মে ১৪, ২০২২ ১৯:২২ Asia/Dhaka

ইরানের মানবাধিকার বিষয়ক দফতরের সচিব কাজেম গারিবাবাদি বলেছেন, আমেরিকা যেখানে নিজেই অসংখ্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের দৃষ্টান্ত হয়ে আছে সে অবস্থায় তারা অন্যদেরকে মানবাধিকার বিষয়ে পরামর্শ দেয়ার অধিকার রাখে না। আমেরিকার আদিবাসী এক স্কুল প্রাঙ্গণে বেশ কয়েকটি গণকবরের সন্ধান পাওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় ইরানের এ কর্মকর্তা এ কথা বলেছেন।

কাজেম গারিবাবাদি টুইটবার্তায় বলেছেন, আমেরিকার আদিবাসী শিশুদেরকে তাদের পরিবার থেকে আলাদা করা হয়েছিল যাতে তারা মাতৃভাষায় কথা করতে না পারে। এসব শিশুদেরকে বিভিন্ন ধরনের খারাপ কাজে লাগানো হতো। এমনকি তাদের ওপর যৌন নিপীড়নও চালানো হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত তাদেরকে গণকবর দেয়া হয়। এমন জঘন্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের নজির থাকার পরও মার্কিন সরকার অন্য দেশের মানবাধিকার নিয়ে কথা কথার ধৃষ্টতা দেখায়।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এভাবে শিশুদেরকে তাদের পরিবার থেকে দূরে রাখা, তাদের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করা এবং শেষ পর্যন্ত তাদের গণকবর দেয়ার ঘটনার মধ্য দিয়ে আমেরিকার আদিবাসীদের নির্মূল করার ভয়াবহ ইতিহাস রচনা করা হয়। এই ইতিহাস এতোটাই অনস্বীকার্য ও প্রকাশ যে এমনকি খোদ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন মহল এ ঘটনার কথা স্বীকার করেন। মার্কিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভ হল্যান্দ এক নিবন্ধে লিখেছেন, আমেরিকার আদিবাসীদের দিবারাত্র স্কুলগুলোতে সরকারি তদন্তে অন্তত ৫৩টি গণকবরের সন্ধান পাওয়া গেছে। নিষ্পাপ এসব শিশুদের ওপর শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ পর্যন্ত নিহত ৫০০টির বেশি শিশুর নাম নথিভুক্ত করা হয়েছে।

মার্কিন সরকার নিজেদেরকে মানবাধিকার এবং ব্যক্তি, সামাজিক ও নাগরিক অধিকারের রক্ষক দাবি করলেও তাদের কর্মকাণ্ড ও আচরণে ঠিক এর বিপরীত চিত্র দেখা যায়। উদাহরণ স্বরূপ, স্থানীয় আদিবাসী, কৃষ্ণাঙ্গ, সংখ্যালঘু ও অভিবাসীদের  সঙ্গে সরকারের  রূঢ়, অমানবিক ও বৈষম্যমূলক আচরণের কথা উল্লেখ করা যায়। অভিবাসী সন্তানদেরকে তাদের পিতামাতা থেকে আলাদা করা, অশেতাঙ্গদের ওপর পুলিশি নির্যাতন, কারাবন্দিদের অধিকার হরণ, ব্যক্তি স্বাধীনতা হরণ প্রভৃতি অপরাধযজ্ঞের সঙ্গে মার্কিন সরকার জড়িত থাকলেও তারা  নিজেদেরকে মানবাধিকারের রক্ষক বলে প্রচার চালাচ্ছে।

এ ছাড়া সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারিকালে দেখা গেছে বৈষম্যের কারণে আমেরিকাতে জাতিগত সংখ্যালঘুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ থেকে স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, বাসস্থান, চাকরি প্রভৃতি থেকে বৈষম্যের প্রমাণ পাওয়া যায়। মার্কিন নেতৃত্বে পাশ্চাত্যের দেশগুলো মানবাধিকারের কথা বললেও প্রতি বছর বিভিন্ন রিপোর্টে দেখা যায় পাশ্চাত্যে বিশেষ করে আমেরিকায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের অসংখ্য নজির রয়েছে এবং মানবাধিকারকে তারা রাজনৈতিক ও প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। আমেরিকা হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবাধিকার  লঙ্ঘনকারী দেশ। এ কারণে আমেরিকায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের অতীত ও বর্তমান অবস্থার যে নিন্দা জানিয়েছেন ইরানের মানবাধিকার বিষয়ক দফতরের সচিব কাজেম গারিবাবাদি তা যথার্থ বলে  পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।#

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৪

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ