মে ২৭, ২০২২ ১৯:১৯ Asia/Dhaka
  • ৩৬ হাজার মন্দির ভেঙে মসজিদ করা হয়েছে, আইনি উপায়ে ফিরিয়ে নেওয়া হবে: ঈশ্বরাপ্পা

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মসজিদ, ঐতিহাসিক স্মৃতিসৌধ ইত্যাদি নিয়ে হিন্দুত্ববাদীরা বিতর্ক সৃষ্টি করার মধ্যে এবার কর্ণাটকের বিজেপি বিধায়ক ঈশ্বরাপ্পা দাবি করেছেন ৩৬ হাজার মন্দির ভেঙে তাদের উপর মসজিদ তৈরি করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, হিন্দুরা আইনি উপায়ে ৩৬ হাজার মন্দির ফিরিয়ে নেবে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার দেওয়ান আব্দুল গণি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও বিশিষ্ট সমাজকর্মী ড. মুহাম্মদ ইসমাইল আজ (শুক্রবার) রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘আমাদের সবার কাছে বিষয়টা খুব স্পষ্ট। সামনে লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপি এবং তার যে সহযোগী সংগঠনগুলো রয়েছে তারা এসব করছে। আমরা যদি বিজেপি শাসনামলের দিকে দেখি তারা ধর্মীয় সুড়সুড়ি দিয়ে রাজত্ব করে যাচ্ছে। তারা উন্নয়নের নামে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। কর্মসংস্থান নেই, দেশের অর্থনীতির বেহাল অবস্থা এবং আমরা একটা কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। এবং এটা সাধারণ মানুষজন উপলব্ধি করছেন। একদিকে, যেমন  সংখ্যালঘু অত্যাচার রয়েছে, অন্যদিকে কৃষক অত্যাচার রয়েছে। দেশ বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বেসরকারিকরণ হচ্ছে। এ রকম পরিস্থিতিতে বিজেপির হাতে বর্তমানে আর কোনও ইস্যু বা এজেন্ডা নেই। মানুষকে ধর্মীয় সুড়সুড়ি দিয়ে বিভিন্ন ঐতিহাসিক যে নিদর্শন রয়েছে, ভারতবর্ষের যে সংস্কৃতি রয়েছে, এই জায়গাটাকে ওরা ভেঙে চুরমার করে দিতে চাচ্ছে। এবং মানুষে মানুষে বিভেদ ও বিভাজন সৃষ্টি করে দুটো সমান্তরাল লাইন তৈরি করতে চাচ্ছে হিন্দু, মুসলিমকে আলাদা করে।’   

সহকারী অধ্যাপক ও বিশিষ্ট সমাজকর্মী ড. মুহাম্মদ ইসমাইল 

তিনি আরও বলেন, ‘এখন ওদের হাতে বড় ইস্যু নেই সেজন্য বিভিন্ন মন্দির-মসজিদ ইস্যু তুলছেন। ৩৬ হাজার মসজিদের কথা তারা বলছেন, এতে সাধারণ হিন্দুরা বিভ্রান্ত হতে পারেন। তবে আমরা মনে করি যে, শিক্ষিত মানুষজন ধীরে ধীরে বিষয়টি বুঝছেন এবং আমরা দেশের জনগণকে এটা বোঝাতে পারবো। এরফলে ওদের ওই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে। সর্বোপরি আমাদের আইনি লড়াইটাও লড়তে হবে’ বলে মন্তব্য করেন বিশিষ্ট অধ্যাপক ও সমাজকর্মী ড. মুহাম্মদ ইসমাইল।   

অন্যদিকে, কর্ণাটকের হিন্দুত্ববাদী বিজেপি বিধায়ক ঈশ্বরাপ্পা ছাড়াও, ‘শ্রী রাম সেনা’ প্রধান প্রমোদ মুথালিক বলেছেন, যদি শান্তি বজায় রাখতে হয়, তাহলে সারা দেশে যেখানেই মন্দির ভেঙে মসজিদ তৈরি করা হয়েছে, মুসলিম সম্প্রদায়ের উচিত সেই সমস্ত জায়গা হিন্দুদের হাতে তুলে দেওয়া।  

প্রমোদ মুথালিক বলেন, এটা শান্তি বিঘ্নিত করার জন্য নয়। শান্তি বজায় রাখতে হলে মন্দির ভেঙ্গে নির্মিত মসজিদ হিন্দু ধর্মে ফিরিয়ে দিতে হবে। শুধু তাই নয়, লাউডস্পিকার নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে। লাউডস্পিকারের মাধ্যমে আযান  দেওয়া উচিত নয়। মুসলমানদের এই আদেশ মানতে হবে।   

আরেক বিজেপি বিধায়ক বসনাগৌড়া পাটিল দাবি করেছেন, সংখ্যালঘুরা আদালত এবং সংবিধান মানে না। বসনাগৌড়া বলেন, সরকারের উচিত নয় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। বরং এ সব মানুষদেরকে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করতে হবে। তিনি দাবি   করেছেন, ম্যাঙ্গালুরু বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘হিজাব’সমর্থনকারী মুসলিম ছাত্রদেরও শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করা উচিত।   

এরআগে বেঙ্গালুরুতে অবস্থিত টিপু সুলতানের প্রাসাদে জরিপের দাবি করা হয়েছিল। ‘হিন্দু জনজাগৃতি সমিতি’র মুখপাত্র মোহন গৌড়া অভিযোগ করেন, মন্দিরের জমি দখল করে বেঙ্গালুরুতে টিপু সুলতানের প্রাসাদ তৈরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, কথিত আছে, যেখানে টিপু সুলতানের প্রাসাদ নির্মিত, সেই জমিটি ভেঙ্কটারমন স্বামী মন্দিরের।  

মোহন গৌড়ার দাবি, ওই জমি টিপু সুলতানের আমলে দখল করা হয়েছিল। তিনি বলেন, কিছু লোক বলে যে ওই স্থানে বেদ পড়ানো হতো। এমতাবস্থায় ‘হিন্দু জনজাগৃতি সমিতি’র পক্ষ থেকে ওই জমি জরিপ করে প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানাচ্ছি। ভেঙ্কটারমন স্বামী মন্দির ১৫ শতকে নির্মিত হয়েছিল বলেও তিনি মন্তব্য করেন। #

   

পার্সটুডে/এমএএইচ/বাবুল আখতার/২৭

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ