জুলাই ১৩, ২০২০ ১৯:৪৭ Asia/Dhaka
  • সেব্রেনিৎসা গণহত্যায় নিহত বসনিয়দের গোরস্তান
    সেব্রেনিৎসা গণহত্যায় নিহত বসনিয়দের গোরস্তান

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সেদেশের সেনাবাহিনী গণহত্যা চালাচ্ছে। মুসলমানদের বিরুদ্ধে এ ধরণের গণহত্যার পরিণতির বিষয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে সতর্ক করেছেন তিনি।

তিনি গতকাল (রোববার) কাশ্মীর ইস্যুতে বলেছেন, কাশ্মীরের পরিস্থিতি ক্রমেই বিপর্যয়কর হয়ে উঠছে। সেখানে ভারতীয় সামরিক বাহিনী গণহারে মুসলমানদের হত্যা করছে।  তিনি বলেন, বসনিয়া-হার্জেগোভিনার সেব্রেনিৎসায় যেভাবে মুসলমানদের গণহারে হত্যা করেছিল সার্ব বাহিনী, ঠিক সে ধরণের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে যাচ্ছে কাশ্মীরি জনগণ।

জাতিসংঘের ঘোষিত শান্তির শহর সেব্রেনিৎসায় ৯০'র দশকের মাঝামাঝি সময়ে (১৯৯৫ সালের ১১ জুলাই) উগ্র সার্বদের হাতে নিহত হয়েছিল প্রায় সাড়ে ৮ হাজার বসনিয় মুসলমান। জাতিসংঘের শান্তি রক্ষী বাহিনীর ডাচ সদস্যদের চোখের সামনে ওই গণহত্যা ঘটেছিল। ওই শহরে যুদ্ধ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও এ হত্যাযজ্ঞ ঘটে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান 

 

ইমরান খান আরও বলেছেন, ভারতীয় সেনাবাহিনী কোন ধরনের আইনের তোয়াক্কা না করে তথা বিচারের ভয় না রেখেই কাশ্মীরের মুসলমানদের হত্যা অব্যাহত রেখেছে। তিনি বলেন, কাশ্মীরের ৮০ লাখ মানুষ ৮ লাখ ভারতীয় সেনার মাধ্যমে ঘেরাও ও অবরুদ্ধ হয়ে আছে। এ কারণে গত প্রায় এক বছর ধরে কাশ্মীরিরা তাদের নিত্য দিনের মৌলিক চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। কাশ্মিরের জনগণ এখন মূলত গৃহবন্দি। 

ইমরান খান এমন সময় কাশ্মির বিষয়ে এ হুঁশিয়ারি দিলেন যখন প্রায় এক বছর আগে গত বছরের গ্রীষ্মকাল থেকে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন সংক্রান্ত বিশেষ মর্যাদা বাতিল করেছে ভারত সরকার।  

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে বছরের পর বছর ধরে লাখ লাখ ভারতীয় সেনা মোতায়েন রয়েছে। গত প্রায় সাত দশকে সেখানে লাখ লাখ কাশ্মিরি হতাহত হয়েছে। এ ছাড়াও সেখানে ভারতীয় সেনাদের হাতে নারী ধর্ষণ ও অপহরণের মত মানবতা বিরোধী অপরাধ ঘটছে বলেও খবর আসছে। শিশু ও যুবকদের গুম হওয়ার ঘটনাও ঘটছে অহরহ। বন্ধ করে রাখা হয়েছে ইন্টারনেট ও টেলিফোন যোগাযোগ ব্যবস্থা। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মিরের জনসংখ্যার কাঠামোয় পরিবর্তন আনার জন্য সেখানে হিন্দুদের স্থায়ী বসতি গড়ার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। 

সম্প্রতি ভারতের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন আইনেও পরিবর্তন এনে দেশটির মুসলমানদের নাগরিকত্বকে হুমকিগ্রস্ত  করা হয়েছে এবং এভাবে দেশটিতে মুসলমানদের বৈষম্যের শিকার করা হচ্ছে। আর এসব কিছুর মূলেই রয়েছে ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি দলের বিতর্কিত নীতিমালা।    

ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপিকে উগ্র হিন্দুত্ববাদী দল হিসেবে দেখা হয় এবং এই দলটির শাসনামলে কেবল কাশ্মিরে নয় গোটা ভারতেই মুসলমানদের নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে রয়েছে বলে অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছেন। ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময় ২০০২ সালে সেখানে মুসলিম বিরোধী দাঙ্গায় হাজার হাজার মুসলমান নিহত হয়েছিল।

 

কাশ্মিরে ভারতীয় সেনারা বিচার-বহির্ভূত হত্যাযজ্ঞে জড়িত বলে অভিযুক্ত 

 

এ ছাড়াও ভারতে গরু জবাইয়ের অপবাদ দিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে মুসলমানদের ওপর নৃশংস হত্যাযজ্ঞের ঘটনাও ঘটেছে। মুসলমানদের নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের ওপরও সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে অন্তত দশটি মসজিদে অগ্নি সংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। ভারতের নিরাপত্তা বাহিনী মুসলমানদেরকে উগ্র হিন্দুদের হামলার হাত রক্ষার জন্য কখনও সক্রিয় ভূমিকা পালন করে না, বরং তারাও অনেক সময় দাঙ্গাবাজদের সহযোগীর ভূমিকাই পালন করে।  

কাশ্মীরের জনগণ সেখানে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ইশতেহার বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছে। নিরাপত্তা পরিষদের ইশতেহারে গণভোটের মাধ্যমে কাশ্মীর অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ভারত সরকার জাতিসংঘের ইশতেহার বাস্তবায়ন করতে অসম্মতি জানিয়ে আসছে। এ কারণে ভারত সরকার এখন পর্যন্ত সেখানে গণভোট আয়োজন করেনি।

তাই জাতিসংঘ, ওআইসি বা ইসলামী সহযোগিতা সংস্থাসহ আন্তর্জাতিক সমাজের উচিত কাশ্মির সংকটসহ ভারতের মুসলমানদের সমস্যা সমাধানের বিষয়ে জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া। #

পার্সটুডে/১৩
 

ট্যাগ

মন্তব্য