এপ্রিল ১৯, ২০২১ ১৬:৫৫ Asia/Dhaka
  • ভারতে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ, একদিনেই আক্রান্ত প্রায় ২ লাখ ৭৪ হাজার, দিল্লিতে ৬ দিনের লকডাউন

ভারতে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। একদিনেই আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ৭৩ হাজার ৮১০ জন। মারা গেছেন ১ হাজার ৬১৯ জন। একদিনে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যার নিরিখে এটিই সর্বোচ্চ রেকর্ড।

রাজধানী দিল্লিতে পরিস্থিতি সামাল দিতে আজ (সোমবার) রাত ১০ টা থেকে পরবর্তী সোমবার সকাল ৫ টা পর্যন্ত অর্থাৎ ৬ দিন সম্পূর্ণ লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। দিল্লিতে আজ সকাল পর্যন্ত বিগত ২৪ ঘণ্টায় ২৫ হাজার ৪৬২ টি নয়া সংক্রমণ হওয়ার মধ্য দিয়ে পজিটিভিটি রেট ৩০ শতাংশে পৌঁছে গেছে। সংক্রমণের গড় ২৯.৭৪ শতাংশে যাওয়ার অর্থ দিল্লিতে প্রায় প্রত্যেক তৃতীয় নমুনায় সংক্রমণ পাওয়া যাচ্ছে।  

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল আজ বলেন, দিল্লিতে করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, ওষুধ, বেড, আইসিইউ, অক্সিজেনের মারাত্মক ঘাটতি রয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়া থেকে রক্ষা পেতে লকডাউনের খুব প্রয়োজন।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে প্রকাশ, ভারতে এ পর্যন্ত ১ কোটি ৫০ লাখ ৬১ হাজার ৯১৯ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন ১ লাখ ৭৮ হাজার ৭৬৯ জন করোনা রোগী।

সরকারি সূত্রে প্রকাশ, গতকাল (রোববার) সকাল ৮ টা থেকে আজ (সোমবার) সকাল ৮ টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হয়েছেন ২ লাখ ৭৩ হাজার ৮১০ জন নতুনভাবে সংক্রমিত হয়েছেন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১ কোটি ২৯ লাখ ৫৩ হাজার ৮২১ জন। অর্থাৎ ৮৬ শতাংশ রোগী সুস্থ হয়েছেন। মৃত্যুহার দাঁড়িয়েছে ১.১৯ শতাংশে। এ পর্যন্ত করোনা টিকা দেওয়া হয়েছে ১২ কোটি ৩৮ লাখ ৫২ হাজার ৫৬৬ জনকে। বর্তমানে ১৯ লাখ ২৯ হাজার ৩২৯ জন করোনা রোগী হাসপাতাল অথবা হোম আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন আছেন। অর্থাৎ ১২.৮১ শতাংশ সক্রিয় করোনা রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 

পশ্চিমবঙ্গে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৮৪১৯ টি নয়া সংক্রমণের পাশাপাশি ২৮ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে রাজ্যে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১০ হাজার ৫৬৮। রাজ্যটিতে বর্তমানে ৪৯ হাজার ৬৩৮ জন সক্রিয় করোনা রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। এখানে এ পর্যন্ত ৬ লাখ ৫৯ হাজার ৯২৭ জন সংক্রমিত হলেও ৫ লাখ ৯৯ হাজার ৭২১ জন সুস্থ হয়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ স্মাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বার্তায় বলেন, ‘ভারতে করোনা সংক্রমণের ব্যাপক বৃদ্ধির মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যের জনগণকে রক্ষা করার জন্য সবধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে অতিরিক্ত ওষুধ ও টিকা দিয়ে সাহায্য করার আবেদন জানিয়েছি।’       

মমতা আজ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘অহেতুক ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমরা পরিস্থিতি সামলাচ্ছি। বাইরে থেকে অনেক লোক রাজ্যে আসছে, সে জন্য করোনা সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। বাজারে অনেক ওষুধ, ইত্যাদি পাওয়া যাচ্ছে না। টিকাও পাওয়া যাচ্ছে না। সাড়ে চার হাজার বেড বাড়বে রাজ্যে। করোনার জন্য ১০০টি হাসপাতাল তৈরি রয়েছে, বেসরকারি ৫৮টি হাসপাতাল নেওয়া আছে। এছাড়া ২০০ সেফ হোম তৈরি আছে, সেখানে ১১ হাজার বেড রয়েছে।’ রাজ্য সরকার সবরকম পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বলেও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। #   

পার্সটুডে/এমএএইচ/এমবিএ//১৯

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

     

ট্যাগ