সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২০ ১২:৪২ Asia/Dhaka
  • ‘মজলিশ-ই ইত্তেহাদুল মুসলেমিন’ (মিম) প্রধান ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি
    ‘মজলিশ-ই ইত্তেহাদুল মুসলেমিন’ (মিম) প্রধান ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি

ভারতের বিহারে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ‘মজলিশ-ই ইত্তেহাদুল মুসলেমিন’ (মিম) মাঠে নামায় আরজেডি নেতৃত্বাধীন ‘মহাজোট’ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আগামী অক্টোবর-নভেম্বর মাসে বিহার বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এমন পরিস্থিতিতে সব রাজনৈতিক দল রাজনৈতিক ও সামাজিক সমীকরণ নিরূপণে ব্যস্ত রয়েছে।

মুসলিম-যাদব বা ‘এম-ওয়াই’ সমীকরণের কারণে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল রাষ্ট্রীয় জনতা (আরজেডি) দলের প্রধান লালু প্রসাদ যাদব বিহারে ১৫ বছর ক্ষমতায় ছিলেন। আরজেডি ওই সামাজিক সমীকরণের কারণে রাজ্যে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরে আসার স্বপ্ন দেখছে। কিন্তু বিহার বিধানসভা নির্বাচনে হায়দরাবাদের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি’র দল ‘মজলিশ-ই ইত্তেহাদুল মুসলেমিন’ (মিম) এর প্রবেশের ফলে আরজেডি-নেতৃত্বাধীন মহাজোটের সমীকরণ বিগড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিহারে মুসলিম জনসংখ্যা ১৬ শতাংশ। এবং ‘যাদব’ সম্প্রদায় রয়েছেন প্রায় ১৪ শতাংশ। লালুপ্রসাদ যাদবের নেতৃত্বাধীন আরজেডি ‘যাদব’দেরকে নিজেদের ‘ভোট ব্যাঙ্ক’ হিসেবে মনে করে থাকে।

বিহার বিধানসভার ২৪৩ আসনের মধ্যে কমপক্ষে চার ডজন বা ৪৭ টি আসনে মুসলিম জনসংখ্যার হার ২০ থেকে ৪০ শতাংশ হওয়ায় তারা ওই সকল কেন্দ্রের নির্বাচনে প্রার্থীদের জয়-পরাজয় নির্ধারণ করে। যেহেতু, রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ এবং জোটের অবস্থান ২০১০ সালের বিধানসভা নির্বাচনের মতো। সেজন্য, আশা করা হচ্ছে সেই অনুযায়ী ভোটদানের ধরণ হবে।

বিহার বিধানসভা

২০১৫ সালে, ক্ষমতাসীন জেডিইউ এবং বিজেপি আলাদাভাবে নির্বাচনে লড়েছিল। নীতীশ কুমারের দল জেডিইউ লালুপ্রসাদ যাদবের আরজেডি এবং কংগ্রেসের সাথে যৌথভাবে (মহাজোট) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। কিন্তু জেডিইউ বর্তমানে বিজেপি’র সাথে গিয়েছে। ২০১০ সালেও বিজেপি এবং জেডিইউ একসাথে নির্বাচনে লড়েছিল।

২০১০ সালের নির্বাচনের ফলাফলের তথ্যের দিকে লক্ষ্য করলে, দেখা যাবে ৪০ শতাংশের বেশি মুসলিম জনসংখ্যা অধ্যুষিত ১১ টি আসনের মধ্যে পাঁচটি জিতেছে এনডিএ (বিজেপি-৪ এবং জেডিইউ-১) জোট। আরজেডি কেবল একটি আসন জিততে পেরেছিল এবং কংগ্রেস দুটি আসন দখল করেছিল। এই আসনগুলো সীমাঞ্চল এবং কোশি এলাকায় ছিল, যেখানে সর্বাধিক মুসলিম জনসংখ্যার ঘনত্ব রয়েছে।

৩০ থেকে ৪০ শতাংশ মুসলিম জনসংখ্যা অধ্যুষিত সাতটি বিধানসভা আসন রয়েছে। ২০১০ সালে এনডিএ তাদের মধ্যে ছয়টি (বিজেপি-৫ এবং জেডিউ-১) আসনে জয়ী হয়েছিল।

রাজ্যে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ মুসলিম জনসংখ্যা অধ্যুষিত ২৯ বিধানসভা আসন রয়েছে। এরমধ্যে এনডিএ ২৭ টিতে জয়ী হয়। (বিজেপি-১৬ এবং জেডিউ-১১) এক্ষেত্রে আরজেডি কেবল একটি আসন জিতেছিল। মুসলিম অধ্যুষিত মোট ৪৭ আসনের মধ্যে ৩৮ টিতে জয়ী হয়েছিল এনডিএ।

কিন্তু গত দশ বছরে সামাজিক ও রাজনৈতিক সমীকরণের পরিবর্তন হয়েছে। রাজ্যে জেডিইউ নেতৃত্বাধীন নীতীশ কুমার সরকারের বিরুদ্ধেও অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সি ফ্যাক্টর উঠে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে মনে করা হচ্ছে যে, কেন্দ্রীয় নরেন্দ্র মোদি সরকারের ট্রিপল তালাক, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন, জম্মু-কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা বাতিলের সিদ্ধান্তের পরে মুসলিম ভোট আরজেডি-কংগ্রেস জোটের দিকে ঝুঁকতে পারে।

ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসির দল ‘মিম’ রাজ্যের ২২ টি মুসলিম অধ্যুষিত জেলায় ৩২টি বিধানসভা আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছে। ২০১৫ সালে ‘মিম’ ৬ আসনে প্রার্থী দিলেও তাদের সাফল্য আসেনি। কিন্তু পরে একটি আসনে উপনির্বাচনে ‘মিম’ জয়ী হয়েছিল। এরফলে দলটি উৎসাহিত অবস্থায় রয়েছে। যে ৩২ আসনে ‘মিম’ লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছে তার এক তৃতীয়াংশ আসন বর্তমানে আরজেডি নেতৃত্বাধীন মহাজোটের দখলে রয়েছে। এরমধ্যে আরজেডি ৭, কংগ্রেস ২ এবং একটি আসনে সিপিআই (এমএল)-এর বিধায়ক রয়েছেন। এবং তাঁরা সকলেই মুসলিম মুখ। এরকম পরিস্থিতিতে ‘মিম’ ওই সকল এলাকায় প্রার্থী দিয়ে যদি মুসলিমদের মধ্যে প্রবেশ করতে সফল হয় তাহলে মহাজোটের জয়ের পথ কঠিন হয়ে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। 

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/১৮

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ

মন্তব্য