২০১৯-১১-০৯ ১৫:১৮ বাংলাদেশ সময়
  • বাবরী মসজিদ- সুপ্রিম কোর্ট
    বাবরী মসজিদ- সুপ্রিম কোর্ট

ভারতের বহুল আলোচিত অযোধ্যার বাবরী মসজিদ মামলার রায় ঘোষণা করেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। রায়ে বিতর্কিত জমিতে মন্দির নির্মাণে তিন মাসের মধ্যে ট্রাস্ট গঠন করতে কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডকে অযোধ্যা শহরের 'উপযুক্ত স্থানে' পাঁচ একর জমি দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

আজ (শনিবার) দুপুরে প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈর নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ এ রায় দেন। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন, বিচারপতি এসএ বোবদে, বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়, বিচারপতি অশোক ভূষণ, বিচারপতি এস আব্দুল নাজির।

রায়ের প্রতিক্রিয়া

রায়ের পর সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের আইনজীবী জাফরাইব জিলানি বলেন, ‘‘আমরা সুপ্রিম কোর্টের রায়কে সম্মান জানাই। তবে এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। আমরা মনে করি এটা অন্যায্য। তবে, আমরা রায়ের সব অংশের সমালোচনা করছি না।"

তিনি জানান, তারা একটি বৈঠক করবেন। সেখানে রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করা হবে কিনা, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। 

অন্যদিকে হিন্দু মহাসভার আইনজীবী বরুণ কুমার সিংহ বলেছেন, ‘‘এটা ঐতিহাসিক রায়। এই রায়ের মধ্যে দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যের বার্তা দিয়েছে।’’

সংবাদ সম্মেলনে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের আইনজীবী জাফরাইব জিলানি

রাম বা রহিম নয়, ভারতভক্তির বার্তা দিলেন মোদি

বাবরী মসজিদ বনাম রামমন্দির মামলার রায় প্রকাশের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক টুইটার বার্তায় লিখেছেন, “অযোধ্যা মামলায় রায় দিয়েছে মাননীয় সুপ্রিম কোর্ট। এই রায় কোনও পক্ষের জয় বা পরাজয় হিসেবে দেখা উচিত নয়। সে রামভক্তি হোক বা রহিমভক্তি, আমাদের একান্ত প্রয়োজন ভারতভক্তির ওপর জোর দেয়া। দেশবাসীর প্রতি আহ্বান, আপনারা শান্তি, সদ্ভাব ও ঐক্য ধরে রাখুন।"

রায়ে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, বিতর্কিত মূল জমি পাবে ‘রাম জন্মভূমি ন্যাস’। এই জমিতে মন্দির তৈরিতে কোনো বাধা নেই। তবে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী তিন মাসের মধ্যে একটি ট্রাস্ট গঠন করতে হবে কেন্দ্রীয় সরকারকে। ওই ট্রাস্টের তত্ত্বাবধানেই থাকবে বিতর্কিত মূল জমি। কীভাবে, কোন পদ্ধতিতে মন্দির তৈরি হবে, তারও পরিকল্পনা করবে ট্রাস্ট।

রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, বাবরের সেনাপতি মির বাকিই যে মসজিদ তৈরি করেছিলেন, তার প্রমাণ রয়েছে। তবে সেটা কোন সালে, তা নির্ধারিত নয় এবং তারিখ গুরুত্বপূর্ণও নয়। ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সমীক্ষা বিভাগের (এএসআই) খননে অন্য কাঠামোর প্রমাণ মিলেছে। তবে সেই কাঠামো থেকে এমনও দাবি করা যায় না যে, সেগুলি মন্দিরেরই কাঠামো। আবার সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের দাবি খারিজ করে শীর্ষ আদালত বলেছে, শুধুমাত্র বিশ্বাসের ভিত্তিতে কোনো অধিকার দাবি করা যায় না। জমির মালিকানা আইনি ভিত্তিতেই ঠিক করা উচিত।

ভারতের রাজনীতিতে সব থেকে স্পর্শকাতর এ মামলার রায়কে কেন্দ্র করে গোটা উত্তরপ্রদেশকে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে চার হাজার আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ৭৮টি রেল স্টেশনের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। আগামী সোমবার পর্যন্ত উত্তর প্রদেশের সমস্ত স্কুল, কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে।

লক্ষ্ণৌ এবং অযোধ্যায় দুটি হেলিকপ্টার মোতায়েন রাখা হয়েছে। গতকাল রাত থেকেই গোটা উত্তর প্রদেশে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

অযোধ্যায় কড়া নিরাপত্তা

উল্লেখ্য, অযোধ্যায় ২ দশমিক ৭৭ একর বিতর্কিত জমির মালিকানা দাবি করে আসছিল মুসলিম ও হিন্দু দু'পক্ষই। মুসলিমদের পক্ষে বলা হয়েছে, সেই জায়গায় মন্দির থাকার কোনো প্রমাণ নেই। ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ভেঙে দেয় উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা। তাদের বিশ্বাস, পুরানো মন্দির ভেঙে দিয়ে সেই জায়গায় মসজিদ গড়ে তোলা হয়েছে, যে জায়গাটি ছিল রামচন্দ্রের জন্মভূমি।

২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে এলাহাবাদ হাইকোর্ট বিতর্কিত জমিটিকে তিনভাগে ভাগ করে দেয় সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড, নির্মোহী আখড়া এবং রাম লালার মধ্যে। তবে এই রায়ে অসন্তুষ্ট হয়ে সুপ্রিম কোর্টে যায় তিনপক্ষই। টানা ৪০ দিন শুনানির পর গত ১৬ অক্টোবর রায় স্থগিত করে দিয়েছিলেন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৯

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ

মন্তব্য