মে ২৫, ২০২২ ১৫:৩৬ Asia/Dhaka

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ও ইতালির মধ্যে তৃতীয় দফা সংলাপ তেহরানে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আলী বাকেরি কানি এবং ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহা সচিব আত্তাওয়ারা সাকুইর মধ্যে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এ সাক্ষাতে আগামী বিশ্বের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা একক আধিপত্য ও সামরিক পন্থায় অর্জন করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, আন্তর্জাতিক হুমকি ও বিরাজমান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হলে আন্তরিক কূটনৈতিক সংলাপ এবং  ইরান ও ইউরোপের মধ্যে টেকসই সহযোগিতার কোনো বিকল্প নেই।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরানের উপপরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে মূলত মার্কিন স্বেচ্ছাচারী ও একক আধিপত্য নীতির কথা উল্লেখ করেছেন যারা কিনা গত দুই দশকে ইরাক ও আফগানিস্তানসহ বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে যুদ্ধ বাধিয়েছে এবং সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দিয়ে সিরিয়া সরকারের পতন ঘটানোর চেষ্টা করেছিল। একই সঙ্গে সমগ্র পশ্চিম এশিয়া জুড়ে সন্ত্রাসীদের বিস্তার ঘটিয়ে নিজেদের অবৈধ লক্ষ্য অর্জন ও ইসরাইলের অবস্থানকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করেছিল আমেরিকা। এ ছাড়া, মার্কিন সরকার বিশেষ করে সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শাসনামলে চীনের মতো দেশগুলো এমনকি ইউরোপের মিত্র দেশগুলোর সঙ্গেও বাণিজ্য ও রাজনৈতিক বিরোধে জড়িয়ে পড়ে ওয়াশিংটন। ফলে ইউরোপ ও আমেরিকা ন্যাটো জোটের সদস্য হলেও তাদের মধ্যে ফাটল তৈরি হয়েছিল।

যদিও বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর মধ্যকার অভ্যন্তরীণ বিরোধী কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধে আমেরিকার নীতিতে প্রমাণিত হয়েছে যে, রাশিয়ার জ্বালানির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞায় ইউরোপকে শামিল করার মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে ইউরোপেরই ক্ষতি করার চেষ্টা করছে আমেরিকা। এ থেকে বোঝা যায় মার্কিন সরকার বিশ্বে একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার নীতি থেকে সরে আসেনি বরং এ প্রচেষ্টাকে আরো জোরদার করেছে।

এ অবস্থায়  ইউরোপের উচিত স্বাধীনভাবে নিজেদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। ইতালির কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাতে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আলি বাকেরি কানি এ বিষয়টিই তুলে ধরেছেন। তিনি ইরান ও ইউরোপের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ও সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ ও সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, এ ক্ষেত্রে বিরাজমান বাধাগুলো দূর করা উচিত। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরান ও ইউরোপের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে বড় বাধা হিসেবে আমেরিকার ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করেন।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এ প্রসঙ্গে পরমাণু সমঝোতার কথা উল্লেখ করা যায়। ইউরোপীয়রা নিজেদের স্বার্থে পরমাণু সমঝোতাকে পুনরুজ্জীবিত করতে চাইলেও এ ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে আছে আমেরিকা। মার্কিন সরকার ইরানের ওপর তাদের অবৈধ দাবি দাওয়া চাপিয়ে দিয়ে একক কর্তৃত্ব ও আধিপত্য বাস্তবায়নের স্বপ্ন দেখছে। সে কারণে ইরান বহুবার ইউরোপকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, ইরান বিরোধী মার্কিন অন্যায় নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে না নিলে এবং আমেরিকা ফের পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাবে না সে প্রতিশ্রুতি না দিলে তেহরানও পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়ন করবে না।

ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাসচিবের সঙ্গে সাক্ষাতে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী এও বলেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বর্তমান বিশ্ব মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন। এত করে সারা বিশ্বে বিশেষ করে ইউরোপের জ্বালানি, খাদ্য ও জাতীয় নিরাপত্তা সংকট প্রকট আকার ধারণ করবে। একই সঙ্গে তিনি ইরান ও ইউরোপের মধ্যে সহযোগিতা বিস্তারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। এ ছাড়া তিনি আফগানিস্তান ও ইয়েমেনে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা করারও আহ্বান জানান।#   

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২৫

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

 

ট্যাগ