নভেম্বর ২৮, ২০২১ ১৫:৫৪ Asia/Dhaka
  • রবার্ট মলি
    রবার্ট মলি

পরমাণু সমঝোতায় আমেরিকাকে ফিরিয়ে আনার জন্য ভিয়েনায় চার যোগ এক গ্রুপের সঙ্গে ইরানের নতুন করে আলোচনা শুরুর প্রাক্কালে ওয়াশিংটন তেহরানকে হুঁশিয়ার করে দিয়েছে। ইরান বিষয়ক মার্কিন বিশেষ প্রতিনিধি রবার্ট মলি তেহরানের ওপর আরো চাপ বাড়ানোর হুমকি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি মনে করে পরমাণু কর্মসূচিকে দ্রুত গতিতে এগিয়ে নেয়ার জন্য আলোচনাকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাবে তাহলে ওয়াশিংটনও ওই দেশটির ওপর আরো চাপ বাড়ানোর ব্যবস্থা নেবে।

এর আগে মার্কিন কর্মকর্তারা ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা নীতির ব্যর্থতার কথা স্বীকার করলেও ফের তারা একই হুমকি দিলেন। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৮ সালের ৮মে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর ও নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও তিনি কোনো লক্ষ্যই অর্জন করতে পারেননি। কিন্তু তারপরও বর্তমান বাইডেন প্রশাসনও ওই নীতি অনুসরণ করে যাচ্ছে এবং পরমাণু সংক্রান্ত আলোচনায় নিজের একক ইচ্ছা মেনে নিতে ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে।

প্রকৃতপক্ষে, পরমাণু সমঝোতায় অচলাবস্থার জন্য আমেরিকাই দায়ী। কিন্তু তারপরও তারা নিজেদের অপরাধ স্বীকার না করে ভিয়েনা বৈঠকের প্রাক্কালে উল্টো ইরানকে দোষী বানানোর চেষ্টা করে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। ইরান বিষয়ক মার্কিন বিশেষ প্রতিনিধি রবার্ট মলি হয়তো এটা ভুলে গেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গিয়ে এবং বর্তমানে প্রতিশ্রুতি না মেনেই ফের পরমাণু সমঝোতায় ফিরে আসার যে চেষ্টা করছে তার মাধ্যমে তারা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

ইরান বিষয়ক মার্কিন বিশেষ প্রতিনিধি রবার্ট মলি পরমাণু বিষয়ে প্রতিশ্রুতি পালনের কোনো নিশ্চয়তা না দিয়ে এই সমঝোতায় ওয়াশিংটনের ফিরে আসার কথা বলছেন একই সঙ্গে ইরানকেও তাদের প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলার দাবি জানিয়েছেন। অথচ ওয়াশিংটন এখনো ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে এবং পরমাণু সমঝোতা মেনে চলার কোনো নিশ্চয়তা তারা দিচ্ছে না। অন্যদিকে ইউরোপও মুখে পরমাণু সমঝোতা টিকিয়ে রাখার কথা বললেও বাস্তবে এটিকে টিকিয়ে রাখতে এবং ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এ কারণে ইরানও পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়ন থেকে সরে এসেছে।

ইসরাইলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে মনস্তাত্বিক যুদ্ধের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। কিন্তু ইরান এ অভিযোগ দৃঢ়তার সাথে প্রত্যাখ্যান করে বলেছে তারা পরমাণু অস্ত্র উৎপাদন ও বিস্তাররোধ সংক্রান্ত এনপিটি চুক্তি ও আইএইএর সদস্য। তাই শান্তিপূর্ণ লক্ষ্যে পরমাণু কার্যক্রম চালানোর অধিকার তাদের রয়েছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মার্কিন সরকার যদি ইরানের ব্যাপারে সাবেক ট্রাম্প সরকারের নীতির প্রতি অটল থাকে তাহলে পরমাণু সংক্রান্ত আলোচনায় ফের অচলাবস্থা তৈরি হবে। তাই আমেরিকার উচিত ইরানকে হুমকি দেয়া থেকে সরে এসে নিজের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া যাতে ইরানও তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পারে। #       

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২৮ 

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ