মে ২৬, ২০২২ ১৭:২৬ Asia/Dhaka
  •  ইরানি কর্নেল খোদায়িকে হত্যার নেপথ্যে

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি’র কুদস ফোর্সের কমান্ডার কর্নেল হাসান সাইয়্যাদ খোদায়িকে হত্যার কথা আমেরিকাকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের শাসক গোষ্ঠী জানিয়েছে। মার্কিন সংবাদ মাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস এ খবর দিয়েছে।

নিউইয়র্ক টাইমস একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বলেছে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর একজন মুখপাত্র কর্নেল খোদায়িকে হত্যায় নিজেদের জড়িত থাকার বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা পত্রিকাটিকে বলেছেন, ইহুদিবাদী শাসক গোষ্ঠী মার্কিন কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন যে তাদেরই ভাড়া করা গুপ্তচররা কর্নেল খোদায়িকে হত্যা করেছে। 

ইহুদিবাদী ইসরাইল বর্তমানে সন্ত্রাসীদের লালনভূমিতে পরিণত হয়েছে। মোট কথা সন্ত্রাসবাদ এবং ইহুদিবাদী ইসরাইল মুদ্রার এপিট ওপিট। অন্যকথায় ইসরাইলের সৃষ্টি ও সমৃদ্ধিই হয়েছে সন্ত্রাসবাদের মধ্য দিয়ে। এ পর্যন্ত বহু প্রতিরোধকামী ফিলিস্তিনি এবং লেবাননি নেতা ইসরাইলের গুপ্তহত্যার শিকার হয়েছেন। এমনকি সম্প্রতি তেল আবিব শাসক গোষ্ঠী ফিলিস্তিনি প্রতিরোধকামী সংগঠন হামাস নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়াত্রাকে গাজায় হত্যার হুমকি দিয়েছে। 

ফিলিস্তিনি ও লেবাননের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও, বিপুল সংখ্যক বিজ্ঞানী বিশেষ করে ইরানের বহু বিজ্ঞানীর পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক সাংবাদিক ইহুদিবাদী শাসকদের হাতে গুপ্তহত্যার শিকার হয়েছেন। সম্প্রতি ইসরাইলি কর্মকর্তারা কাতার ভিত্তিক আলজাজিরার সাংবাদিক ৫১ বছর বয়স্ক শিরিন আবু আক্বলেহকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে যাতে দেশপ্রেমিক ও স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি সাংবাদিকরা ইসরাইলি অপরাধযজ্ঞ তুলে ধরার সৎ সাহস দেখাতে না পারেন এবং বিশ্ববাসীও যেন ইসরাইলি অপরধযজ্ঞের খবরগুলো জানতে না পারে।

ফিলিস্তিনি সাংবাদিক সমিতিগুলো জানিয়েছে, ২০০০ সাল থেকে এ পর্যন্ত ইসরাইলি সেনারা অন্তত ৪৫ জন ফিলিস্তিনি সাংবাদিককে হত্যা করেছে এবং প্রতি বছর ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের ওপর ৫০০ থেকে ৭০০টি হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটিয়েছে দখলদার সেনারা।

নিঃসন্দেহে, সিরিয়ায় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী এবং পবিত্র মাজারের রক্ষক শহীদ সাইয়্যাদ খোদায়ির হত্যাকাণ্ড ইহুদিবাদী গুপ্তচরদের মাধ্যমে হত্যার সর্বশেষ ঘটনা নয়। ইহুদিবাদী শাসকগাষ্ঠী প্রধানত দুটি কারণে এসব নৃশংস গুপ্তহত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে। প্রথম, সন্ত্রাসবাদ ইহুদিবাদী আগ্রাসন ও দখলদারিত্বের ফসল। দ্বিতীয়ত, ইহুদিবাদী শাসকগোষ্ঠীর প্রতি পাশ্চাত্য বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ সমর্থনের কারণেই তেল আবিব এসব হত্যাকাণ্ড ঘটানোর আসকারা পাচ্ছে। এই সমর্থনের একটি প্রমাণিত নিদর্শন হল ইহুদিবাদী ইসরাইলের কর্মকর্তারা মার্কিন সরকারকে জানায় যে তারা শহীদ সাইয়্যাদ খোদায়িকে হত্যা করেছে।

কিন্তু কেন ইহুদিবাদী শাসক গোষ্ঠী কেনো শহীদ সাইয়্যাদ খোদায়িকে হত্যা করল? যদিও ইহুদিবাদীরা দাবি করেছে যে শহীদ খোদায়ি হিজবুল্লাহকে উন্নত এবং নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি হস্তান্তর করেছেন বা কর্নেল খোদায়ি ইহুদিবাদীদের বিরুদ্ধে কথিত 'সন্ত্রাসী' অভিযানের পরিকল্পনা করছিলেন। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।

একদিকে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইইউ-এর প্রধান আলোচক এনরিক মোরা এবং কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির তেহরানে সফরের পর ভিয়েনা আলোচনার পুনরুজ্জীবিত হওয়ার লক্ষণ দেখা দিয়েছে যা ইহুদিবাদীরা এটিকে তাদের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মনে করছে। তাই তারা এ আলোচনার পথকে ব্যর্থ করে দিতে চাইছে।

অন্যদিকে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসী তালিকা থেকে ইসলামি বিপ্লবী গার্ডবাহিনীর নাম বাদ দেওয়ার বিষয়টি পরমাণু সমঝোতায় শর্তারোপ করেছে। নিউইয়র্ক টাইমস কিছু বিশ্লেষকের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছে যে খোদায়িকে হত্যা করার ইসরাইলের পদক্ষেপের লক্ষ্য ছিল পরমাণু আলোচনার সময় ইরানের সাথে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে যুক্তরাষ্ট্রকে বাধা দেয়া এবং আইআরজিসিকে মার্কিন সন্ত্রাসী তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পদক্ষেপ বানচাল করা।#

পার্সটুডে/বাবুল আখতার/২৬

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

 

ট্যাগ