২০১৯-০৬-০৮ ১২:৫১ বাংলাদেশ সময়
  • ইমরান খান ও নরেন্দ্র মোদি
    ইমরান খান ও নরেন্দ্র মোদি

কাশ্মিরসহ অন্যান্য সমস্যা সমাধানে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংলাপ শুরু করার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

সাম্প্রতিক লোকসভা নির্বাচনে ভারতে পুনরায় ক্ষমতায় আসায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন জানিয়ে ইমরান খান বলেছেন, দু’দেশের মানুষের দারিদ্রের মোকাবিলা ও উন্নয়নের স্বার্থে আলোচনায় বসাই একমাত্র রাস্তা। নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে অবশ্য ওই চিঠি নিয়ে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

অন্যদিকে, ভারতের নয়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে চিঠি দিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি। তিনিও সংলাপের ওপর জোর দিয়ে বলেছেন, দুই প্রতিবেশী দেশের খুব দ্রুত আলোচনার টেবিলে বসা প্রয়োজন। কুরেশি ইসলামাবাদ ও নয়াদিল্লির মধ্যে সংলাপের মধ্য দিয়ে সম্পর্কের উন্নতির জন্য আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

পাকিস্তানের দাবি, এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ইমরানের পক্ষ থেকে তার ভারতীয় সমকক্ষকে ক্রমাগত তৃতীয় চিঠি দিলেন, যেখানে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সংলাপের প্রস্তাব দিয়েছেন।

আগামী ১৩/১৪ জুন কিরগিজস্তানের বিশকেক-এ এসসিও সম্মেলনে যোগ দেবেন ভারত ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু গতকাল (শুক্রবার) বিকেলে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাবিশ কুমার বলেন, বিশকেক-এ এসসিও সম্মেলনে মোদি ও ইমরানের মধ্যে বৈঠকের পরিকল্পনা নেই।

যদিও কূটনৈতিক সূত্রের মতে, আনুষ্ঠানিক আলোচনার টেবিলে না বসলেও দু’দেশের প্রধানমন্ত্রীর একাধিকবার দেখা হবে বিশকেক-এ। সেখানে সৌজন্য বিনিময়ও হবে। কিন্তু তার আগেই ইমরান ও কুরেশির চিঠি তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

অধ্যাপক আব্দুল মাতিন

এ প্রসঙ্গে আজ (শনিবার) পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কোলকাতার ঐতিহ্যবাহী যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল মাতিন রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা খুব গুরুত্ব বহন করে। অনেক সময় আমরা দেখেছি যে সার্ক সম্মেলন বা অন্যত্র বহুদেশ এক জায়গায় হলেও সেখানে হয়ত নিবিড়ভাবে অনেক বিষয়ে আলোচনা হয় না। দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে। দু’দেশের জাতীয় নিরাপত্তা থেকে শুরু করে উন্নয়ন, শান্তি, সম্প্রীতি ইত্যাদিতে বিস্তর আলোচনার সম্ভাবনা থাকে। এটা খুবই ভালো খবর যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে আলোচনায় বসতে চাচ্ছেন।’ 

তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের জন্য ভারত ও পাকিস্তানের এক টেবিলে আসা খুব জরুরি। এটা খুব আফসোসের বিষয় যে পাকিস্তান আলোচনার টেবিলে বসতে আগ্রহী থাকলেও ভারত এতে গুরুত্ব দিচ্ছে না। আমার মনে হয়, পাকিস্তানের সঙ্গে এই মুহূর্তে আলোচনায় বসলে বিজেপি যে উগ্র জাতীয়তাবাদকে কেন্দ্র করে নির্বাচনে জিতেছে সেটা খানিকটা মানুষ বুঝতে পারবে। সেজন্য হয়তো বিজেপিশাসিত কেন্দ্রীয় সরকার চটজলদি ওই বিষয়ে এগোচ্ছে না।’   

জাতীয় স্বার্থে দেশের মানুষের জন্য দু’দেশকে সামনে আসা উচিত। এবং সেক্ষেত্রে ভারতকে অগ্রনী ভূমিকা পালন করা উচিত বলেও অধ্যাপক আব্দুল মাতিন মন্তব্য করেন।#     

 

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/৮

 

ট্যাগ

মন্তব্য