অক্টোবর ২৩, ২০২১ ১৯:৪৬ Asia/Dhaka

বাংলাদেশে সম্প্রতি বিভিন্ন পুজোমণ্ডপ ও মন্দিরে আক্রমণসহ বিভিন্ন সহিংস ঘটনার প্রতিবাদে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পেট্রাপোল সীমান্ত এলাকায় উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের পক্ষ থেকে মিছিল ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়েছে।

আজ (শনিবার) সীমান্ত শহর বনগাঁর বাটা মোড় থেকে যশোর রোড ধরে কয়েক হাজার মানুষের মিছিল পেট্রাপোল সীমান্তের উদ্দেশ্যে যায়। এ সময়ে তারা গেরুয়া পতাকা ও বিভিন্ন দাবি ও প্রতিবাদমূলক লেখা সম্বলিত প্ল্যাকার্ড বহন করেন।     

আজ রাষ্ট্রীয় সংহতির ব্যানারে প্রতিবাদী জনতা পেট্রাপোল সীমান্ত এলাকায় পৌঁছলে সীমান্ত রক্ষী বাহিনী ‘বিএসএফ’ তাদেরকে আটকে দেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে আগেভাগেই লোহার ব্যারিকেড দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড অতিক্রম করে যাওয়ার চেষ্টা করলে বিএসএফ তাদেরকে বাধা দেয়। এ সময়ে তুমুল উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

পরে এক সংবাদ সম্মেলনে হিন্দুত্ববাদী এক নেতা বলেন, ‘গত ১০/১২ দিন ধরে বাংলাদেশে হিন্দুদের উপরে যে অত্যাচার হয়েছে তা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস। এর নেতৃত্ব দিয়েছেন কিন্তু শেখ হাসিনা।’ তাঁর প্রশ্ন- ‘কেন কুমিল্লায় ঠাকুর ভাঙা ও অত্যাচার হল? তারপরে পুলিশ নামিয়ে ১৪৪ ধারা জারি  করে, কারফিউ জারি করে তিনি সেই সন্ত্রাস বন্ধ করার প্রচেষ্টা করলেন না কেন? এর জবাব কিন্তু হাসিনাকে দিতেই হবে।’

বাংলাদেশি হিন্দুদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আমি ওখানকার হিন্দুদের উদ্দেশ্যে বার্তা দিচ্ছি, আপনারা সকলে মিলে এই দেশে চলে আসুন।  আপনাদের প্রত্যককে আমি এ দেশে থাকার ব্যবস্থা করে দেবো। এখানকার যে জেহাদিরা রয়েছে তাদেরকে এখান থেকে বিতাড়িত করে আপনাদের এখানে নিয়ে আসব। রাতের অন্ধকারে আপনারা একা একা আসবেন না।’

আজকের ওই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে শামিল হয়ে বিজেপি বিধায়ক ও মতুয়া নেতা সুব্রত ঠাকুর সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় সংহতি’র মাধ্যমে যে প্রতিবাদ মিছিল হয়েছে তাতে আমাদের বার্তা সমগ্র হিন্দু, সনাতন ধর্মের মানুষ এক হয়ে আমরা শেখ হাসিনাকে, বাংলাদেশ সরকারকে আমরা বুঝিয়ে দিতে চাই আমরা এক আছি এবং অবিলম্বে হিন্দুদের ওপরে যে নারকীয় ঘটনা ঘটছে তা বন্ধ করা হোক। যদি বন্ধ না হয় তাহলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলন করব এবং আমরা পেট্রাপোল সীমান্ত স্তব্ধ করে দেবো। আমরা কোনও কিছু ঢুকতে দেবো না, আমরা কোনও কিছু বেরোতেও দেবো না।’ বাংলাদেশ সরকার এসব ঘটনা বন্ধ না করলে মানুষ প্রতিশোধ নিতে বাধ্য হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।   

বিজেপি নেতা দেবদাস মণ্ডল বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার যদি হিন্দুদের ওপরে অত্যাচার বন্ধ না করে, এর বিচার না হয় তাহলে পেট্রাপোল সীমান্ত আমরা স্তব্ধ করে দেবো এবং বাংলাদেশ থেকে লোকজন আসা আমরা বন্ধ করে দেবো।’   

আজকের ওই বিক্ষোভ সমাবেশে বিজেপি বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়াসহ হিন্দুত্ববাদী অন্য নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পেট্রাপোল সীমান্তের বিপরীতে বাংলাদেশের বেনাপোল সীমান্ত। আজকের ওই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সীমান্তে যাতে কোনও গোলযোগ না হয় সেজন্য বিএসএফের পাশাপাশি পুলিশ বাহিনীও মোতায়েন করা হয়।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/এমআরএইচ/এআর/২৩          

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ