জুন ২০, ২০২১ ১৯:০৩ Asia/Dhaka

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি’র রাজ্য সভাপতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, বিজেপি নতুন করে বাংলা ভাগের চক্রান্ত করছে। তিনি আজ (রোববার) উত্তর ২৪ পরগণা জেলার বনগাঁয় এক কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ওই মন্তব্য করেন।

সম্প্রতি রাজ্যের বিজেপি নেতাদের একাংশ কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে  পশ্চিমবঙ্গের ‘উত্তরবঙ্গ’কে ‘কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল’ করার দাবি জানিয়েছেন।  সেই প্রসঙ্গে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ওই মন্তব্য করেন।

রাজ্যে তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের প্রধান ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বাংলার বিরুদ্ধে একটা ধারাবাহিক চক্রান্ত করছে বিজেপি। এবং বিশেষকরে এর আগেও আমরা দেখেছি বাংলা ভাগের এই চক্রান্ত শুধু বাংলা ভাগের চক্রান্ত নয়। সেইলের (স্টিল অথরিটি অফ ইন্ডিয়া ‘সেইল’) আরএমডি (র' মেটিরিয়াল ডিভিশন) বিভাগ রাজ্য থেকে অন্যত্র স্থানান্তরিত করা হচ্ছে। স্টক এক্সচেঞ্জ স্থানান্তরিত করার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। বাংলাকে বঞ্চনা করা হচ্ছে। এরআগে দুটো রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের সদর দফতর অন্যত্র চলে গেছে। টি বোর্ডকে গৌহাটি থেকে ফাংসান করানো হচ্ছে। ডিভিসি’র সদর দফতর সরানোর চক্রান্ত হচ্ছে।’  

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, ‘বাংলার বিরুদ্ধে এই চক্রান্তটা পুরোনো চক্রান্ত। বিশেষ করে এবারের নির্বাচনে বাংলার মানুষ তো বিজেপির মুখে ঝামা ঘষে দিয়েছে। সেটা সহ্য করতে না পেরে নতুন করে এখন বাংলা ভাগের চক্রান্ত হচ্ছে। এখন বিজেপি’র মুশকিল হচ্ছে আন্দামানের সেলুলার জেলে ৫৮৫ জন বিপ্লবীর নাম আছে। ওখানে হাজার চেষ্টা করে, মাইক্রোস্কোপ দিয়ে খুঁজলেও গুজরাট অঞ্চলের কাউকে পাবেন না। কিন্তু ৩৯৮ জন বাঙালির নাম ওখানে রয়েছে যারা দেশের স্বাধীনতার জন্য রক্ত দিয়েছেন। এ দেশের স্বাধীনতার জন্য সবথেকে বেশি রক্ত দিয়েছে বাংলা। এর আগেও ব্রিটিশরা বাংলা ভাগের চক্রান্ত করেছিল। বাংলা ভাগ করতে পারেনি। এখন নতুন করে যদি বাংলাকে ভাগ করে দেওয়া যায়, ওঁরা সেই চেষ্টা করছেন।  বাংলা হচ্ছে গোটা দেশের মধ্যে বিজেপি বিরোধী নার্ভ সেন্টার। এখানকার জননেত্রী মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।  ওঁরা বুঝতে পারছে এই যে লড়াই তার প্রাণকেন্দ্র হচ্ছে বাংলা।  স্বাভাবিকভাবে বাংলাকে বেছে নিয়ে ওঁরা বাংলার ওপরে আক্রমণ করছে, কিন্তু ওঁরা মূর্খের স্বর্গে বাস করছে। কোনও অবস্থাতেই বাংলার মানুষ বাংলা ভাগ হতে দেবেন না। ওঁরা চাইবে আর বাংলা ভাগ হয়ে যাবে, এটা  এত সোজা নয়।’

রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় দিল্লিতে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে যে অভিযোগ করেছেন সে প্রসঙ্গে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘উনি রাজ্যপাল, না বিজেপি’র মুখপাত্র তা তো বুঝতে পাড়া যায় না! এখন উনি দিল্লিতে রাজ্যপাল হিসেবে গেছেন, না বিজেপির মুখপাত্র হিসেবে গেছেন তা তো আমরা জানি না। আর উনি হচ্ছেন  মনোনীত। বাংলার মানুষ মমতা বন্দোপাধ্যায়কে বিপুলভাবে নির্বাচিত করেছে। সেজন্য বাংলার মাটিতে ‘লাটসাহেব’দের কোনও জায়গা নেই। ‘বাংলা তাঁর মেয়েকে চায়’ সেজন্য তাঁকে নির্বাচিত করেছে। মনোনীত একজন কী বললেন, আর কী বিবৃতি দিলেন তাতে বাংলার মানুষের কিছু এসে যায় না’ বলেও মন্তব্য করেন পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি’র রাজ্য সভাপতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।    

অন্যদিকে, আজ তৃণমূলের সর্বভারতীয় শ্রমিক সংগঠনের সভানেত্রী দোলা সেন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে দিল্লিতে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, ‘পাগলে কী না বলে, ডট ডট ডট। সেজন্য ওনার সম্পর্কে কোনও মন্তব্য না করাই ভালো।’ রাজ্যে বিজেপি নেতাদের একাংশের ৩৫৬ ধারা জারির দাবি প্রসঙ্গে দোলা সেন বলেন, ‘এক্ষেত্রেও ‘পাগলে কী না বলে, ডট ডট ডট। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (তৃণমূল) গতবারের চেয়েও বেশি আসনে জয়ী হয়েছেন বলে ওঁদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। ওঁরা অনেক হুঙ্কার দিয়েছিল। সেজন্য এখন একটু উল্টোপাল্টা বকবে। ওসব নিয়ে আমরা মাথা ঘামাচ্ছি না। আমরা কীভাবে আরও এগোবো, বাংলা কীভাবে উন্নয়নে আরও এগোবে আমরা সেসব নিয়ে ভাবছি’ বলেও দোলা সেন মন্তব্য করেন।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/বাবুল আখতার/২০

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

 

                   

 

ট্যাগ