নভেম্বর ২২, ২০১৯ ১৫:৩৭ Asia/Dhaka
  • সংবাদ সম্মেলনে কেসিসিআই নেতৃবৃন্দ (ফাইল ফটো)
    সংবাদ সম্মেলনে কেসিসিআই নেতৃবৃন্দ (ফাইল ফটো)

জম্মু-কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা বাতিলের পরে ক্ষতিপূরণের দাবিতে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করবে সেখানকার ব্যবসায়ীরা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ব্যবসা-বাণিজ্যে ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

গত ৫ আগস্ট রাজ্যের বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ সুবিধা সম্বলিত ৩৭০ ধারা বাতিল করে দেওয়ার পরে সেখানে নানা বিধিনিষেধ ও অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। এরফলে ব্যবসায় যে ক্ষতি হয়েছে সেই ক্ষতিপূরণের দাবিতে সেখানকার ব্যবসায়ীরা সরকারের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন।

কাশ্মীর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (কেসিসিআই)’র সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট নাসির খান বলেছেন, ‘সরকারের কাজে যেভাবে দোকানপাট, ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে রয়েছে তাতে উন্নয়নের কথা ভাবাটাই আসলে দূরাশা। গত আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বর, এই দু’মাসেই কাশ্মীরে কমপক্ষে ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যবসার ক্ষতি হয়েছে। চলতি সময় পর্যন্ত হিসাব করলে ওই ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। আমরা এবার সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করব। আদালতে যাওয়া ছাড়া আমাদের অন্য উপায় নেই। সরকারের কাছে আমরা ক্ষতিপূরণ দাবি করব।’

ক্ষুব্ধ কেসিসিআই কর্মকর্তা বলেন, ‘গত আগস্টের পর থেকে ব্যবসায় ক্ষতির পরিমাণ আমাদের ‘সহ্যের বাইরে’ চলে গিয়েছে। আদালতে আমরা আবেদন জানিয়ে বলব, ‘বাইরের নিরপেক্ষ কোনও সংস্থা’কে দিয়ে আমাদের ক্ষতির পরিমাণ হিসাব করানো হোক।’

তিনি বলেন, ‘এখানে ইন্টারনেট সম্পূর্ণ বন্ধ, অধিকাংশ টেলিফোন বন্ধ, আমরা ব্যবসায়িক যোগাযোগটুকুও ঠিকমতো করতে পারছি না! ক্রেতাদের কাছে লোক পাঠিয়ে খবর দেওয়া, এভাবে এখন ব্যবসা চলে নাকি!’

গত আগস্ট মাস থেকে কাশ্মীর উপত্যকার অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে। কাশ্মীরের পর্যটন, খামার, বাগিচাশিল্প, হস্তশিল্প সবই মার খাচ্ছে। মূলত রপ্তানিভিত্তিক এসব শিল্প একেবারেই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কিন্তু সরকার ‘সব ঠিক রয়েছে’ বলে প্রচার চালানোয় ব্যবসা-বাণিজ্যে যুক্ত মানুষজন এবার পাল্টা পদক্ষেপ গ্রহণের কথা ভাবতে শুরু করেছেন।

কাশ্মীর উপত্যকার প্রধান বাণিজ্য সংস্থা কেসিসিআইের ক্ষোভ ও অসন্তোষের বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের কোনও কর্মকর্তাই মন্তব্য করতে চাননি।

গত (বুধবার) সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কাশ্মীর উপত্যকার পরিস্থিতি ‘স্বাভাবিক’ রয়েছে বলে জানান। স্থানীয় প্রশাসন নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সেখানে ইন্টারনেট পুনরুদ্ধারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এরপরেই তাঁর মন্তব্য সম্পর্কে বিভিন্নমহল থেকে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়েছে।

ন্যাশনাল কনফারেন্সের এক মুখপাত্র বলেন, পরিস্থিতি যদি ‘স্বাভাবিক’ থাকে তাহলে মিডিয়াতে কেন বাধা রয়েছে? রাজনৈতিক নেতাদেরই বা আটক রাখা হয়েছে কেন?#

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২১

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ

মন্তব্য