আগস্ট ১৮, ২০২২ ১৮:২৭ Asia/Dhaka
  • বিলকিস বানু
    বিলকিস বানু

ভারতের গুজরাটে ২০০২ সালে ভয়াবহ দাঙ্গার সময়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়া বিলকিস বানু বলেছেন, ন্যায় বিচারের প্রতি আস্থা তার নড়ে গিয়েছে। গণধর্ষণে অভিযুক্ত ১১ জন আসামির সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া প্রসঙ্গে গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ওই মন্তব্য করেছেন।

বিললিস বলেন, ‘দু’দিন আগে ১৫ আগস্টের দিন বিগত ২০ বছরের আতঙ্ক আবার আমায় গ্রাস করল, যখন আমি শুনলাম আমার জীবন, আমার পরিবারকে ধ্বংস করে দেওয়া ১১টা লোক মুক্তি পেয়ে গেল। আমি ভাষা  হারিয়ে ফেলেছিলাম। এখনও বোবা হয়ে আছি।’    

২০০২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বিলকিস বানুকে যারা গণধর্ষণ করেছিল, গত ১৫ আগস্ট গুজরাটে জেল থেকে মুক্তি পেয়েছে সেই ১১ জন।  দুর্বৃত্তরা নারকীয়ভাবে তার তিন বছরের শিশু কন্যাকে আছড়ে হত্যা করেছিল তার চোখের সামনে। এ সময়ে তার পরিবারের মোট ৮ জনকে হত্যা করেছিল ঘাতকরা। ২০০৮ সালে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত সেই ১১ জনকে মুক্তি দেওয়া হলে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে এ নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত বিলকিস বানু বলেছেন,  ‘এক জন নারীর প্রতি ন্যায়বিচার এ ভাবে  শেষ হয়ে যেতে পারে? আমি তো শীর্ষ আদালতে বিশ্বাস রেখেছিলাম, সিস্টেমে  বিশ্বাস রেখেছিলাম, একটু একটু করে আমার ক্ষতগুলোকে সঙ্গে নিয়ে বাঁচতে  শিখছিলাম। দোষীদের মুক্তি আমার শান্তি ছিনিয়ে নিল, ন্যায়ের প্রতি আমার  বিশ্বাস নড়ে গেল। আমি শুধু আমার কথা বলছি না। প্রত্যেকটি মেয়ে  যারা আদালতে  ন্যায়ের জন্য লড়ছে, তাদের সকলের জন্য কষ্ট হচ্ছে আমার।’   

বিলকিস বানু গুজরাট সরকারকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করার জন্য  অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, ‘আমাদের এই ক্ষতিটা করবেন না। ভয়হীন, শান্তির জীবনে বাঁচার অধিকার ফিরিয়ে দিন।’  

গণমাধ্যমে প্রকাশ, এক আসামি আদালতে শাস্তি হ্রাসের আবেদন করেছিল। সে সুপ্রিম কোর্টেও আবেদন  জানায়। সুপ্রিম কোর্ট গুজরাট সরকারকে বিবেচনা করে তিন মাসের মধ্যে  সিদ্ধান্ত জানাতে বলে। গুজরাট সরকার একটি কমিটি তৈরি করে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে।  সেই কমিটিই ওই আসামিদের মুক্তি দেওয়ার সুপারিশ করে। সুপারিশ মেনে নিয়ে  গুজরাট সরকার আসামিদের ছেড়ে দেয়। ওই কমিটির সদস্যদের মধ্যে ছিল দু’জন  বিজেপি’র বিধায়ক। যারা ছাড়া পেয়েছে তাদের মধ্যে বিজেপি’র নেতা, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সদস্যরা রয়েছে।  ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসে ওই আসামিরা মুক্তি পাওয়ার পরে জেলের দরজাতেই তাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়, লাড্ডু খাওয়ানো হয়। সেই ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এই কাজ যারা করছিলেন তারা বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সদস্য। আসামিদের এর পরে নিয়ে যাওয়া হয় উগ্র হিন্দুত্ববাদী ‘আরএসএস’ পরিচালিত দীনদয়াল উপাধ্যায় প্রেক্ষাগৃহে।   

ওই ইস্যুতে সিপিআইএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘অর্ধেক আকাশ’ই  যদি বিচার থেকে বঞ্চিত হয় তাহলে আকাশস্পর্শী বাগাড়ম্বর করে কী লাভ? এই কী প্রধানমন্ত্রী কথিত নারী শক্তি? কোন ভারত বিজেপি  তৈরি করতে চাচ্ছে, এই ঘটনায় তা স্পষ্ট। যদি আমাদের নারীরাই নিরাপদ না হন, মর্যাদা না পান, স্বাধীন বলে নিজেদের মনে করতে না পারেন তাহলে দেশ হিসাবেই আমরা স্বাধীন হতে পারি না।  

প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি রাহুল গান্ধি এমপি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী, আপনার কথা ও কাজের পার্থক্য দেশ দেখছে।    

সারা ভারত আইনজীবী ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ ভাবে জঘন্য অপরাধীদের মুক্তি দেওয়া অযৌক্তিক, অন্যায্য ও অসাংবিধানিক। ফৌজদারি বিধির ৪৩২ এবং ৪৩৩/৪৩৩ ক ধারায় রাজ্য সরকারকে এ ধরনের কোনো ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। সুপ্রিম কোর্ট বার বার এই ধারা ব্যাখ্যা করেছে। গুজরাট সরকারের পদক্ষেপ আইনের  শাসনের বিরোধী বলেও তারা মন্তব্য করেছে। #

পার্সটুডে/এমএএইচ/আবুসাঈদ/১৮

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ