অক্টোবর ২৭, ২০২০ ১৩:৪৮ Asia/Dhaka
  • ভারতের সুপ্রিম কোর্ট
    ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

ভারতের অসমে এনআরসি কো-অর্ডিনেটরের এক নির্দেশনার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ। জমিয়তের বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্টের তদারকিতে শেষ হয়ে যাওয়া জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) প্রক্রিয়ায় আদালতের নির্দেশ ছাড়া সংশোধন বা পরিমার্জন করতে পারেন না এনআরসি কো-অর্ডিনেটর। তা আদালতের কাজে হস্তক্ষেপ। আদালতের তদারকে তৈরি হওয়া চূড়ান্ত তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার যে নির্দেশ এনআরসি কো-অর্ডিনেটর হিতেশ দেব শর্মা দিয়েছেন, তা বেআইনি।

এ সম্পর্কে আজ (মঙ্গলবার) অসম জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল কাদির কাশেমি রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘এনআরসি’তে হিন্দু-মুসলিম অনেক লোকের নাম বাদ পড়েছে। অন্যান্য জাতি, সম্প্রদায় রয়েছেন যাদের নাম ভুলবশত এনআরসিতে আসেনি। অসম এনআরসি সমন্বয়কারী হিতেশ দেব শর্মা এখন কিছু মানুষের নাম বাদ দেওয়ার কথা বলছেন। কিন্তু যাদের নাম বাদ পড়েছে তাঁদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলছেন না। এটা অন্যায়, ন্যায়সঙ্গতভাবে উনি কাজ করছেন না।’

মাওলানা আব্দুল কাদির কাশেমি

অসমের জমিয়ত নেতা মাওলানা আব্দুল কাদির কাশেমি আরও বলেন, ‘অসমে এনআরসি কো-অর্ডিনেটর হিতেশ দেব শর্মা সম্প্রতি একটি সার্কুলারে এনআরসিতে যে সমস্ত ‘ডি ভোটার’ ও বিদেশি মানুষের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে তাঁদের নাম এনআরসি থেকে বের করে দেওয়ার জন্য জেলা কালেক্টরদের নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনার বিরুদ্ধে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। মূলত তিনটা কারণে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ সুপ্রিম কোর্টে গেছে। প্রথমত-ভুলবশত যাদের নাম এনআরসিতে ঢুকেছে তাদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য উনি (এনআরসি কো-অর্ডিনেটর হিতেশ দেব শর্মা) সার্কুলার দিয়েছেন। কিন্তু ভুলবশত যাদের নাম এনআরসিতে ঢোকেনি, সুপ্রিম কোর্টের আদেশ অনুযায়ী তাদের শুনানি করে তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। কিন্তু সে সম্পর্কে উনি কিছুই করেননি। সার্কুলারেও এ ব্যাপারে কিছুই উল্লেখ করেননি।

দ্বিতীয়ত- ‘ডি ভোটার’ বিষয়ে তাদের নাম এনআরসিতে ঢুকবে কি না সে সম্পর্কে সুপ্রিম কোর্টে মামলা চলছে। এখনও ওই বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। সেজন্য বিচারাধীন বিষয় যা আলালতে রয়েছে সেই ইস্যুতে উনি যে সার্কুলার দিয়েছেন তা সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে যে এনআরসি হয়েছে তার আদেশ লঙ্ঘন করেছেন।

তৃতীয়ত- অসম সরকার চূড়ান্ত এনআরসি তালিকা সম্পন্ন হওয়ার পরে সুপ্রিম কোর্টে রি-ভেরিকশনের জন্য আবেদন করেছিল। সে সময় সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট ভাষায় বলেছিল যে, তদানীন্তন কো-অর্ডিনেটর প্রতীক হাজেলা অসমে সর্বমোট ৭২ লাখ মানুষের নাম রি-ভেরিকশন করেছেন। সুতরাং সেখানে রি-ভেরিকশনের আর কোনও জায়গা নেই। রি-ভেরিকশনের আর সুযোগ দেওয়া হবে না। কিন্তু বর্তমান এনআরসি কো-অর্ডিনেটর হিতেশ দেব শর্মা যে সার্কুলার দিয়েছেন তাতে আমাদের অনুমান উনি ‘ডি ভোটার’দের নাম বের করে দেওয়ার নামে নতুন করে আবার একটা রি-ভেরিকশনের ব্যবস্থা করতে চাচ্ছেন। এটা সম্পূর্ণ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা ও জাজমেন্টের বিরোধী। ওই তিন কারণে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ এনআরসি কো-অর্ডিনেটরের সার্কুলারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে’ বলে অসম জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল কাদির কাশেমি মন্তব্য করেন।

সুপ্রিম কোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের আমলে তৈরি হয়েছিল এনআরসি। ২০১৯ সালের ৩১ অগস্ট প্রকাশিত হয় এনআরসি’র চূড়ান্ত তালিকা। এনআরসিতে ৩ কোটি ৩০ লাখ আবেদনকারীর মধ্যে ১৯ লাখ ৭ হাজার ৭০৭ জনের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। নাম বাদ পড়ার কারণ জানিয়ে স্পিকিং অর্ডার ও রিজেকশন লেটার পাঠানোর কাজ এখনও শুরু করা যায়নি। তার আগেই এনআরসি দফতর নির্দেশ দেয়, সব জেলায় এনআরসির তালিকা ফের খুঁটিয়ে যাচাই করতে হবে। তালিকায় ‘ঘোষিত বা সন্দেহভাজন বিদেশি’ বা তাদের বংশধরদের নাম থেকে যাওয়ার কয়েকটি ঘটনা সামনে আসায় ওই সিদ্ধান্ত বলে এনআরসি কো-অর্ডিনেটর হিতেশ দেব শর্মার দাবি।

মাওলানা আরশাদ মাদানী

অন্যদিকে, জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের প্রধান মাওলানা আরশাদ মাদানী বলেছেন, ওই ইস্যুতে তারা চুপ করে বসে থাকবে না। অসমে এনআরসি প্রক্রিয়া ব্যর্থ হওয়ার পরে এখন আবার রাজ্য সরকার সেখানে ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করতে চায়। জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ অসম সরকারের ওই অভিপ্রায় মোটেও সফল হতে দেবে না। অসম সরকার এনআরসিতে অন্তর্ভুক্তদের বহিষ্কারের ষড়যন্ত্র করছে বলে অস্বীকার করা যায় না। কিন্তু জমিয়ত কোনওভাবেই তা বরদাশত করবে না এবং এর বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে সোচ্চার হবে বলেও জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের প্রধান মাওলানা আরশাদ মাদানী মন্তব্য করেছেন।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২৭

 

 

ট্যাগ

মন্তব্য