জানুয়ারি ১৯, ২০২২ ২২:৪৭ Asia/Dhaka
  • ‘পর পর দু’বছর শ্রেষ্ঠ শ্রোতা হতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত, গর্বিত’

প্রিয় মহোদয়, আসসালামু আলাইকুম। আমার প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানবেন। আমি রেডিও তেহরানের একজন নিয়মিত শ্রোতা। একজন ডিএক্সার হিসেবে অন্যান্য আন্তর্জাতিক বেতার কেন্দ্রের সাথে সাথে কিশোর বয়স থেকেই রেডিও তেহরান শুনছি। অনুষ্ঠান শোনার পাশাপাশি রেডিও তেহরানের বাংলা ও ইংরেজি বিভাগে চিঠিও লিখতাম। ফিরতি ডাকে ইরান থেকে আসত অনুষ্ঠানসূচি ও নানা উপহারসামগ্রী। রেডিও তেহরানের বেশকিছু উপহারসামগ্রী এখনো আমার সংগ্রহে আছে।

সেই ১৯৮২ সাল থেকে রেডিও তেহরান শুনলেও মাঝেমধ্যে তাতে ছেদ পড়েছে। তবে ভালোবাসার টানে বারবার বিচ্ছেদ ভেঙে আবারো ফিরে এসেছি রেডিও তেহরানের কাছে। সে এক আনন্দয় স্মৃতি। সর্বশেষ কোভিড-১৯ এর বিস্তারের সময় রেডিও তেহরানের সাথে সখ্যতা আবারো বৃদ্ধি পায়। কোনোরকম ছেদ ছাড়াই দু’বছর ধরে এ সখ্যতা অব্যাহত আছে। আশা করি, এ সখ্যতায় যেন আর কখনো ছেদ না পড়ে।

আসলে ভালোবাসার টানেই রেডিও তেহরান শুনি। ছোটবেলায় সোহরাব-রুস্তমের কাহিনি শুনে বড় হয়েছি। শাহনামা’র ফেরদৌসী ছাড়াও শেখ সাদিও আমাদের কাছে অতি জনপ্রিয় কবি। তাঁর পোষাকের গল্প আমাদের নৈতিক শিক্ষার মূল পাঠ্য। ফলে সেই বাল্যকাল থেকেই ইরানের প্রতি রয়েছে দুর্নিবার আকর্ষণ। ইরান আর ইসলাম যেন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কেননা অধুনা বিশ্বে ইসলামের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে ইরান।

সেই ইরান সম্পর্কে জানার জন্য কার না আগ্রহ থাকে? আমারও ছিল, এখনো আছে। আর সেই আগ্রহ নিবারণ করতে পেরেছে এবং পারছে রেডিও তেহরান। ইসলাম, ইরান ও বিশ্বকে জানার জন্য তাই রেডিও তেহরান আমার নিত্যদিনের সঙ্গী। মূলতঃ ইসলামকে জানার জন্য, ইরানকে জানার জন্য এবং বিশ্বকে জানার জন্য রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠান শুনি। নিজের তাগিদেই শুনি, হৃদয়ের আকুতি থেকে শুনি।

কোনো প্রত্যাশায় নয়, কোন হিসাব কষে নয়; রেডিও তেহরান শুনি নিজের মনের আকুতি মেটানোর জন্য। চিঠিও লিখি নিজের অনুভূতি জানানোর জন্য। রিসেপশন রিপোর্ট পাঠাই শখের বশে।

কিন্তু সেই বেতার কেন্দ্রটি যখন তার শ্রোতাকে মূল্যায়ন করে বর্ষসেরা শ্রোতা হিসেবে ঘোষণা করে, তখন সত্যিই ভালো লাগে, আনন্দ হয়। রেডিও তেহরান যখন আমাকে ২০২০ সালের জন্য শ্রেষ্ঠ শ্রোতা হিসেবে ঘোষণা করেছিল, তখনই মনটা আনন্দে নেচে উঠেছিল। হৃদয় আবেগে আপ্লুত হয়ে গিয়েছিল। তখন ভাবিওনি, ২০২১ সালের জন্যও আমাকে আবার শ্রেষ্ঠ শ্রোতার পুরস্কারে ভূষিত করা হতে পারে। তবে ২০২১ সালেও আমি ভালোলাগা আর ভালোবাসার টানেই নিয়মিত অনুষ্ঠান শুনেছি, চিঠিপত্র লিখেছি, মতামত দিয়েছি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় থেকেছি। তারই প্রতিদানে আবারো শ্রেষ্ঠ শ্রোতার পুরস্কার। পর পর দু’বছর (২০২০ ও ২০২১ সালে) শ্রেষ্ঠ শ্রোতা হতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত, গর্বিত। আমাকে এ সম্মান প্রদান করায় রেডিও তেহরান বাংলা বিভাগের সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই।  

 

ধন্যবাদান্তে,

মোঃ শাহাদত হোসেন

সহকারী অধ্যাপক, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ

গুরুদয়াল সরকারি কলেজ, কিশোরগঞ্জ,  বাংলাদেশ।

 

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৯

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ