মে ২৮, ২০২০ ১৭:৪৪ Asia/Dhaka
  • ভারত-চীন সংঘাত: মধ্যস্থতার প্রস্তাব ট্রাম্পের, ইমরানের আক্রমণ, নেপালের সঙ্গে বিবাদ

ভারত-চীন চলমান সীমান্ত সংঘাত নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যস্থতা করার প্রস্তাব দিয়েছেন। অন্যদিকে, চীনা কর্তৃপক্ষ কিছুটা সুর নরম করলেও যেসব এলাকায় তারা সেনা মোতায়েন ও সামরিক সরঞ্জাম জড়ো করেছে সেসব জায়গা থেকে পিছু হটেনি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যস্থতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করে বলেছেন, ভারত ও চীন দু’দেশকেই জানিয়েছি যে আমেরিকা প্রস্তুত, সীমান্তে বিবাদ নিয়ে মধ্যস্থতা করতে আমরা ইচ্ছুক।

অন্যদিকে, গতকাল (বুধবার) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘আমাদের ভূ-খণ্ডের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ এবং সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে আমরা দায়বদ্ধ। এখন, ভারত-চীন সীমান্ত এলাকায় পরিস্থিতি স্থিতিশীল ও নিয়ন্ত্রণাধীন। পারস্পারিক আলোচনার মধ্যে আমরা এই সমস্যা সমাধান করতে সক্ষম।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজ্জন বলেছেন, আমরা স্পষ্ট করতে চাই যে, সীমান্ত নিয়ে চীনের অবস্থানের কোনও পরিবর্তন হচ্ছে না। দুই দেশের মধ্যে যে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে অতীতে এবং দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা যে ঐকমত্যে এসেছিলেন, সেই অবস্থানকে মান্যতা দিয়েই চীন চলবে।

গালওয়ান উপত্যকায় প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে বিপুল পরিমাণে সেনা মোতায়েন করেছে চীন। এর পাল্টা হিসেবে বাড়তি সেনা মোতায়েন করছে ভারতও। উত্তরাখণ্ড, সিকিম, অরুণাচলপ্রদেশ ও লাদাখে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।একইসঙ্গে কড়াবার্তা দিতে চীন সীমান্তের পাশাপাশি নেপাল ও পাকিস্তান সীমান্তেও ভারত অতিরিক্ত সেনা পাঠাচ্ছে বলে জানা গেছে।

ভারত-চীন চলমান সীমান্ত সংঘাতের মধ্যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ভারতকে আক্রমণ করে বলেছেন, ভারত প্রতিবেশীদের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করে। তাই চীনের সঙ্গে সীমান্ত সমস্যার জন্য ভারতই দায়ী।

ইমরান খান বলেন, চরম হিন্দুত্ববাদী মোদি সরকারের উদ্ধত সম্প্রসারণের নীতি খানিকটা নাৎসির মতো, যা ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। নাগরিকত্ব আইনের মাধ্যমে বাংলাদেশ, চীন, নেপাল সীমান্তে বিরোধ আর পাকিস্তানের জন্য ফলস ফ্ল্যাগ অপারেশন।

অন্যদিকে, ভারত ও নেপালের মধ্যে সীমান্ত ইস্যুতে বিরোধ বাধায় নয়া বিড়ম্বনা সৃষ্টি হয়েছে। এ প্রসঙ্গে গত ২০ মে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব বলেন, ‘নেপাল সরকার নেপালের একটি সংশোধিত সরকারী মানচিত্র প্রকাশ করেছে যার মধ্যে ভারতীয় ভূখণ্ডের কিছু অংশ রয়েছে। ঐতিহাসিক তথ্য এবং প্রমাণ না মেনেই এই একতরফা আইন তৈরি করা হয়েছে। এ জাতীয় সীমান্ত সম্প্রসারণ ভারত মেনে নেবে না।’

মানস সরোবর যাত্রার জন্য উত্তরাখণ্ডের ধারছুলা থেকে লিপুলেখ পর্যন্ত ভারত ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তা তৈরি করেছে। উত্তরাখণ্ডের লিপুলেখ গিরিপথের সঙ্গে মানস সরোবরের যোগাযোগ গড়ে তুলতে গত ৮ মে একটি নতুন সড়ক পথের উদ্বোধন করেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি। এরপরে ওই এলাকাগুলোকে নিজেদের মানচিত্রে রেখে তড়িঘড়ি একটি নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছে নেপাল সরকার। ভারতীয় ভূখণ্ডের লিমপিয়াধুর, লিপুলেখ এবং কালাপানিকে নেপালের মানচিত্র দেখিয়েছে ওলি প্রশাসন। 

১৯৬২ সালে চীন-ভারত যুদ্ধের পর থেকে লিমপিয়াধুর ও কালাপানিতে ভারতীয় সেনা মোতায়েন রয়েছে। কিন্তু কাঠমান্ডু এখন ওই দু’টি এলাকাকেও তাদের বলে দাবি করায় নয়া বিবাদের সৃষ্টি হয়েছে।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী ওলি বলেছেন, ‘ওই তিনটি এলাকার বিষয়টিকে ছেড়ে দেওয়া হবে না। কূটনৈতিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই তিনটি এলাকাকে নেপালে ফিরিয়ে আনার সব রকম চেষ্টা চালানো হবে।’

নেপালি সংসদে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি বলেন, লিপুলেখ,  কালাপানি এবং লিমপিয়াধুরা, এই তিনটি এলাকাই নেপালের  ভূখণ্ডের অংশ। যেকোনও মূল্যে সেখানে নেপালের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেই ছাড়বেন তিনি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমতি নিয়ে যে নতুন মানচিত্রটি ছাপা হয়েছে, তাকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য নেপালের সংবিধান সংশোধন করা হবে বলেও নেপালের প্রধানমন্ত্রী জানান।

কিন্তু নয়াদিল্লির বক্তব্য, ওই তিনটি এলাকাই ভারতের। নেপালের ওই দাবি ইতোমধ্যেই খারিজ করেছে ভারত। নেপাল একতরফাভাবে ইতিহাসের তথ্যপ্রমাণের পরিপন্থী ওই মানচিত্র বানিয়েছে, যা দ্বিপাক্ষিক বোঝাপড়ার বিরোধী বলে ভারত জানিয়ে দিয়েছে। এভাবে একইসঙ্গে ভারতের সঙ্গে নেপাল ও চীনের সীমান্ত বিবাদে সংশ্লিষ্ট এলাকা উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ভারত ও নেপালের মধ্যে এমন ১ হাজার ৮০০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে, যা কাঁটাতার দিয়ে ঘেরা নয়।

পার্সটুডে/এমএএইচ/এমবিএ/২৮

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

    

ট্যাগ

মন্তব্য