জানুয়ারি ১৬, ২০২১ ১৯:২৯ Asia/Dhaka
  • রতের পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসের সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী এমপি
    রতের পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসের সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী এমপি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসের সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী এমপি বলেছেন, ‘ভারতবর্ষ আজকে যাদের হাতে রয়েছে তাঁদের হাতে মানুষ আজ নিরাপদ নয়। নিরাপদ নয় এ কারণে যে, তারা বলে, এ ভারতবর্ষে সকলের অধিকার সমান নয়।’ তিনি আজ (শনিবার) ভাঙড়ে এক জনসমাবেশে বক্তব্য রাখার সময়ে ওই মন্তব্য করেন।

ভারতীয় সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেন, ‘ভারতে যখন কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় ছিল তখন ভারতবাসীর মধ্যে অনিশ্চয়তা ছিল না। নিরাপত্তাহীনতার ভাবনা ছিল না। মানুষের মধ্যে আমরা ভারতীয় কী অ-ভারতীয় এ নিয়ে কোনও বিতর্ক কোনও আলোচনা ছিল না। এই ভারতবর্ষ হিন্দুদের রাষ্ট্র না, মুসলিমদের রাষ্ট্র এনিয়ে কোনও তর্ক ছিল না। এ ভারতবর্ষে মন্দির ভেঙে মসজিদ করব, না মসজিদ ভেঙে মন্দির করব তা নিয়ে কোনও বিতর্ক ছিল না।’

তিনি বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের পরে, কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পরে ভারতবর্ষের সংবিধান রচিত হয়েছিল। ভারতে সব ধর্মের মানুষের সমানাধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এভাবে ভারতবর্ষ এগোচ্ছিল। আচমকা ২০১৪ সাল থেকে তো এ দেশের পরিবর্তন হয়নি। এ দেশের উন্নয়ন শুরু হয়েছিল স্বাধীনতার পর থেকে, যখন আমরা দেশ পরিচালনার অধিকার পেয়েছিলাম।’

অধীর বাবু বলেন, ‘এদেশের স্বাধীনতা ‘জয় সিয়ারাম’ বলে আসেনি, ‘আল্লাহু আকবর’ বলে আসেনি। দেশের স্বাধীনতা এসেছে আপামর মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে। ১৯২১ সালে কংগ্রেসের অধিবেশনে ‘পূর্ণ স্বরাজ’ চাই বলে প্রস্তাব  উত্থাপন হয়েছিল। পূর্ণ স্বরাজের প্রস্তাব রেখেছিলেন মাওলানা হজরত মোহানি সাহেব। তিনি ছিলেন ইসলাম ধর্মের একজন প্রকৃত অনুসারী। তিনি কোনও বিজেপি দলের নেতা ছিলেন না। আমরা কথায় কথায় বলি ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’। এই ইনকিলাব ধ্বনি তুলেছিলেন মাওলানা হজরত মোহানি। মাওলানা শওকত আলী মুহাম্মাদ আলী মহাত্মা গান্ধীজির সঙ্গে হাত মিলিয়ে খিলাফত আন্দোলন করেছিলেন ভারত থেকে ব্রিটিশদের ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে। তারা বিজেপির নেতা ছিলেন না। ব্রিটিশের বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে ৪৫ বছর জেলে কাটিয়েছিলেন খান আব্দুল গফফার খান। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে ২৭ বছর বয়সী এক যুবক হাসতে হাসতে ফাঁসির মঞ্চে আত্মত্যাগ করেছিলেন, তাঁর নাম ছিল আসফাকউল্লাহ।’

অধীর বাবু আজ রাজ্যে ক্ষমতাসীন তৃণমূলের বিভিন্ন কাজকর্মের সমালোচনা করার পাশাপাশি বিজেপির বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। একইসঙ্গে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবি, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ইস্যুসহ একাধিক বিষয়ে এক প্রতিবাদ মিছিলে অংশগ্রহণ করেন।#          

পার্সটুডে/এমএএইচ/এমবিএ/১৬

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

 

 

 

ট্যাগ