আগস্ট ০৮, ২০২২ ১৯:৪৯ Asia/Dhaka
  • 'জম্মু-কাশ্মীরে নাগরিক নিরাপত্তার আরও অবনতি'

জম্মু-কাশ্মীরে লেফটেন্যান্ট গভর্নরের শাসনের অধীনে নাগরিকদের অবস্থা আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে বলে সাবেক বিচারপতি এবং সাবেক আমলাদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, সেখানে কর্মী এবং সাংবাদিকদের বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন এবং জননিরাপত্তা আইনের মতো রাষ্ট্রদ্রোহ এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে তাদের টার্গেট করে আইনের অপব্যবহার করা হচ্ছে।  

দিল্লি হাইকোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি এপি শাহের নেতৃত্বাধীন প্রতিবেদনে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাই কমিশনের সুপারিশকৃত ডিলিমিটেশনেরও সমালোচনা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে 'দ্য কাশ্মীর ফাইলস' ফিল্মটিকে ঘিরে ‘প্রচারের’ সমালোচনা করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে যে ছবিটি উপত্যকায় পঞ্চ (গ্রাম প্রধান) এবং পণ্ডিতদের আরও অসুরক্ষিত করে তুলেছে।     

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিন বছরের লেফটেন্যান্ট গভর্নরের শাসনের পরে নাগরিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। কর্মী ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ এবং ‘ইউএপিএ’এবং ‘পিএসএ’র মতো সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহার অব্যাহত রয়েছে। 

কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে তিন বছর : জম্মু-কাশ্মীরে মানবাধিকার সম্পর্কিত বার্ষিক প্রতিবেদনকে 'জম্মু-কাশ্মীরে মানবাধিকার' নামে একটি স্বাধীন ফোরামের সাথে শেয়ার করা হয়েছে। ফোরামটি দিল্লি হাইকোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি এপি শাহ এবং সাবেক কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব গোপাল পিল্লাইয়ের সহ-সভাপতিত্বে একটি স্বাধীন সংস্থা৷  ওই ফোরামের অন্য সদস্যরা হলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি রুমা পাল এবং মদন লোকুর, সাবেক পররাষ্ট্র সচিব নিরুপমা রাও এবং অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল এইচএস পানাগ। ফোরামটি ২০২১ সালের আগস্ট থেকে ২০২২ সালের জুলাই পর্যন্ত সময়কাল কভার করে তার প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিচারপতি দেশাই কমিশনের সুপারিশকৃত সীমানা পুনর্বিন্যাস এক ব্যক্তি-একভোট নীতি লঙ্ঘন করে। একইসময়ে, ‘জম্মু-কাশ্মীরকে রাজ্যের মর্যাদা পুনর্বহাল করতে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন করা হয়েছে।    

এতে আরও বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের উচিত বিধানসভা নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা এবং সেগুলোকে পূর্বনির্ধারিত নির্বাচনী এলাকার অধীনে রাখা উচিত। প্রতিবেদনে সরকারকে কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মচারীদের বদলি করতে বলা হয়েছে। বলা হয়েছে, উপত্যকার সুরক্ষিত স্থানে ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ ছবির প্রচারের কারণে তারা অসুরক্ষিত হয়ে পড়েছে।    

বিশ্লেষকদের মতে, ওই প্রতিবেদন উপত্যকার পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত। গত মাসে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই সংসদে বলেছিলেন, ২০২২ সালে কোনও কাশ্মীরি পণ্ডিত (ব্রাহ্মণ) কাশ্মীর উপত্যকা ত্যাগ করেননি। সন্ত্রাসীদের দ্বারা লক্ষ্যবস্তু হত্যাকাণ্ডের পর সম্প্রদায়ের বেশ কয়েকজন সদস্য উপত্যকা ছেড়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে এমন খবরও তিনি অস্বীকার করেছিলেন। 

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কর্মসংস্থান প্যাকেজের অংশ হিসেবে ২০১০ সাল থেকে ফিরে আসা ৪ হাজারেরও বেশি পণ্ডিত কর্মচারী- এর আগে কমপক্ষে এক মাসের জন্য তাদের দায়িত্বে যোগ দিতে অস্বীকার করেছিলেন। প্রতিবেদনে প্রকাশ, তাদের বেশিরভাগই ইতোমধ্যেই উপত্যকা ছেড়ে জম্মুতে চলে গেছেন।   #

পার্সটুডে/এমএএইচ/ মু.আ. হুসাইন/৮   
 

ট্যাগ