এপ্রিল ২৩, ২০২০ ১৬:০৬ Asia/Dhaka
  • সোনিয়া গান্ধী
    সোনিয়া গান্ধী

ভারতের প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসের অন্তর্বর্তীকালীন সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী হিন্দুত্ববাদী বিজেপি’র সমালোচনা করে বলেছেন, করোনা পরিস্থিতিতেও সমাজে বিজেপি সাম্প্রদায়িকতা ও ঘৃণার ভাইরাস ছড়াচ্ছে। তিনি আজ (বৃহস্পতিবার) কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে ওই মন্তব্য করেন।

দলটির শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে ওই বৈঠকে সোনিয়া গান্ধী বলেন, ‘আমি আপনাদের এমন একটা তথ্য জানাতে চাই যা প্রত্যেকের জন্য উদ্বেগের বিষয়। আমাদের যখন ঐক্যবদ্ধভাবে করোনার মোকাবিলা করা উচিত, বিজেপি তখনও সমাজে সাম্প্রদায়িক পক্ষপাত এবং ঘৃণার ভাইরাস ছড়িয়ে চলেছে যা উদ্বেগের বিষয়! এতে আমাদের সামাজিক সম্প্রীতির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। আমাদের এই ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ করতে হবে।’

তিনি কংগ্রেস নেতা-নেত্রীদের পারস্পারিক ভ্রাতৃত্ববোধ ফিরিয়ে আনতে সাধ্যমতো চেষ্টা করার নির্দেশ দিয়েছেন। সোনিয়া গান্ধী তাঁর বক্তব্যে মহারাষ্ট্রের পালঘরে সাম্প্রতিক গণপিটুনিজনিত হত্যা সংশ্লিষ্ট বিষয়ের উল্লেখ না করলেও, তিনি ওই ঘটনার দিকেই ইঙ্গিত করছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

কংগ্রেসের অভিযোগ, বিজেপি রাজনৈতিক সুবিধা তুলতে সাধু/সন্ন্যাসী মৃত্যুর ওই ঘটনায় সুকৌশলে সাম্প্রদায়িক রং দেওয়ার চেষ্টা করেছে।

সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের পালঘরে আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় গুজবের জেরে চোর সন্দেহে দুই সন্ন্যাসী ও তাদের গাড়ির চালক গণপিটুনিতে নিহত হয়। এরপরেই হিন্দুত্ববাদী নেতাদের একাংশ মাঠে নেমে ওই ঘটনার দায় কৌশলে মুসলিমদের বিরুদ্ধে চাপানোর চেষ্টা করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিদ্বেষমূলক পোস্টের সয়লাব সৃষ্টি হয়েছে।

মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে

মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে কার্যত বাধ্য হয়ে বিবৃতি দিয়েছেন, এটা সাম্প্রদায়িক কোনও বিষয় নয়। নিছক গুজবের জেরে ওই ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে সাম্প্রদায়িকতা খুঁজতে যাবেন না। ঘটনায় সাম্প্রদায়িকতার কোনও দৃষ্টিকোণ নেই।

মহারাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিল দেশমুখকেও গতকাল (বুধবার) বিবৃতি দিয়ে জানাতে হয়ে হয়েছে, ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত যে ১০১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের মধ্যে কোনও ‘মুসলিম’ নেই। তাই দয়া করে এই ঘটনাটিকে সাম্প্রদায়িক রেষারেষির রং দেবেন না।’  
ড. আব্দুস সাত্তার

‘বিজেপি সাম্প্রদায়িক ভাইরাস ছড়াচ্ছে’ বলে কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী যে মন্তব্য করেছেন সেই প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মন্ত্রী ও কোলকাতার নব বালিগঞ্জ মহাবিদ্যালয়ের সিনিয়র অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তার আজ (বৃহস্পতিবার) রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘কথাটা তো তিনি সঠিকভাবেই উচ্চারণ করেছেন। মানুষ মানুষের জন্য লড়াই করছে, ধর্ম, বর্ণ ব্যতিরেকে যে, মানুষকে কীভাবে রক্ষা করা যায় তখন সেই সময়ে দুর্ভাগ্যজনকভাবে হলেও ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) হিন্দু-মুসলিম বিভেদ বাড়িয়ে তোলার চেষ্টা করছে।’

তিনি বলেন, ‘শুধু ভারতীয় জনতা পার্টিই নয়, আমাদের দেশের মূলস্রোতের গণমাধ্যমও তার ব্যতিক্রম নয়। প্রতিনিয়ত যদি লক্ষ্য করা যায় তাহলে দেখবেন যে, দেশের মূলস্রোতের গণমাধ্যমগুলো এই বিষয়টি আরও বাড়িয়ে তুলছে।’

ড. আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘মহারাষ্ট্রের পালঘরের ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক। পুলিশের সামনেই ওই বর্বরতা হয়েছে। এটা ন্যক্কারজনক, অমানবিক ঘটনা। তার বিরুদ্ধে প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে হবে। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী নির্দ্বিধায় বলেছেন এরসঙ্গে মুসলিমদের কোনও যোগ নেই। কিন্তু একশ্রেণির গণমাধ্যম এবং একশ্রেণির বিভেদকামী চিন্তাভাবনাকে সামনে রেখে রাজনীতির পথে যারা এগোয় তারা ওই ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক রং দেওয়ার চেষ্টা করছে।’

আমরা চাইব সরকার এবং সমস্ত রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে এমন এক বাতাবরণ তৈরি হোক যেখানে কোভিড-১৯ ও তার প্রভাব থেকে মানুষজনকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে সকলেই এগিয়ে আসুক বলেও সাবেক মন্ত্রী অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তার মন্তব্য করেন।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২৩

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ

মন্তব্য