অক্টোবর ২৭, ২০২১ ১৬:২৪ Asia/Dhaka
  • মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত
    মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত

ভারতের বিজেপিশাসিত গোয়া সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্তের পদত্যাগের দাবি জানানো হয়েছে।

মেঘালয়ের রাজ্যপাল সত্যপাল মালিক বলেছেন, গোয়ায় প্রচুর দুর্নীতি রয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সেদিকে নজর দেওয়া উচিত। গতকাল (মঙ্গলবার) গণমাধ্যমে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি ওই মন্তব্য করেন। সত্যপাল মালিক এরআগে গোয়ার রাজ্যপাল ছিলেন।

ওই ইস্যুতে গোয়ার বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্তের পদত্যাগ দাবি করেছে তৃণমূল, আম আদমি পার্টি ও কংগ্রেস দল।

গোয়া বিধানসভার বিরোধী দলের নেতা এবং সাবেক মুখ্যমন্ত্রী দিগম্বর কামাত বলেছেন, রাজ্যপাল সত্যপাল মালিক সবসময় গোয়ার মানুষের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। তিনি সত্যি কথা বলেছেন এবং দুর্নীতি ফাঁস করেছেন। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বিজেপির এখন ক্ষমতায় থাকার কোনও নৈতিক অধিকার নেই। অবিলম্বে মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্তের পদত্যাগ দাবি করেছেন তিনি।  

সত্যপাল মালিক

অন্যদিকে, তামিলনাড়ু, পুদুচেরি এবং গোয়ার কংগ্রেস ইনচার্জ দীনেশ গুন্ডু রাও বলেছেন, রাজ্যপাল সত্যপাল মালিক গোয়ায় ব্যাপক দুর্নীতির কথা প্রকাশ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত কোভিড আক্রান্তদের জন্য তৈরি রেশন কিট থেকেও অর্থ উপার্জন করেছেন, যাতে দেখা যাচ্ছে যে, বিজেপি কতটা অমানবিক এবং অনৈতিক। তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এই বিষয়ে জানতেন, তবুও তিনি কিছুই করেননি।  

সম্প্রতি বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়া বাবুল সুপ্রিয় মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্তের পদত্যাগ দাবি করেছেন। বাবুল সুপ্রিয় বলেন, যেসব অভিযোগ উঠেছে তা খুবই গুরুতর। নৈতিকতার ভিত্তিতে মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত। বাবুল সুপ্রিয় বলেন, তিনি (সত্যপাল মালিক) প্রধানমন্ত্রীকে দুর্নীতির বিষয়ে জানিয়েছিলেন, কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার রয়ে গেছে এবং রাজ্যপালকে বদলি করা হয়েছে। গোয়ার জনগণের সত্যিটা জানার অধিকার রয়েছে।   

তৃণমূল এমপি ও দলীয় মুখপাত্র এবং গোয়ায় তৃণমূল সংগঠনের দায়িত্বশীল ডেরেক ও’ ব্রায়েন বলেছেন, 'বিজেপি’র গোয়া সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির এতবড় অভিযোগ আনছেন স্বয়ং বিজেপি নিযুক্ত রাজ্যপাল! তিনি সোচ্চার হওয়ায় তাঁকে মেঘালয়ে বদলি করা হয়। মুখ্যমন্ত্রীর ইস্তফা চায় তৃণমূল কংগ্রেস। একইসঙ্গে সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের বিচারবিভাগীয় তদন্ত করা হোক বলেও মন্তব্য করেন ডেরেক ও’ ব্রায়েন। 

গতকাল (মঙ্গলবার) পানাজির রাজভবনে গোয়ার রাজ্যপাল শ্রীধরন পিল্লাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি লুইজিনহো ফেলেইরা, অধ্যাপক সৌগত রায় এমপিরা। তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানিয়ে রাজ্যপালকে স্মারকলিপি দিয়েছেন।       

রাঘব চাড্ডা

আম আদমি পার্টির বিধায়ক ও দলটির জাতীয় মুখপাত্র রাঘব চাড্ডা মঙ্গলবার গোয়ার মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে বলেছেন, গোয়ার জনগণের যখন সরকারি সাহায্যের প্রয়োজন ছিল, তখন মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত লুটপাট ও কেলেঙ্কারিতে ব্যস্ত ছিলেন। এই সরকার তার মুখ্যমন্ত্রীদের ছাড় দিয়েছে যে তারা যেভাবে খুশি লুঠ করতে পারে। তিনি বলেন, আম আদমি পার্টি এই বিষয়ে গোয়া সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্তের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানাচ্ছে। বিধায়ক রাঘব চাড্ডা মুখ্যমন্ত্রী সাওয়ান্তের পদত্যাগ দাবি করে বলেছেন, কেন্দ্রীয় সরকার যদি তাঁকে বরখাস্ত না করে, তবে বিবেচনা করা হবে যে কেন্দ্র তার অর্থ পেয়েছে।     

এরআগে গোয়ার সাবেক রাজ্যপাল সত্যপাল মালিক গোয়া সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলেন, ‘গোয়ার বিজেপি সরকার কোভিডকে সঠিকভাবে মোকাবেলা করতে পারেনি এবং আমি আমার বক্তব্যে অটল। গোয়া সরকার যা করেছে তাতে দুর্নীতি ছিল। গোয়া সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির  অভিযোগের কারণে আমাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আমি একজন লোহিয়াবাদী, আমি চরণ সিংয়ের সাথে সময় কাটিয়েছি। আমি দুর্নীতি সহ্য করতে পারি না।’     

তিনি বলেন, ‘গোয়া সরকারের ঘরে ঘরে রেশন বিতরণের প্রকল্পটি অবাস্তব ছিল। এটি একটি কোম্পানির নির্দেশে করা হয়েছিল, যারা সরকারকে অর্থ  দিয়েছে। কংগ্রেস দলসহ অনেক লোক আমাকে তদন্ত করতে বলেছিল। আমি বিষয়টি তদন্ত করে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেছি। ওরা মানবে না যে তাদের দোষ ছিল। বিমানবন্দরের কাছে একটি এলাকা রয়েছে যেখানে ট্রাকগুলো খনির জন্য ব্যবহৃত হয়। আমি কোভিডের জন্য সরকারকে এটি বন্ধ করতে বলেছিলাম। কিন্তু সরকার রাজি হয়নি এবং পরে এটি কোভিডের হটস্পট হয়ে ওঠে।’ আজ দেশের মানুষ সত্যি কথা বলতে ভয় পায় বলেও রাজ্যপাল সত্যপাল মালিক মন্তব্য করেন।  

রাজ্যপাল সত্যপাল মালিকের এ ধরণের মন্তব্যের জেরে বিজেপি বিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল গোয়ার মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ করার দাবি জানিয়েছে। একইসঙ্গে দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২৭     

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

               

 

ট্যাগ