ডিসেম্বর ১১, ২০২০ ০০:৪৮ Asia/Dhaka
  • কংগ্রেস নেতা সিদ্দারামাইয়া
    কংগ্রেস নেতা সিদ্দারামাইয়া

ভারতে বিজেপিশাসিত কর্ণাটকে গো-হত্যা বিরোধী বিল পাশ করাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপের সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল (বুধবার) কর্ণাটকের ইয়েদুরাপ্পা সরকার বিধানসভায় গরু জবাই নিষিদ্ধ বিল পাশ করেছে। এ সময়ে বিধানসভায় ব্যাপক হৈ চৈ শুরু হয়। বিরোধী কংগ্রেস ও জেডি(এস) বিধায়করা ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শনের পাশাপাশি বিধানসভার কার্যক্রম ত্যাগ করেন।

এদিকে, বিধানসভায় ওই বিল পাশ হওয়ার পাশাপাশি এদিন রাজ্যের পশুপালন মন্ত্রী প্রভু চৌহান বিধানসভা চত্বরে গরু পুজো করেছেন। এ  সময়ে অন্য মন্ত্রীরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

বিরোধীদের অভিযোগ,  ‘বিজনেস অ্যাডভাইসরি কমিটি’তে আলোচনা ছাড়াই বিধানসভায় ওই বিল পেশ করা হয়েছে। স্পিকার বিশ্বেশ্বর হেগড়ে খাগেরি অবশ্য বিরোধীদের অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন। ওই ঘটনার প্রতিবাদে অধিবেশন কক্ষত্যাগ করেন বিরোধী বিধায়করা। কংগ্রেস নেতা সিদ্দারামাইয়ার অভিযোগ, বিজেপি সরকার সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বিল পাশ করিয়েছে। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অধিবেশন বয়কটের ডাক দেওয়া হয়েছে।

রাজ্যটিতে আগের আইন অনুসারে, গবাদি পশুর বয়স ১২ বছরের বেশি হলে সেটিকে জবাইয়ের অনুমতি ছিল। প্রজননে অক্ষম এবং দুধ দিতে পারে না, এমন গরু ও মোষ জবাই করা যেত। কিন্তু বুধবার বিধানসভায় পাশ হওয়া বিলটি আইনে পরিণত হলে সেসব এবার বেআইনি হয়ে যাবে।

কর্ণাটক গরু জবাই নিষিদ্ধ আইন এবং গবাদিপশু সংরক্ষণ বিল-২০২০ নামে পরিচিত ওই বিলে রাজ্যে গরু জবাইয়ের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার বিধান রয়েছে। এতে গরুপাচার, অবৈধ পরিবহণ, গরুকে অত্যাচার ও গরু জবাই করলে কঠোর সাজার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওই বিলে গরু জবাইয়ের জন্য ৫০ হাজার থেকে দশ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা এবং ৩ থেকে ৭ বছরের সাজার বিধান রয়েছে। দ্বিতীয় বিধানে ৩ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত সাজা এবং ৫০ হাজার থেকে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানার ব্যবস্থা রয়েছে। কংগ্রেস নেতা সিদ্দারামাইয়া বলেন, আমরা কেবল অর্ডিন্যান্স পাশের জন্য একমত ছিলাম। কিন্তু আচমকে ওই বিল পেশ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, কর্ণাটকের বিজেপি সভাপতি ও সাংসদ নলীন কুমার কাটিল অভিযোগ করেছেন, বিধানসভায় গো-হত্যা নিষিদ্ধ বিল পাসের বিরোধিতা করে কংগ্রেস তোষণের রাজনীতি করছে। তিনি জেলা বিজেপি কার্যালয়ে গরু পুজো শেষে সাংবাদিকদের বলেন, কংগ্রেস সর্বদা গো-হত্যার পক্ষে  রয়েছে এবং বিলের বিরোধিতা করা অবাক হওয়ার মতো কিছু নয়। কাটিল আরও বলেন, ভারতীয় সংস্কৃতিতে গরুর একটি বিশেষ স্থান রয়েছে এবং গবাদিপশুর সাথে মানুষের সম্পৃক্ততা সংবেদনশীল। গবাদিপশুর সংখ্যা ক্রমাগত হ্রাস পাওয়ায় এই সংস্কৃতি বাঁচিয়ে রাখার প্রয়োজন রয়েছে বলেও বিজেপি নেতা নলীন কুমার কাটিল মন্তব্য করেছেন।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/ বাবুল আখতার /১০

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

 

ট্যাগ