২০১৯-০৮-২৯ ১৩:৫৩ বাংলাদেশ সময়
  • বিক্ষোভে উত্তাল আনচারের নারীরা
    বিক্ষোভে উত্তাল আনচারের নারীরা

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের সাবেক গ্রীষ্মকালীন রাজধানী শ্রীনগরের কাছাকাছি আনচার এলাকাটি আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে জম্মু এবং কাশ্মিরের ‘গাজা’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

এ এলাকাটি সোরা অঞ্চলের কাছাকাছি অবস্থিত। স্থানীয় জনগণের সক্রিয় প্রতিরোধ এবং ব্যারিকেডের কারণে আজও ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী সেখানে ঢুকতে পারে নি। এতে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মিরের ‘গাজা’ হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে আনচার। আনচারের এ পরিচিতিতে ব্যাপক নাখোশ হয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। 

চলতি মাসের ৫ তারিখে কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা ভারত কেড়ে নেয়া এবং কাশ্মিরকে ভাগ করার পর এই অঞ্চল বিক্ষোভের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রতিহত করার জন্য এলাকাটি ঘিরে ব্যারিকেড তৈরি করেছে স্থানীয় জনগণ। কাঠ এবং রড দিয়ে তৈরি ব্যারিকেড কোথাও কোথাও ৫ থেকে ৮ ফুট উঁচু। এ ছাড়া, কোথাও কোথাও পুরানো টায়ার দিয়ে ব্যারিকেডকে আরও মজবুত এবং বিপদজনক করে তোলা হয়েছে। ব্যারিকেড ভাঙ্গার চেষ্টা হলে এ সব টায়ারে আগুন ধরিয়ে দেয়া হবে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য সেটা বিপদ হয়ে দেখা দেবে।

সোরা অঞ্চলের সবচেয়ে বিক্ষোভপূর্ণ এলাকা হলো আনচার। ঢোকা এবং বাইরে যাওয়ার সময়ে কঠোর নিরাপত্তা তল্লাসি চালান এ এলাকার অধিবাসীরা। এ এলাকায় অধিকৃত ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার সঙ্গে তুলনা করে এই মধ্যে নয়াদিল্লির বিরাগভাজন হয়েছে কোনও কোনও সংবাদ মাধ্যম। আনচার এলাকায় ২০ থেকে ২২ হাজার কাশ্মিরে বসবাস করেন। সতর্ক পাহারার মধ্য দিয়ে রাত কাটান তারা। ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী যেন রাতের আঁধারে ব্যারিকেড ভেঙ্গে আনচারে ঢুকে পড়তে না পারে সে জন্য এ সতর্কতা।

ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর ছররা গুলির শিকার এক কাশ্মিরি নারী (ফাইল ছবি

আনচারের অধিবাসীরা দাবি করছেন, গত সপ্তাহে পাঁচ থেকে ছয় দফা ব্যারিকেড ভাঙ্গার ব্যর্থ চেষ্টা করেছে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী। কিন্তু আনচারের অধিবাসীদের বাঁধার মুখে প্রতিবারই পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে তারা।

আনচারের আদিল নামের এক অধিবাসী জানান, গত দু’ সপ্তাহে পুলিশ অন্তত ১০ দফা বেসামরিক কাশ্মিরিদের দেয়া ব্যারিকেড ভাঙ্গার চেষ্টা করেছে। কিন্তু স্থানীয় পুরুষ ও নারীদের তীব্র বিক্ষোভের মুখে প্রতিবারই তারা হটে যেতে বাধ্য হয়েছে।

আর এ কারণেই আনচারের বাইরে কিশোর-তরুণদের পেলেই পুলিশ গারদে পুরছে বলে জানান তিনি। তিনি আরও জানান গত পাঁচদিন ধরে ব্যারিকেড ভাঙ্গার টানা চেষ্টা করছে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী। সাধারণ ভাবে রাত সাড়ে ১২টা এবং ভোররাত ৪টা দিকে হামলা করে নিরাপত্তা বাহিনী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক কাশ্মিরি বলেন, আনচারের অন্তত তিন জায়গায় ব্যারিকেড ভাঙ্গার চেষ্টা করা হয়েছে। এর পর আনচারে ঢোকা ও বের হওয়ার সব পথ স্থানীয় অধিবাসীরা বন্ধ করে দেয়।

গত ৯ এপ্রিলে এ এলাকায় ভারত বিরোধী বিক্ষোভের খবর আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই এখানে নিরাপত্তা বাহিনীর অবস্থান জোরদার করা হয়েছে। এমনই দাবি করছেন স্থানীয় অধিবাসীরা।

বিক্ষোভ প্রশমনে নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংসতা এবং গুলি বর্ষণের ছোট ভিডিও ক্লিপ সে সময়ে মহামারির সংক্রমণের মতো সে সময়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। কিন্তু ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এর তীব্র প্রতিবাদ করলে সে সময় কোনও ধরণের সম্পাদনাহীন ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করা হয়। এতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ একদম খামোশ হয়ে যায়। আর এ ভাবে অঞ্চলটি হয়ে ওঠে অব্যাহত বিক্ষোভের কেন্দ্র।

কাশ্মিরের একটা ফাইল ছবি

অবশ্য, প্রথম বিক্ষোভের দু’সপ্তাহ পর থেকেই আনচারের অধিবাসীরা একরকম গৃহবন্দি হয়ে পড়েন। তারা বলেন, ঘর থেকে বের হলেই ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী তাদের গ্রেফতার করছে। পরিচয় পত্রে আনচারের ঠিকানা পেলেই বিশেষ করে কিশোর-তরুণরা ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর নির্বিচার আটকের শিকার হচ্ছেন। 

এদিকে, জম্মু এবং কাশ্মিরের শীর্ষস্থানীয় এক পুলিশ কর্মকর্তা ঢালাও গ্রেফতারের কথা অস্বীকার করেন নি। তিনি দাবি করেন, আনচারের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশবাহিনী। #

পার্সটুডে/মূসা রেজা/৩০

 

ট্যাগ

মন্তব্য