ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯ ২০:৪১ Asia/Dhaka
  • নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে জ্বলছে পশ্চিমবঙ্গ
    নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে জ্বলছে পশ্চিমবঙ্গ

ভারতের বহুলালোচিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠা পশ্চিমবঙ্গে গোলযোগ অব্যাহত রয়েছে। গতকাল শুক্রবারের মতো আজ শনিবারও রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীরা অবরোধ করে ও ভাঙচুর চালায়। এসময় প্রতিবাদী জনতা কয়েকটি জায়গায় সড়ক ও রেল লাইনে টায়ার জ্বালিয়ে আগুন ধরিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে। আজ মুর্শিদাবাদের লালগোলায় ৫টি খালি ট্রেনে বিক্ষোভকারীরা আগুন ধরিয়ে দেয়।

আজ (শনিবার) রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় সড়ক অবরোধ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। আজ সকালে গরফার কাছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষজন সড়ক অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। কোনা এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন জায়গায় শুরু হয় বিক্ষোভ। এসময় উত্তেজিত জনতা বেশ কয়েকটি বাসে ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ এসময় বিক্ষোভকারীদের লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

আজ স্থানীয় মানুষজন শিয়ালদহ-হাসনাবাদ শাখার হাড়োয়া স্টেশনে রেল লাইনে অবরোধ করেন। বিক্ষোভ দেখানো হয় হাসনাবাদ শাখারও আরও বেশ কয়েকটি স্টেশনে। অবরোধের জেরে দীর্ঘক্ষণ ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। এরফলে সকালের দিকে লোকাল ট্রেন বাতিল করতে হয়। বিক্ষোভকারীরা  ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ বিক্ষোভ করলে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে জাতীয় সড়ক। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার আমডাঙার রফিপুর, বিডিও অফিস মোড়, রায়পুর, আওয়ালসিদ্ধি, রংমহল ও কাছারি প্রভৃতি জায়গায় সড়ক অবরোধ ও টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখায় অবরোধকারীরা। নদিয়া জেলার নাকাশিপাড়া থানার বড়গাছী গ্রামে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতীকী নাগরিকত্ব বিল পুড়িয়ে প্রতিবাদ করে বিক্ষোভকারীরা।

এভাবে রাজ্যে গত দু’দিন ধরে গোলযোগের জেরে উদ্বিগ্ন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ (শনিবার) বলেন, ‘গণতান্ত্রিক পথে আন্দোলন করুন। কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। সড়ক অবরোধ, রেল অবরোধ  করবেন না। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বরদাস্ত করা হবে না। যাঁরা গন্ডগোল করছেন, রাস্তায় নেমে আইন হাতে তুলে নিচ্ছেন, তাঁদের কাউকে ছেড়ে দেওয়া হবে না। বাসে আগুন লাগিয়ে, ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ করে, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে, আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

রাজ্যের পৌর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম আজ বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন বলে দিয়েছেন যে আমরা এনআরসি ও ‘ক্যাব’   এখানে কার্যকর করব না তখন যারা এখানে উত্তেজনা সৃষ্টি করছেন তাঁরা বিজেপির হাত শক্ত করছেন। তার কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই আন্দোলন করতে পারেন যে আন্দোলনটা কেন্দ্রীয় সরকার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। এখানে গোলযোগ করলে তাতে কেন্দ্রীয় সরকার বা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকে নাড়ানো যাবে না। সুতরাং, এখানে যারা গোলযোগ করছেন তাঁরা বাংলার সাহায্য করছেন না, বিজেপিকে সাহায্য করছেন। এখানে আমাদের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যে রাজনৈতিক আন্দোলন সেটা কোনও ধর্মীয় আন্দোলন নয়। কারণ আমরা ভারতের মানুষ। ভারতের সংবিধানকে অবমাননা করে ওই বিল (নাগরিকত্ব সংশোধনী) করা হয়েছে। সেই সংবিধান রক্ষার  লড়াই সবাইকে মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে করতে হবে। কোনও একটা জাতি একটা শ্রেণি বা কোনও একটা ধর্মের মানুষ করবে না। আমি সবাইকে শান্তি রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।’

আজ রাজ্যের শিক্ষা মন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, বাংলায় এনআরসি ও ক্যাব কোনোটাই রাজ্যে কার্যকর হবে না। বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে গতকাল শুক্রবারও রাজ্যের বিভিন্ন মসজিদ থেকে জুমা নামাজ শেষে মুসুল্লিরা বেরিয়ে প্রতিবাদ আন্দোলনে শামিল হন।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/মো.আবুসাঈদ/১৪

বাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ

মন্তব্য