জুন ১৬, ২০২১ ১৭:৫৬ Asia/Dhaka
  • অধ্যাপক সৌগত রায় এমপি
    অধ্যাপক সৌগত রায় এমপি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন তৃণমূলের সিনিয়র নেতা অধ্যাপক সৌগত রায় এমপি দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া সুনীল মণ্ডল এমপি সম্পর্কে বলেছেন, স্পিকারের উচিত ওকে বের করে দেওয়া। তিনি আজ (বুধবার) ওই মন্তব্য করেন।

অধ্যাপক সৌগত রায় এমপি বিজেপি নেতা সুনীল মণ্ডল এমপি সম্পর্কে বলেন, ‘ওঁর বিরুদ্ধে আমাদের দল থেকে দলত্যাগ বিরোধী আইনে পিটিশন জমা দেওয়া হয়েছে। লোকসভার স্পিকারের উচিত সেটা বিচার করে ওঁকে বের করে দেওয়া। এখন উনি আবার অন্যরকম কথা বলছেন। এখন অন্যরকম কথা বলার কোনও আইনগত মূল্য নেই। উনি দল ছেড়ে দিয়েছেন এটাই রেকর্ডেড। এবং ওঁকে উত্তর দিতে হবে কেন উনি দল ছেড়েছেন।’

অধ্যাপক সৌগত রায় আরও বলেন, ‘সুনীল মণ্ডলের মাথার কোনও ঠিক নেই। উনি যখন তৃণমূল ছাড়লেন, তখন তৃণমূল ছাড়ার কোনও বিষয় ছিল না। উনি পাঁচ বছরের জন্য তৃণমূলের টিকিটে নির্বাচিত হয়েছেন। দু'বছর হতে না হতে হঠাৎ করে বিনাকারণে বিজেপিতে চলে গেলেন। আমরা ওঁকে বলেছিলাম। কিন্তু উনি শুনতে রাজিই ছিলেন না।  শুভেন্দু অধিকারীর পক্ষ থেকে বিপথে চালিত হয়ে বা প্রলুব্ধ হয়ে উনি দল ছেড়ে বিজেপিতে গিয়েছিলেন।’

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিতে যোগ দেওয়া বর্ধমান পূর্ব কেন্দ্রের সংসদ সদস্য সুনীল মণ্ডল এবার বিজেপি নেতাদের সমালোচনা করায় তাঁর পুনরায় তৃণমূলে ফেরার জল্পনা শুরু হয়েছে। তিনি তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু সেই সুনীল মণ্ডল এবার নির্বাচনে ব্যর্থতার জন্য বিজেপি’র কেন্দ্রীয় নেতাদের সমালোচনা করেছেন। এবং প্রস্তাব পেলে তিনি তৃণমূলে ফিরবেন বলেও জানিয়েছেন।      

মঙ্গলবার এ সম্পর্কে তিনি বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে মেরুকরণের রাজনীতির অভিযোগও কার্যত স্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘আজ ‘মুসলিম সমাজ’একজোট। আগে মুসলিমরা আমাদের সঙ্গে ছিলেন। জায়গা পাননি বলেই ফিরে গেছেন। পচা শামুকে পা কাটে বলে একটা কথা আছে। একটা ভোটের অনেক দাম। সেই জায়গাটা যদি সাংগঠনিক ভাবে বিজেপি ভাবতো, কাজ হতো। যাঁরা (নেতা) বাইরে থেকে এসেছিলেন, বাংলার রাজনীতি সম্পর্কে তাঁদের সঠিক জ্ঞান ছিল না। ভাষাগত সমস্যা ছিল। কিন্তু তাঁরা ভেবেছিলেন, ভিন্ রাজ্য থেকে এসে বাংলার মন জয় করে ফেলবেন। গ্রামের মানুষ হিন্দি বুঝবেন কেমন করে!’   

‘পঞ্চায়েত স্তরে, বুথ স্তরে বিজেপি’র দুর্বলতা ছিল। শুধু মিটিং মিছিল, জনসভা করলে হয় না, মানুষের কাছে পৌঁছতে হয়’বলেও মন্তব্য করেছেন বিজেপি নেতা সুনীল মণ্ডল। যদিও সুনীল মণ্ডল বর্তমানে এসব কথা বললেও তৃণমূল অবশ্য তাঁকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তাঁর এমপি পদ বাতিল করতে এরইমধ্যে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দেওয়া হয়েছে তৃণমূলের পক্ষ থেকে। #

পার্সটুডে/এমএএইচ/বাবুল আখতার/১৫    

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

   

ট্যাগ