মে ২০, ২০২২ ১৬:০৬ Asia/Dhaka

জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক এলনা দোহান ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে খাদ্য, ওষুধ, পানি ও স্বাস্থ্য খাতে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

জাতিসংঘের এ কর্মকর্তা তার প্রতিবেদনে ইরানে ১২ দিনের সফর শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাদের তার আলোচনার বিষয়বস্তু তুলে ধরতে গিয়ে নিষেধাজ্ঞা অবসানের জন্য আমেরিকার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, 'ইরানের বিরুদ্ধে যেসব নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে তা জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ এবং সাধারণ পরিষদের দৃষ্টিতে অবৈধ এবং এর কোনো ব্যাখ্যা থাকতে পারে না। ইরানের বিরুদ্ধে একতরফা নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।'

জাতিসংঘের এ কর্মকর্তা আরো বলেছেন, ইরানের পণ্য বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা, ব্যাংকিং খাতে নিষেধাজ্ঞা, খাদ্য ও ওষুধ আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির সরকারের আয় কমে গেছে এবং জিনিসপত্রের মূল্য বেড়ে গেছে। ফলে ইরানের সাধারণ মানুষ এবং অভিবাসীরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

প্রকৃতপক্ষে, ১৯৭৯ সালে  ইসলামি বিপ্লব বিজয়ের পর থেকেই ইরান মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলা করে আসছে। আমেরিকার এসব নিষেধাজ্ঞায় প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে ইরানের জনগণ স্বাস্থ্য ও অন্যান্য পরিসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। শুধু ইরান নয় আরো বহু দেশ মার্কিন অন্যায় নিষেধাজ্ঞার শিকার। ম্যাথিউস নুইন্সকিরেস ও ফ্লোরিয়ান নুমায়ের মতো খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদরা মনে করেন,  মার্কিন এসব নিষেধাজ্ঞার কারণে ওই  সব দেশে শ্রেণী বৈষম্য বাড়ার সাথে সাথে দরিদ্রতা এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

তবে, ইরান সবচেয়ে বেশি বিদ্বেষের শিকার হয়েছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় ইরানের বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ছাড়াও দেশটির সরকারের অনেক আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে গেছে। জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক এলনা দোহান মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় ইরানের ক্ষতির পরিমাণ ১০ হাজার থেকে ১০ হাজার ২০০ কোটি ডলার উল্লেখ করেছেন।

ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ জাওয়াদ সালেহি ইস্ফাহানি বলছেন, ২০১০ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সময়ে মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় সবচেয়ে বেশি  ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গ্রামের অধিবাসীরা। ২০১০ সাল থেকে গ্রাম এলাকায় দরিদ্র মানুষের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে এবং শহরে এ হার ৬০ শতাংশ।

এভাবে মার্কিন বেআইনি ও অবৈধ নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে ইরানে ব্যাপক মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি জনগণের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বহুগুণে বেড়েছে।  প্রকৃতপক্ষে, ইরানের কর্মকর্তাদের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করার জন্যই এ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আমেরিকা যাতে ইরান সরকার তাদের ইসলামি বিপ্লবী লক্ষ্য আদর্শ থেকে সরে আসে। মানবাধিকার বিষয়ে জাতিসংঘের কর্মকর্তারা গত বছর অক্টোবরে তাদের প্রতিবেদনে স্বাস্থ্যখাতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার নেতিবাচক প্রভাবের কথা উল্লেখ করেছিলেন।

ইরান সরকারের মুখপাত্র আলী বাহাদুরি জাহরামি বলেছেন, জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক এলনা দোহানের এ প্রতিবেদন থেকে আমেরিকার কেলেঙ্কারির বিষয়টি প্রকাশ হয়ে পড়েছে এবং তারা মানবাধিকারের কথা বললেও ইরানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ চাপ অব্যাহত রেখেছে।#       

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২০

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ