ডিসেম্বর ০৮, ২০২১ ১৯:৪০ Asia/Dhaka

ইরানের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রধান পরমাণু আলোচক আলি বাকেরি কানি গতকাল মস্কো সফরে গিয়ে রুশ উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভের সঙ্গে সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন। ভিয়েনায় চলমান পরমাণু সমঝোতা বিষয়ে শলাপরামর্শ করার জন্যই তিনি মস্কো সফরে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পরমাণুসহ বিভিন্ন বিষয়ে অভিন্ন অবস্থানে পৌঁছার জন্য চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। ভিয়েনায়ও এই তিন দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে শলাপরামর্শ হয়েছে। ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার বিষয়ে গত ২৯  নভেম্বর থেকে ভিয়েনায় চার যোগ এক গ্রুপের সঙ্গে ইরানের আলোচনা শুরু হয় এবং গত শুক্রবার তা শেষ হয়। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার বিষয়ে ইরান আন্তরিকতার সঙ্গে ভিয়েনায় সদ্য সমাপ্ত আলোচনায় অংশ নিয়েছিল এবং দৃঢ় ইচ্ছা শক্তি নিয়ে একটি ভালো সমঝোতায় পৌছার জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল ইরানের শক্তিশালী আলোচক দল। এবারের ভিয়েনা আলোচনায় ইরান মার্কিন নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি তুলে নেয়া এবং পরমাণু সমঝোতায় আমেরিকার ফিরিয়ে আনার বিষয়ে দুটি  প্রস্তাব তুলে ধরেছে।

পরমাণু সমঝোতার পরও ইউরোপের দেশগুলো ও আমেরিকা এখনো ইরানের অধিকারের বিষয়টি উপেক্ষা করে চলেছে। এমনকি তারা নতুন নতুন শর্ত আরোপ করায় ভিয়েনা আলোচনায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেন আমির আব্দুল্লাহিয়ান দৈনিক কমেরসেন্টকে দেয়া সাক্ষাতকারে বলেছেন, বর্তমানে পরমাণু সমঝোতায় অচলাবস্থা তৈরির মূল কারণ হচ্ছে এটিকে ধ্বংস করার জন্য আমেরিকা এমন কোনো চেষ্টা নেই যা তারা করেনি।

পরমাণু বিষয়ে ইরান গ্রহণযোগ্য ও ভালো একটি সমঝোতায় পৌছার চেষ্টা করছে। ইরানের দাবি সব পক্ষকেই তাদের প্রতিশ্রুতি মেনে চলতে হবে। এ কারণে ইরান ভিয়েনায় সপ্তম দফা আলোচনায় নতুন কোনো বিষয় উত্থাপন করেনি বরং এর আগে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ দফা আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবং পরমাণু সমঝোতার কাঠামোর মধ্য থেকেই দুটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লি ঝিয়াং ভিয়েনায় ইরানের উত্থাপিত দুটি প্রস্তাবের ব্যাপারে আমেরিকা ও ইউরোপের দৃষ্টিভঙ্গির কথা উল্লেখ করে বলেছেন, এর আগে অনুষ্ঠিত ছয় দফা আলোচনা থেকে আমরা এটা বুঝতে পেরেছি সব পক্ষই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার বিষয়ে গুরুত্বের সাথে আলোচনা করছে কিন্তু আমেরিকা এ ক্ষেত্রে বিরাট বাধা তৈরি করে সংকটের জন্ম দিয়েছে। তাই আমরা চাই ইরান, চীন ও অন্য দেশগুলোর ওপর আমেরিকা যেসব নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হোক।

ইরান পরমাণু সমঝোতায় দেয়া সব প্রতিশ্রুতিই বাস্তবায়ন করেছে এবং বর্তমানে তারা ইরানের জনগণের বৈধ অধিকার আদায়ের জন্য ন্যায়সঙ্গত একটি সমঝোতায় পৗছার চেষ্টা করছে। ইরান চায় সব পক্ষের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পরিপূর্ণ নিশ্চয়তা।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরানের কাছে আমেরিকা ও ইউরোপের অযৌক্তিক দাবি দাওয়া থেকে বোঝা যায় ভিয়েনা আলোচনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য তারা সমন্বিত কৌশল নিয়েছে। কিন্তু পাশ্চাত্যের এ আচরণ ইরানকে প্রভাবিত করতে পারবে না বরং সংলাপ প্রক্রিয়াকে আরো জটিল করে তুলবে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন,  নিষেধাজ্ঞা তুলে না নিলে পরমাণু সমঝোতায় আমেরিকার ফিরে আসার কোনো সুযোগ নেই।#

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৮

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ