জানুয়ারি ১৭, ২০২২ ১৮:০৮ Asia/Dhaka

পরমাণু সমঝোতা থেকে আমেরিকার বেরিয়ে যাওয়া ছিল মারাত্মক ভুল। অবৈধভাবে ওয়াশিংটনের বেরিয়ে যাবার দুই বছর নয় মাস পর মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সলিভান এ কথা স্বীকার করলেন।

গতকাল এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন: ট্রাম্প সরকার পরমাণু সমঝোতা থেকে একতরফাভাবে বেরিয়ে গিয়ে ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের যে নীতিকৌশল অবলম্বন করেছিল ওয়াশিংটন এখন তার ভয়াবহ মাশুশ গুনছে। ভিয়েনায় চলমান অষ্টম দফা আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি একথা বলেন।  

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সবসময় পরমাণু সমঝোতাকে ওয়াশিংটনের জন্য নিকৃষ্টতম চুক্তি বলে অভিহিত করতেন। অবশেষে ২০১৮ সালের ৮ মে'তে ওই চুক্তি থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেয়। সেইসঙ্গে বিশ্বজুড়ে প্রবল বিরোধিতা সত্ত্বেও পরমাণু সমঝোতা বিষয়ক জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২২৩১ নম্বর প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেয় ট্রাম্প। উল্টো ইরানের ওপর নজিরবিহীন চাপ প্রয়োগের নীতি বাস্তবায়ন করে।  মার্কিন প্রশাসনের লক্ষ্য ছিল ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচি স্থগিত করা এবং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ও আঞ্চলিক নীতির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ ওয়াশিংটনের বারোটি শর্তের কাছে ইরানকে নত করতে বাধ্য করা। কিন্তু বিগত তিন বছরে ওয়াশিংটনের কোনো লক্ষ্যই অর্জিত হয় নি। বরং এইসব পদক্ষেপ ছিল স্নায়ুযুদ্ধ পরবর্তী মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা।

জ্যাক সলিভানের মতো মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিঙ্কেনও তাদের ভুল স্বীকার করেছেন। ২০২১ সালের ৭ ডিসেম্বরে তিনি পরমাণু সমঝোতা থেকে আমেরিকার বেরিয়ে যাওয়াকে মারাত্মক ভুল বলে মন্তব্য করেছিলেন। মজার ব্যাপার হলো ভুল স্বীকার করার পরও তারা কিন্তু ট্রাম্পীয় সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের নীতিই প্রয়োগ করে যাচ্ছে। জো-বাইডেন সরকার গত এক বছরেও ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহার করে নি। যদিও নির্বাচনী প্রচারণাকালে তিনি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছিলেন: তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে পুনরায় সমঝোতায় ফিরিয়ে নেবেন। ট্রাম্প সরকারের আরোপিত কিছু নীতি বহাল রাখাই চিন্তাই ভিয়েনা আলোচনায় উন্নতির পথে বাধা হয়ে আছে।

মিশিগান ভার্সিটির প্রফেসর জুয়ান কোলের মতে সমঝোতায় ফেরার জন্য বাইডেনের উচিত তিনটি কাজ করা। অ্যাক, সমঝোতার ব্যাপারে তাদের বর্তমান অবস্থানগত ভুল স্বীকার করে নেয়া। দুই, ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহার করা এবং তিন, অ-পারমাণবিক বিষয়গুলো এড়িয়ে যাওয়া।

কিন্তু আমেরিকার শুভবুদ্ধির উদ্রেক কতোটা ঘটবে সেটাই এখন দেখার বিষয়।#

পার্সটুডে/এনএম/১৭

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

 

 

ট্যাগ