্তু দেশটির পুলিশ এবং উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা মুসলমানদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিলের ওপর হামলা চালাচ্ছে এবং সরকার এতে নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।#

    

পার্সটুডে/বাবুল আখতার/২৩

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

 

      

ট্যাগ