ডিসেম্বর ০৯, ২০২১ ১৯:১৩ Asia/Dhaka

ইরান ও তুরস্কের প্রেসিডেন্টরা এক টেলিফোন সংলাপে সন্ত্রাসবাদ দমন এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিস্তারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। এই টেলিফোনালাপে ইরানের প্রেসিডেন্ট সাইয়্যেদ ইব্রাহিম রাইসি অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য ক্ষেত্রে তেহরান-আঙ্কারা সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, খুব শিগগিরি তেহরানে নতুন করে সহযোগিতা বিস্তারের উপায় নিয়ে দুদেশের যৌথ কমিশনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

এ টেলিফোনালাপে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানও নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ইরানের সঙ্গে সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেছেন, দুদেশের মধ্যে যৌথ সহযোগিতার ধারণাটি বর্তমানে আঞ্চলিক দেশগুলোর সামনে রয়েছে। এ সময় তিনি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক সফর বিনিময়ের বিষয়টি উল্লেখ করেন। এরদোগান বলেন তার আসন্ন তেহরান সফরের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বিস্তারে নয়া অধ্যায়ের সূচনা হবে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, অভিন্ন ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক বন্ধন, ভূ-কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান এবং বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদের অধিকারী হওয়ার কারণে এই দুই দেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। আঞ্চলিক, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্যও এই দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইরানের পররাষ্ট্র নীতিতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠাকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। বর্তমানে সন্ত্রাসবাদসহ এ  অঞ্চলের বহু সমস্যার মূল কারণ হচ্ছে বিদেশিদের হস্তক্ষেপ। তাই বাইরের হস্তক্ষেপ ছাড়াই আমাদের নিজেদেরকেই আলোচনার মাধ্যমে আঞ্চলিক সমস্যার সমাধান করতে হবে বলে তেহরান মনে করে।

এ কারণে ইরান ও তুরস্কের কর্মকর্তারা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছেন। তারা আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্ক বৃদ্ধির উপায় নিয়েও কথাবার্তা বলেছেন। এর আগে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান এশকাবাদে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিষয়ক জোট ইকোর শীর্ষ সম্মেলনের অবকাশে ইরানের প্রেসিডেন্ট রাইসির সঙ্গে সাক্ষাতে মিলিত হন। ওই সাক্ষাতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট ইরানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা বিস্তারের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আমরা সহযোগিতাকে বহুদূর পর্যন্ত এগিয়ে নিতে পারি।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরান ও তুরস্কের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থেকে বোঝা যায় আঞ্চলিক রাজনীতিতে এ দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ থাকলেও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সম্পর্ক বিস্তারকে তারা খুবই গুরুত্ব দেয়। বর্তমানে দুদেশের মধ্যে শিল্প, কৃষি, পর্যটন, জ্বালানি ও পেট্রোকেমিকেল  খাতে ব্যাপক সহযোগিতা বজায় রয়েছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্টের আসন্ন তেহরান সফরকালে এ সহযোগিতার মাত্রা বহুগুণে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। #  

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৯

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ