মার্চ ০২, ২০২১ ১৮:৪৮ Asia/Dhaka
  • আইএসএফের সঙ্গে জোটের প্রশ্নে আনন্দ শর্মা ও অধীর চৌধুরীর মতবিরোধ প্রকাশ্যে, পাল্টাপাল্টি মন্তব্য

ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য রাজ্যসভার সদস্য আনন্দ শর্মা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের (আইএসএফ) সাথে জোটের জন্য পশ্চিমবঙ্গের কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীর সমালোচনা করেছেন।

আইএসএফ-এর প্রতিষ্ঠাতা হলেন ফুরফুরা শরীফের পীরজাদা আব্বাস  সিদ্দিকি। পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএম নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট, আইএসএফ এবং কংগ্রেস দল জোট গঠন করে তৃণমূল এবং বিজেপির বিরুদ্ধে লড়বে। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় রয়েছে।   

কংগ্রেস নেতা আনন্দ শর্মা গতকাল (সোমবার) বলেন, এই নির্বাচনী জোট কংগ্রেসের আদর্শের পরিপন্থী। গত (রোববার) পশ্চিমবঙ্গ কংগ্রেস কমিটির (পিসিসি) সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী কোলকাতার ব্রিগেড ময়দানে একটি সমাবেশে বিভিন্ন বামপন্থি নেতা এবং আইএসএফ প্রতিষ্ঠাতা আব্বাস সিদ্দিকীর সাথে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। অধীর রঞ্জন চৌধুরী লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা আনন্দ শর্মা এমপি।

কংগ্রেস নেতা আনন্দ শর্মা

আনন্দ শর্মা বলেন, ‘আইএসএফের মতো দলের সঙ্গে কংগ্রেসের জোট আদতে দল এবং গান্ধীবাদী ও নেহরুবাদী ধর্মনিরপেক্ষতার মূল মতাদর্শের বিরোধী বার্তা দেয়। যা দলের আত্মা। এ ব্যাপারে কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির অনুমোদন প্রয়োজন ছিল।’তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সব ধরণের সাম্প্রদিয়কতার বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই করতে হবে। পশ্চিমবঙ্গের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির (অধীর চৌধুরী) উপস্থিতি এবং সমর্থন লজ্জাজনক ও বেদনানায়ক। বিষয়টি ওনার স্পষ্ট করা উচিত।’

আনন্দ শর্মার পাল্টা জবাবে পশ্চিমবঙ্গের কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন  চৌধুরী এমপি বলেন,  ‘প্রকৃত বাস্তবতা জানতে প্রথমে আনন্দ শর্মার উচিত  ছিল আমার সাথে কথা বলা। কংগ্রেস ৯২ আসনের জন্য বামফ্রন্টের সাথে জোট করেছে এবং অন্য ধর্মনিরপেক্ষ বিভিন্ন দল এই মহাজোটের অংশ। দলের কোনও সিদ্ধান্ত কোনও একজন নেন না। আমরা আলোচনার পরেই সিদ্ধান্ত নিই।’

অধীর বাবু আরও বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে  ধর্মনিরপেক্ষ জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছে সিপিআইএম ও বামফ্রন্ট। যার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল কংগ্রেস। আমরা বিজেপির সাম্প্রদায়িক ও বিভেদমূলক রাজনীতি এবং একনায়কতন্ত্র শাসনের অবসান ঘটনাতে বদ্ধপরিকর। কংগ্রেস নিজের আসনের সম্পূর্ণ ভাগ পেয়েছে। নয়া গঠিত ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট-আইএসএফকে নিজেদের কোটা থেকে আসন দিচ্ছে বামেরা। সিপিএমের নেতৃত্বাধীন ফ্রন্টের সিদ্ধান্তকে যে সাম্প্রদায়িক বলেছেন আপনি, তা আদতে বিজেপির মেরুকরণের পথ প্রশস্ত করছে।’

অন্যদিকে, কংগ্রেস নেতা আনন্দ শর্মার মন্তব্যের জবাব দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা জিতিন প্রসাদ। তিনি এক বার্তায় বলেন, ‘ওই জোটটি দল ও কর্মীদের স্বার্থ মাথায় রেখেই করা হয়েছে। এখন সময় এসেছে আমাদের একসঙ্গে লড়াই করা এবং দলকে শক্তিশালী করার।’

এরআগে, কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা গুলাম নবী আজাদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশংসা করে বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী কখনই তার পটভূমি লুকিয়ে রাখেননি এবং তিনি প্রকাশ্যে বলেছেন যে তিনি শৈশবে চা বিক্রি করতেন এবং বাসন ধুতেন।

আজাদ ও আনন্দ শর্মার এমন মন্তব্য এমন সময়ে আসছে যখন কংগ্রেস  তামিলনাড়ু, পুদুচেরি, কেরালা, অসম এবং পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন জয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং বিজেপিকে টার্গেট করছে।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/এমবিএ/২

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

 

 

ট্যাগ