২০১৯-০১-০৭ ১৫:২৪ বাংলাদেশ সময়
  • বজ্রনিনাদে নরেন্দ্র মোদির মসনদ কেঁপে উঠবে: আসু-নেসো'র হুঁশিয়ারি

ভারতে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাসের চেষ্টার প্রতিবাদে অসমে বনধ ও ‘কালো দিবস’ পালনের ডাক দেয়া হয়েছে। সারা অসম ছাত্র সংস্থা ‘আসু’ ও নর্থ-ইস্ট স্টুডেন্টস ইউনিয়ন ‘নেসো’র পক্ষ থেকে আগামী ৮ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) ১১ ঘণ্টার অসম বনধ পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। ৭ জানুয়ারি (সোমবার) কালো দিবস পালনের ডাক দিয়েছে আসু। ওইদিন গোটা রাজ্যে নাগরিকত্ব বিলের প্রতিলিপি পোড়ানো হবে।

নাগরিকত্ব বিল পাস হলে অসমিয়া ভাষা, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি বিপন্ন হবে বলে আসুসহ ত্রিশটি সংগঠন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

গত (শুক্রবার) অসমের শিলচরে এক জনসভায় ভাষণ দেয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সংসদে খুব শিগগিরি নাগরিকত্ব বিল পাস হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন। এরপরেই ওই ইস্যুতে অসমের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

কেএমএসএস সংগঠনের অভিযোগ, অসমে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অসমিয়াদের নিঃশেষ করার ষড়যন্ত্র রচনা করেছেন।

আসুর উপদেষ্টা সমুজ্জ্বল কুমার ভট্টাচার্য, সভাপতি দীপাঙ্ক নাথ, সাধারণ সম্পাদক লুরিনজ্যোতি বলেছেন, অসমিয়া জাতিকে ধ্বংস করে দেয়ার পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। একে দু’হাত তুলে মদদ দিচ্ছে অসমের সোনোয়াল সরকার। তাঁদের কথায় ‘একটা সাম্প্রদায়িক, খিলিঞ্জিয়া বিরোধী, অগণতান্ত্রিক বিল অসমের ওপরে চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে।’

আসুর মুখ্য উপদেষ্টা সমুজ্জ্বলকুমার ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমরা কোনোভাবেই ওই বিল মেনে নেবো না। কারণ, ওই বিলের মধ্য দিয়ে অসম চুক্তিকে লঙ্ঘন করতে চাওয়া হচ্ছে। ১৯৭১ সালের আগে যেসব হিন্দু ও মুসলিম বাংলাদেশ থেকে অসমে এসেছেন তারা এ রাজ্যেই থাকবেন। কিন্তু ১৯৭১ সালের পরে যারা অসমে ঢুকেছে  তারা হিন্দু অথবা মুসলমান যেকোনও ধর্মের হোন তাদের অসম ছাড়তে হবে।’ তাঁরা অসমকে কিছুতেই বাংলাদেশিদের ‘ডাম্পিং গ্রাউন্ড’ বানাতে অনুমতি দেবেন না বলেও আসু নেতা সমুজ্জ্বলকুমার ভট্টাচার্য হুঁশিয়ারি দেন।

‘আসু’র পক্ষ থেকে আগামী ২৩ জানিয়ারি ‘বজ্রনিনাদ’ কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। ওইদিন হাজার হাজার মানুষ নাগরিকত্ব বিলের প্রতিবাদে সোচ্চার হবেন বলে সংগঠনটির দাবি। ‘আসু’ বলছে, বজ্রনিনাদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মসনদ কেঁপে উঠবে।

মাওলানা আব্দুল কাদির কাশেমি

এ প্রসঙ্গে অসম জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক ও ইউডিএফের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুল কাদির কাশেমি আজ (রোববার) রেডিও তেহরানকে  বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী অসমে এসে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল সম্পর্কে যে বক্তব্য রেখেছেন, আমাদের দল আমরা বিশ্বাস করি ভারত ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক দেশ। ভারতের সংবিধান ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান। সুতরাং এখানে ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্বের বিভাজন সম্পূর্ণ সংবিধানবিরোধী বক্তব্য। প্রধানমন্ত্রীর মতো একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির পক্ষে সংবিধান বিরোধী বক্তব্য রাখা দেশের পক্ষে দুর্ভাগ্যজনক ও আশঙ্কাজনক। সেজন্য আমরা একে প্রত্যাখ্যান করছি। আমরা অতীতেও এর বিরোধিতা করেছি, আজকেও আমরা বিরোধিতা করছি এবং ভবিষ্যতেও এর বিরোধিতা আমরা করে যাবো। আমাদের দল দিল্লিতে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে বিভিন্ন দলের সঙ্গে যোগাযোগ করছে সংসদে এ নিয়ে প্রতিবাদ করার জন্য।’

অন্যদিকে, গতকাল (শনিবার) অসমের নগাঁওয়ে রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা তরুণ গগৈ বলেছেন, ‘গত লোকসভা নির্বাচনে মোদি ২০১৪ সালের ১৬ মে'র পরে দেশ থেকে বাংলাদেশি বিতাড়নের হুঙ্কার দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে সেই মোদিই এখন বাংলাদেশিদের সুরক্ষা দিচ্ছেন!’

উত্তরাখণ্ডের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও অসমে কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক হরিষ রাওয়াত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ‘সর্বকালের মিথ্যাবাদী’ বলে অভিহিত করেছেন।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/৭

খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন

ট্যাগ

মন্তব্য