২০১৯-০৯-২০ ২০:২২ বাংলাদেশ সময়
  • ২০ বছরের পুরোনো খুনের মামলা চালু, বিপাকে পড়ে আদালতে হাজির বিজেপি’র জেলা নেতা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগণা জেলার বনগাঁয় ২০ বছরের পুরোনো এক খুনের মামলা চালু হওয়ায় বিজেপির বারাসত সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি দেবদাস মণ্ডলকে আজ বনগাঁ মহকুমা আদালতে হাজির হতে হয়।

তাঁর বিরুদ্ধে গত ১৬ জুলাই বনগাঁ পৌরসভার দীপালি বিশ্বাস নামে তৃণমূলের এক কাউন্সিলর শ্লীলতাহানির অভিযোগ দায়ের করায় একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। এবার প্রায় ২০ বছরের পুরোনো এক খুনের মামলা চালু হওয়ায় দেবদাস বাবু ও বিজেপির মধ্যে অস্বস্তি বাড়লো বলে মনে করা হচ্ছে।

আজ (শুক্রবার) এই বিষয়ে বনগাঁ মহকুমা আদালতের সরকারি আইনজীবী সমীর দাস বলেন, ‘১৯৯৯ সালে মতিগঞ্জ এলাকায় বসবাসকারী সূর্য রায়চৌধুরী খুন হয়েছিল। সেই সময় ওই ঘটনায় বনগাঁ জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। কিন্তু হত্যাকারীদের এখনও পর্যন্ত বিচারে বসানো যায়নি। যে কোনও অজ্ঞাত কারণে ২০১৬ সালে ওই মামলার রেকর্ড হারিয়ে যায়। তখন সূর্য রায়চৌধুরীর ভাই এসে এখানে এসিজেএম কোর্টে জানান, দীর্ঘ ২০ বছর হয়ে গেলেও ভাইয়ের হত্যাকারীদের বিচার হয়নি। সেই মর্মে তিনি কোলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এবং পুলিশের ডিজি ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে তাঁর ভাইয়ের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা দেওয়ার আবেদন জানান।’

সরকারি আইনজীবী সমীর দাস বলেন, ‘ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এসিজেএম নতুন করে রেকর্ড তৈরি আদেশ দেন এবং অভিযুক্ত দশ জন আসামীকে  আজ আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আজ দেবদাস  মণ্ডল ও আরও ছয় জন আদালতে হাজির হয়েছিল। তাঁরা লিখিত বক্তব্যে জানায় আমরা ফেরার হয়ে যাইনি। আদালতে হাজির হয়েছি। আদালতের নির্দেশ মেনে চলবো।’

সমীর বাবু বলেন,  ‘একজন আসামী মারা গেছে। অন্য যে দুই অভিযুক্ত আজ আদালতে হাজির হয়নি বিচারক তাঁদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করে অবিলম্বে আদালতে হাজির করানোর বনগাঁ থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন।’  আগামী ৩১ অক্টোবর পুনরায় ওই মামলার শুনানি হবে।

এদিকে, অভিযুক্ত বিজেপি’র জেলা নেতা দেবদাস মণ্ডল নিজেকে ‘নির্দোষ’  দাবি করে বলেন, ‘শাসক দলের খেলায় তাঁকে আদালতে টেনে আনা হয়েছে। বিজেপি করা মানেই মামলা হবে। বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ, মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে অনেক মামলা আছে। আমার এপর্যন্ত চার/পাঁচটা মামলা হয়ে গেছে। বিজেপিকে মামলা দিয়ে কণ্ঠরোধ করা যাবে না।’ আদালতের নথি হারানোর বিষয়টি আদালতের বিষয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

দীর্ঘ ২০ বছর আগেকার পুরোনো মামলা নিয়ে আদালতে নাড়াচাড়া শুরু হওয়ায় বিজেপি’র জেলা নেতা দেবদাস মণ্ডল নতুন করে বিড়ম্বনায়  পড়লেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/এমআরএইচ/২০

ট্যাগ

মন্তব্য