সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২১ ২০:৪১ Asia/Dhaka
  • কেন্দ্রীয় কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে কৃষকদের ডাকা ভারত বনধে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

ভারতে কেন্দ্রীয় সরকারের তৈরি করা তিনটি কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে আজ কৃষকদের ভারত বনধের ডাকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে। আজ (সোমবার) সকাল ৬ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত বিভিন্ন রাজ্যে বনধ কর্মসূচি পালিত হয়।

আজ বনধের সময়ে বেশ কয়েকটি জাতীয় সড়ক ও রাজ্য মহাসড়ক অবরুদ্ধ ছিল। বনধকে কেন্দ্র করে ট্রেন চলাচলও প্রভাবিত হয়েছে। দিল্লি থেকে বিভিন্ন স্থানে যাওয়ার অনেক ট্রেন বাতিল করা হয়। হরিয়ানা, পাঞ্জাব, দিল্লি, উত্তর প্রদেশ এবং রাজস্থানে বনধের প্রভাব বেশি দেখা গেছে। দিল্লি-গাজীপুর সীমান্ত ১০ ঘন্টা পরে খুলে দেয়া হয়।

ভারতীয় কিষান ইউনিয়নের নেতা রাকেশ টিকায়েত বলেন, ‘ভারত বনধ’ সম্পূর্ণ সফল হয়েছে। এবার ইউনাইটেড কিষাণ মোর্চা পরবর্তী কৌশল তৈরি করবে।  

অন্যদিকে, কনফেডারেশন অফ অল ইন্ডিয়া ট্রেডার্স (ক্যাট)-এর দাবি,  দিল্লিসহ সারা দেশের বাজারে বনধের কোনও প্রভাব পড়েনি এবং দিল্লিসহ সমস্ত বাজার সম্পূর্ণ খোলা ছিল এবং বাজারে ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলেছে।

এদিকে, আজ কৃষকদের বিক্ষোভ চলাকালীন দিল্লি-সিঙ্ঘু সীমান্তে একজন কৃষক মারা যান। পুলিশ বলছে, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। মৃত কৃষকের নাম ভগেল রাম। পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ময়নাতদন্তের পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

কংগ্রেস, আরজেডি, আম আদমি পার্টি, বহুজন সমাজ পার্টি, সমাজবাদী পার্টি এবং বাম দলগুলো ভারত বনধকে সমর্থন করেছিল। এই বনধকে অল ইন্ডিয়া ব্যাংক অফিসার্স কনফেডারেশনও (এআইবিওসি) সমর্থন জানায়। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকার কৃষকদের কাছে আন্দোলন ছেড়ে সংলাপের পথ অবলম্বন করার আবেদন জানিয়েছে। কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর বলেন, সরকার কৃষকদের আপত্তিগুলো বিবেচনা করতে প্রস্তুত আছে।

সর্বভারতীয় কিষাণ সভার সভাপতি অশোক ধাওয়ালে বলেন, ‘গত কয়েকবছরে ‘ভারত বনধ’ কখনও এত সমর্থন পায়নি। ২৫ টিরও বেশি রাজ্যে বনধ সফল হয়েছে। কৃষক বিরোধী আইন প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত এবং ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (এমএসপি) নিশ্চিত করার মতো কেন্দ্রীয় আইন না হওয়া পর্যন্ত আমরা লড়াই করতে প্রস্তুত।’

কেন্দ্রীয় কৃষি আইনের বিরুদ্ধে উত্তর প্রদেশ,  হরিয়ানা, পাঞ্জাব এবং অন্যান্য রাজ্যের কৃষকরা গত ১০ মাস ধরে ধর্না-অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। আজ অনেক জায়গায় ব্যবসায়ী, আইনজীবী এবং ছাত্ররাও কৃষকদের ডাকা ভারত বনধকে সমর্থন জানান।

বনধকে কেন্দ্র করে আজ পশ্চিম উত্তর প্রদেশের ২৭ টি জেলায় কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। আজ কৃষকরা সকল প্রধান সড়ক ও  মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছিল।

ভারত বনধের কারণে হরিয়ানায় জাতীয় ও রাজ্য মহাসড়ক বন্ধ ছিল। বিহারে বামদের পাশাপাশি মহাজোটের আরজেডি এবং কংগ্রেস ভারত বনধকে সমর্থন জানিয়েছিল। আজ সকাল থেকে আরজেডি, কংগ্রেস এবং বামদলের কর্মীরা রাস্তায় নেমেছিল। তারা এ সময়ে অনেক জায়গায় যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। আন্দোলনকারীরা রাজধানী পাটনাসহ বিহারের ১৫ টি জেলায় যান চলাচল ব্যাহত করেছে। কাটিহার, মুজফফরপুর, গয়া, ভাগলপুর, সাহরসা, বেগুসারাই, বেতিয়া, সমস্তিপুর, ভোজপুর, নালন্দা, সিওয়ান, বক্সার, জাহানাবাদ,  আরওয়াল এবং বৈশালীতে,  মহাজোট কর্মীরা বনধ সফল করতে সড়কে নেমে প্রতিবাদ বিক্ষোভে শামিল হন। তারা এ সময়ে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে এবং কৃষক বিরোধী আইন প্রত্যাহারের দাবিতে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়।

পাঞ্জাবের লুধিয়ানাতে লাডোয়াল টোল প্লাজা এবং এমবিডি মল ফিরোজপুর রোডে কৃষকরা একনাগাড়ে বিক্ষোভ করছেন। এখানে সকাল ৬ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত রাস্তা বন্ধ ছিল। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ছিল। অনলাইনে বিভিন্ন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং শিক্ষকরা ঘরে বসে কাজ করেছেন। অনেক স্কুল পরীক্ষা স্থগিত করে দেয়। রাজ্যে কৃষকদের সমর্থনে ট্যাক্সি পরিসেবাও বন্ধ ছিল। বাস স্ট্যান্ড এবং পেট্রল পাম্পও বন্ধ ছিল।

রাজস্থানে কংগ্রেস ভারত বনধকে সমর্থন জানিয়েছিল। জয়পুরে সরকারি হোস্টেলে শহীদ স্মৃতিসৌধ থেকে কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, যুবক এবং মহিলা সামাজিক সংগঠন আজ মিছিল বের করে।

কেরালায়, ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস, ইন্ডিয়ান ট্রেড ইউনিয়ন সেন্টার এবং অল ইন্ডিয়া ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেসসহ বেশ কয়েকটি ট্রেড ইউনিয়নের বিক্ষোভকারীরা তিনটি কৃষি আইনের বিরুদ্ধে আজ ভারত বনধের সমর্থনে কোচিতে একটি মানববন্ধন করেন।#

পার্সটুডে/এম এ এইচ/আবুসাঈদ/২৭

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন

ট্যাগ