ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯ ১৮:৪৭ Asia/Dhaka
  • পুলিশের গুলিতে গণধর্ষণে অভিযুক্ত চার জন নিহত
    পুলিশের গুলিতে গণধর্ষণে অভিযুক্ত চার জন নিহত

ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের হায়দ্রাবাদে পুলিশের গুলিতে গণধর্ষণে অভিযুক্ত চার জন নিহত হয়েছে। আজ (শুক্রবার) ভোর রাতে তেলঙ্গানার সাদনগরে পুলিশি এনকাউন্টারে তাদের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার পরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ আজ তদন্তের জন্য অভিযুক্তদের ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়েছিল।

সাইবরাবাদের পুলিশ কমিনশনারের দাবি, ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্তরা পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশের গুলিতে তাদের মৃত্যু হয়। যদিও বিভিন্ন মহল থেকে গোটা ঘটনার যৌক্তিকতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তেলঙ্গানার আইনমন্ত্রী এ ইন্দ্রকরণ রেড্ডি’র দাবি, ‘অভিযুক্তরা পুলিশের অস্ত্র ছিনতাই করে পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ গুলি চালায়। এতেই ওই অভিযুক্তদের মৃত্যু হয়।’

সাইবারাবাদ পুলিশ কমিশনার ভি সি সজ্জনার সংবাদসংস্থাকে বলেন, অভিযুক্ত আরিফ, নবীন, শিবা ও চেন্নাকেশাভুলু পুলিশের গুলিতে মারা গিয়েছে। ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়ার পথে সাদনগরের চাতানপল্লিতে পুলিশের হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টা করে অভিযুক্তরা। শুক্রবার রাত তিনটে থেকে ভোর ছ’টার মধ্যে ওই ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তারা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন।

অভিযুক্ত আরিফ (২৬), জল্লু শিবা (২০), জল্লু নবীন (২০) ও চিন্তকুন্ত চেন্নাকেশভুলু (২০) নামে চার জন গত ২৭ নভেম্বর হায়দরাবাদ শামশাবাদে টোল প্লাজার কাছে এক তরুণী পশু চিকিৎসককে ধর্ষণ করে হত্যা করে বলে অভিযোগ। পরে তাঁর লাশ পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এ নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানানো হয় এবং অভিযুক্তদের চরম শাস্তি দেওয়ার দাবিও জানানো হয়। এসবের মধ্যেই আজ আচমকা পুলিশের গুলিতে অভিযুক্ত চার জনের মৃত্যু  হয়েছে।

মানেকা গান্ধী

ওই ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপি নেত্রী ও সমাজকর্মী মানেকা গান্ধী। আইনি বিচারব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘যা হল, তা দেশের জন্য খুবই ভয়ঙ্কর! কেউই আইন নিজের হাতে নিতে পারে না। অপরাধীদের  শাস্তি দেওয়ার অধিকার একমাত্র আদালতের আছে। যদি বিচারের আগে গুলি করে মারারই হয়, তা হলে আদালত, পুলিশ, প্রশাসন, আইন এসবের কী দরকার!’

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘বিচার ব্যবস্থায় গতি আনা প্রয়োজন। দ্রুত চার্জশিট পেশ করে আদালতে অভিযুক্তদের বিচার হওয়া দরকার। কোথাও আইন হাতে তুলে নেয়া ঠিক হবে না। আদালতের মাধ্যমেই দোষীদের সাজা দেওয়া উচিত।’

তিনি বলেন,  আইন মেনে কাজ করতে হবে। এটা আইন নয়। পুলিশ আইন মেনে আদালতে পেশ করবে। সেখানেই হবে বিচার।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেন, ‘একটু তলিয়ে ভাবলে দেখা যায়, এই খুশির আড়ালে অনেক বেশি দুশ্চিন্তা রয়ে গেল। কারণ এই ঘটনায় আইনের প্রতি বহু মানুষ বিশ্বাস হারাবেন। বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা হারাবেন। সরকারের বরং আইন ও বিচার ব্যবস্থাকে কী করে আরও জোরালো করা যায়, আরও ধারালো করা যায়, সে দিকে মন দেওয়া উচিত। একটা-দুটো এনকাউন্টার কিন্তু সমাধান নয়।’

এনকাউন্টারের বিরোধিতা করে কংগ্রেস নেতা শশী থারুর বলেছেন, ‘আইনি বিচারের আগেই শাস্তির জন্য এই তাড়াহুড়োর প্রয়োজন ছিল না।’

কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা পি চিদাম্বরম বলেন, ওই ঘটনার তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। সত্যি কী তারা পালনোর চেষ্টা করেছিল না অন্য কোনও ঘটনা ছিল তার তদন্ত হোক।

সিপিএমের মহাসচিব সীতারাম ইয়েচুরি বলেছেন, বিনাবিচারে হত্যাকাণ্ড নারীদের সম্পর্কে আমাদের উদ্বেগের জবাব হতে পারে না। তিনি বলেন প্রতিশোধ কখনই ন্যায়বিচার হতে পারে না।

এদিকে, নিহত ওই তরুণীর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযুক্তদের হত্যার ঘটনায় সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। নির্যাতিতার বাবা বলেছেন, ‘এবার নিশ্চয়ই মেয়ের আত্মা শান্তি পাবে।’ নির্যাতিতার দুই বোনও অভিযুক্তদের মৃত্যুতে বেশ খুশি।

অন্যদিকে, ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তদন্ত শুরু করেছে  জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হেফাজতে বন্দি মৃত্যুর ঘটনায় তেলেঙ্গানা সরকারের কাছে রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে। #

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/৫

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ

মন্তব্য