আগস্ট ০৯, ২০২২ ২০:০৮ Asia/Dhaka
  • মহাকাশে ইরানের নিজস্ব নির্মিত উপগ্রহ খাইয়াম স্থাপনের নানা বার্তা

ইরান মহাকাশের কক্ষপথে নিজস্ব নির্মিত খাইয়াম নামক উপগ্রহ স্থাপন করেছে। পৃথিবী থেকে ৫০০ কিলোমিটার ওপরে এই কৃত্রিম উপগ্রহকে বয়ে নিয়ে গেছে রাশিয়ার নির্মিত স'ইয়ুজ নামক রকেট।

কাজাকিস্তানের মহাকাশ স্টেশন বাইকোনুর থেকে এটি উৎক্ষিপ্ত হয় আজ (মঙ্গলবার) তেহরান সময় দুপুর একটা ত্রিশ মিনিটে। 

ইরানের যোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী জারেপুর এইসব খবর দিয়ে জানিয়েছেন, ইরান এখন মহাকাশের কক্ষপথে হাল্কা ওজনের নানা কৃত্রিম উপগ্রহ বসাতে পারে। খাইয়ামের ওজন ৬০০ কেজি। খাইয়াম এরিমধ্যে তথ্য ও ছবি পাঠানো শুরু করেছে। পুরোপুরি নিজস্ব প্রযুক্তি ও নিজস্ব বিশেষজ্ঞদের হাতে তৈরি ইরানের এই উপগ্রহ কৃষি ও পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়সহ গবেষণামূলক নানা কাজে ব্যাপক অগ্রগতি বয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইরানি এই উপগ্রহ পুরোপুরি ইসলামী এই রাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং এর তথ্য অন্য দেশের নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে ও অন্য কোনো দেশের সামরিক উদ্দেশ্যে তা ব্যবহার করা হতে পারে এমন গুজব দৃঢ়তার সঙ্গে নাকচ করে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। 

ইরানের খাইয়াম উপগ্রহ কৃষি ছাড়াও পানি-সম্পদ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা, মরুকরণ রোধ, সীমান্ত অঞ্চলের ওপর নজরদারি ও খনিজ উত্তোলনের জরিপের কাজে ব্যাপক অগ্রগতি বয়ে আনবে বলে স্থানীয় বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
পাশ্চাত্যের কঠোর নানা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইসলামী ইরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিসহ মহাশূন্য বিষয়ক নানা গবেষণায় অনেক এগিয়ে গেছে। বর্তমানে দেশটি মহাকাশ গবেষণায় বিশ্বের সবচেয়ে দশটি উন্নত দেশের অন্যতম। গত চার দশকে ইরানি বিজ্ঞানী ও গবেষকরা মহাকাশ গবেষণায় দেশটিকে এই পর্যায়ে এগিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছেন।

ইরান এখন কৃত্রিম উপগ্রহ নিক্ষেপের স্টেশন তৈরি করার কাজে ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করেছে। এক্ষেত্রে সক্ষম বিশ্বের ৬টি দেশের পরেই রয়েছে ইরানের অবস্থান। ইরান কৃত্রিম উপগ্রহ ও উপগ্রহবাহী রকেটও নির্মাণ করছে। ইরানি বিজ্ঞানীরা আশা করছেন তারা চলতি বছরেরই শেষ নাগাদ পৃথিবী থেকে ৫০০ কিলোমিটার ওপরের কক্ষপথেও বহুমুখী জরিপের কৃত্রিম উপগ্রহ বসানোর কাজেও সফল হবেন।  

মহাকাশ গবেষণায় ইরানের এইসব সাফল্যে ক্ষোভ আর হিংসার আগুনে জ্বলে পুড়ে মরছে মার্কিন সরকার ও ইহুদিবাদী ইসরাইল। গাত্রদাহে ভুগছে মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা সরকারগুলোও! এইসব সাম্রাজ্যবাদী শক্তির ব্যাপক বাধা সত্ত্বেও মহাশূন্য গবেষণায় ইরানের অগ্রগতি শিগগিরই স্বনির্ভরতার মাত্রায় পৌঁছে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। 

মহাকাশ গবেষণাসহ বিজ্ঞান ও তথ্য-প্রযুক্তি খাতে ইরান ও রাশিয়ার কৌশলগত দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাও দিনকে দিন গভীর হচ্ছে। ইরানের কৃত্রিম উপগ্রহ খাইয়ামের সফল উৎক্ষেপণ এর অন্যতম দৃষ্টান্ত। #

পার্সটুডে/এমএএইচ/৯
 

ট্যাগ