সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২০ ১৬:২১ Asia/Dhaka
  • অবশেষে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানির অনুমতি!

ভারত থেকে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি নিয়ে টানাপড়েন সৃষ্টি হওয়ার পরে অবশেষে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ পেঁয়াজ রফতানির অনুমতি দিয়েছে বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। আজ (শনিবার) গণমাধ্যম সূত্রে প্রকাশ, ভারত কমপক্ষে ২৫ হাজার টন পেঁয়াজ রফতানি করার অনুমতি দিয়েছে যা ইতোমধ্যে রফতানির জন্য পরিবহন/প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’ এটি ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বের বিশেষ নিদর্শন বলে মন্তব্য করা হয়েছে। যদিও গণমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশিত হলেও সীমান্তে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা সরকারিভাবে এমন কোনও খবর জানেন না বলে মন্তব্য করেছেন।

গত ১৪ সে‌প্টেম্বর ভার‌তের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়য়ের ডিরেক্ট‌রেট জেনা‌রেল অফ ফ‌রেন ট্রেড ভারত থে‌কে সব ধর‌নের পেঁয়াজ রফতা‌নি বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিল। এর ফলে বাংলা‌দে‌শে পেঁয়া‌জের দাম অস্বাভাবিকভাবে বে‌ড়ে যায়। আগেভা‌গে না জা‌নি‌য়ে আচমকা পেঁয়াজ রফতা‌নি বন্ধ করায় বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ভারতের কাছে চিঠি পাঠিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। তাঁরা অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান। একইসঙ্গে ভারতের বিভিন্ন ব্যবসায়ীক সংগঠনও রফতানির উদ্দেশ্যে ছাড়পত্র পাওয়া ট্রাকগুলোকে রফতানি করতে দেওয়ার দাবি জানায়। ওয়েস্টবেঙ্গল এক্সপোর্টার্স কো-অর্ডিনেশন কমিটি, মহারাষ্ট্রের নাসিকের পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের সংগঠন ও অন্যরা বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এরপরেই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডিরেক্টর জেনারেল অফ ফরেন ট্রেড বিভাগ বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখে।

এদিকে, গণমাধ্যমে এধরণের খবর প্রকাশ্যে এলেও আজ (শনিবার) দুপুর পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনও সরকারি নির্দেশের কথা জানেন না বলে ‘পেট্রাপোল ক্লিয়ারিং এজেন্টস স্টাফ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন’-এর সম্পাদক কার্ত্তিক চক্রবর্তী মন্তব্য করেছেন। ১৪ সেপ্টম্বর পর্যন্ত যেসব গাড়ির ছাড়পত্র করা আছে তারাই কেবল রফতানি করতে পারবে বলেও তিনি জানান। যদিও পেট্রাপোল স্থলবন্দরে ওই তারিখের কোনও ট্রাকের ছাড়পত্র নেই বলে কার্ত্তিক চক্রবর্তী মন্তব্য করেন।     

কার্ত্তিক চক্রবর্তী আরও বলেন, ‘পেট্রাপোল সীমান্তের উদ্দেশ্যে ৩৫ ট্রাক পেঁয়াজ বিভিন্ন রাস্তায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। ঘোঁজাডাঙা সীমান্তে ৩০০ থেকে ৩৫০ ট্রাক পেঁয়াজ দাঁড়িয়ে আছে। মহদীপুর সীমান্তে ২২০ থেকে ২২৫ ট্রাক এবং হিলি সীমান্তে প্রায় ১৭০ টি পেঁয়াজের ট্রাক দাঁড়িয়ে আছে। এছাড়া একটা রেলের রেক রাণাঘাটে দাঁড়িয়ে আছে ১৪০০ টন মাল নিয়ে। মোট কমপক্ষে ১৮ হাজার টন পেঁয়াজ বন্দর এলাকা এবং মাঝপথে আটকে রয়েছে।’

ঘোঁজাডাঙা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এমপ্লয়িজ কার্গো ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা জানান,  ‘ট্রাকে থাকা পেঁয়াজের গাড়ি থেকে এরইমধ্যে রস গলা শুরু হয়েছে। অর্থাৎ পেঁয়াজের পচন শুরু হয়েছে। অবিলম্বে রফতানির ব্যবস্থা না হলে ব্যবসায়ীরা বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়বেন। ১৪ সেপ্টম্বর পর্যন্ত ছাড়পত্র পাওয়া মাত্র ৩২/৩৩ ট্রাকের মতো পেঁয়াজ যেতে পারছে। কিন্তু এখনও আড়াইশো ট্রাক দাঁড়িয়ে রয়েছে।’  

গতবছরও পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। গতবছর অক্টোবরে ভারত সফরে এসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের  আচমকা পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। মজা করে বলেছিলেন,  ‘পেঁয়াজ নিয়ে একটু সমস্যায় পড়ে গিয়েছি আমরা। আমি  জানি না, কেনো আপনারা পেঁয়াজ বন্ধ করে দিলেন। আমি রাঁধুনিকে বলে দিয়েছি, এখন থেকে রান্নায় পেঁয়াজ বন্ধ করে দাও।’ভারত নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি বাংলাদেশকে আগেভাগে জানালে, ঢাকা অন্য কোনো দেশ থেকে পেঁয়াজ আনার ব্যবস্থা করে নিতো বলেও শেখ হাসিনা মন্তব্য করেন।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/এমবিএ/১৮

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

 

 

 

ট্যাগ

মন্তব্য