ডিসেম্বর ১১, ২০২০ ১৮:৩৯ Asia/Dhaka
  • কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর
    কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর

ভারতের দিল্লি পুলিশ সিঙ্ঘু সীমান্তের রেড লাইটে থাকা প্রতিবাদী কৃষকদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে। এফআইআরে সামাজিক দূরত্ব অনুসরণ না করার অভিযোগে মহামারী আইন ও অন্যান্য ধারার আওতায় কৃষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) এনডিটিভি ওই তথ্য জানিয়েছে।

চলমান কৃষক আন্দোলন প্রসঙ্গে আজ কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর বলেন, ‘আন্দোলনের ফলে মানুষ সমস্যায় পড়েছেন। দিল্লির মানুষজনও সমস্যায় রয়েছেন। এজন্য মানুষের কল্যাণে, কৃষকদের স্বার্থে আন্দোলন শেষ করা উচিত। এবং সংলাপের মধ্য দিয়ে ওই সমস্যার সমাধান করা উচিত।’  

কেন্দ্রীয় সরকারের তৈরি করা তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে আজ ১৬ দিন একটানা আন্দোলন চালাচ্ছেন কৃষকরা। রাজধানী দিল্লি ও দিল্লি সংলগ্ন বিভিন্ন রাজ্যের সীমান্তে কৃষকরা ধর্না-অবস্থানের মধ্যদিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন। সরকার পক্ষ ও কৃষক নেতাদের মধ্যে কয়েকদফা আলোচনা হলেও ওই সমস্যার সমাধান হয়নি। 

আন্দোলনরত কৃষকরা ২৯ নভেম্বর লামপুর সীমান্ত থেকে জোর করে দিল্লি সীমান্তে প্রবেশ করেছিলেন এবং সিঙ্ঘু সীমান্তের রেড লাইটে ধর্নায় বসেছেন। তখন থেকেই তাঁরা সেখানকার সড়ক অবরোধ করে আছেন। ৭ ডিসেম্বর আলীপুর থানায় পুলিশ  কৃষকদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে।

আন্দোলনরত কৃষক সংগঠনগুলো ১৪ ডিসেম্বর থেকে দেশব্যাপী আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এছাড়া ১২ ডিসেম্বর, দিল্লি-জয়পুর জাতীয় মহাসড়ক বন্ধ করাসহ সমস্ত টোল প্লাজা দখলের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় কমপক্ষে ২ হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে। পুলিশের এসিপি সদর দফতর ঊষা কুন্ডু সূত্রে প্রকাশ, পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি শান্তিশৃঙ্খলা যাতে ভঙ্গ না হয় সেজন্য গোয়েন্দা ব্যবস্থাও সক্রিয় করে গভীরভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

গতকাল (বৃহস্পতিবার) কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর সরকারের পক্ষ থেকে কৃষকদের উদ্দেশ্যে চলমান আন্দোলন শেষ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, কৃষক নেতা বুটা সিং বলেন, আমরা ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত একটি আলটিমেটাম দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী যদি আমাদের কথা না মানেন এবং আইন বাতিল না করেন, আমরা রেলপথ অবরোধ করব। এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে দেশের সকল মানুষ ট্র্যাকে নেমে আসবে। সংযুক্ত কিষাণ মঞ্চ একটি তারিখ নির্ধারণ করবে এবং এ সংক্রান্ত ঘোষণা করবে।

ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়নের মুখপাত্র রাকেশ টিকায়েত বলেছেন, কেন্দ্রীয় সরকার যদি আমাদের ১৫ টির মধ্যে ১২ টি দাবিতে সহমত হয়, তার অর্থ কৃষিবিলগুলো সঠিক নয়, তাহলে কেন সেগুলো বাতিল করা হবে না? আমাদের প্রতিবাদ শান্তিপূর্ণভাবে চলবে।

আজ শুক্রবার কৃষক নেতা রাকেশ টিকায়েত আরও বলেন, স’রকার ও কৃষক উভয়কেই পিছু হটতে হবে। সরকার আইন প্রত্যাহার করবে এবং কৃষকরা বাড়ি চলে যাবে।’

ভারতীয় কৃষক ইউনিয়নের বলবীর সিং রাজেওয়াল বলেছেন, ওই আইন ব্যবসায়ীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে। কৃষিকাজ যদি রাজ্যের বিষয় হয় তাহলে এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের আইন করার অধিকার নেই। কেন্দ্রীয় সরকার অবশ্য কৃষি আইন প্রত্যাহার করা হবে না বলে জানিয়েছে। এরফলে সরকার ও কৃষকদের মধ্যে সংঘাত আরও জোরালো হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।

 

ট্যাগ