অক্টোবর ০৩, ২০২২ ১৯:২২ Asia/Dhaka
  • ইরানের প্রেসিডেন্ট  সাইয়্যেদ ইব্রাহিম রাইসি
    ইরানের প্রেসিডেন্ট  সাইয়্যেদ ইব্রাহিম রাইসি

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের শত্রুদের উসকানিতে গত দুই সপ্তাহে দেশটির কয়েকটি শহরে বিশৃঙ্খলা ও গোলযোগের ফলে সৃষ্ট মানবিক ও আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির কারণে আবারও প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ জানানোর জন্য যে আইন রয়েছে তা কঠোরভাবে মেনে চলা বর্তমান প্রেক্ষাবটে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো ধরনের অস্ত্র বহন ছাড়াই নাগরিকরা সমাবেশ এবং মিছিল করার স্বাধীনতা রয়েছে তবে শর্ত রয়েছে যে এসবের মাধ্যমে ইসলামের নীতিমালাগুলোকে যেনো ব্যাহত না করে। এছাড়া সংগঠন বিষয়ক আইনের ৬ অনুচ্ছেদের ২ নাম্বারে বলা হয়েছে "স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে কোনো অস্ত্র বহন করা ছাড়া মিছিল মিটিং করা যাবে। ১০ অনুচ্ছেদ কমিশন অনুসারে, যদি ইসলামের নীতিমলা বিঘ্নিত না হয় তাহলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে কোনো সংগঠন পাবলিক স্কোয়ার এবং পার্কগুলো জমায়েত হতে পারবে। 

এর উপর ভিত্তি করে বিগত বছরগুলিতে ইরানের রাষ্ট্রপতি প্রতিষ্ঠান বা সাংসদ ভবনের সামনে বহু ট্রেড ইউনিয়নের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং জমায়েত ব্যক্তিরা তাদের ট্রেড ইউনিয়নের দাবি ও বিভিন্ন সমালোচনা তুলে ধরেছে। কিন্তু এসব সমাবেশগুলোতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা পরিলক্ষিত  হয়নি।

গত দুই সপ্তাহের দাঙ্গা ও বিশৃঙ্খলা চলমান আইনি কাঠামোর বাইরে অব্যাহত রয়েছে।  ইরানি কুর্দি মেয়ের মৃত্যকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদের অজুহাতে এই দাঙ্গা শুরু হয়েছিল। তাদের সাথে জড়িত শত্রু, ভাড়াটেরা এবং সন্ত্রাসীরাও বর্তমান পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে সমাজের মধ্যে বিভেদ এবং অনৈক্য সৃষ্টির করছে। পাশাপাশি শত্ররা ইরানি জনগণকে বর্তমান শাসন ব্যবস্থার মুখোমুখি দাড় করানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে যখন,ইরানী কুর্দি তরুণীর মামলাটি উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের দ্বারা তদন্ত করা হচ্ছে এবং আগামী  কয়েক দিনের মধ্যেই এর ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

কাজেই যেসব ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের কারণে অনেক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য শহীদ হয়েছেন এবং জনগণের সম্পদ ধ্বংস হয়েছে অথবা সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যেভাবে ইসলামিক পবিত্র জিনিসগুলোর বিরুদ্ধে অবমাননাকর স্লোগান দেয়া হয়েছে এবং অপমান করা হয়েছে, সেগুলো কোনোভাবেই ইসলামি সরকারের আইনি কাঠামোর সাথে খাপ খায় না। তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।  

এমনকি বাকস্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের দাবিদার দেশগুলোতেও এ ধরনের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। যেমন ২৫ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্সের দাঙ্গাবাজরা যখন ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও বিরোধিতা করার অজুহাতে লন্ডন এবং প্যারিসে ইরানের কূটনৈতিক স্থাপনায় আক্রমণ করার পরিকল্পনা করছিল তখন তারা সেখানকার নিরাপত্তা বাহিনীর শক্ত প্রতিরোধের মুখোমুখি হয়েছিল এবং তাদের মধ্যে অনেকেই গ্রেফতার পর্যন্ত হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট  সাইয়্যেদ ইব্রাহিম রাইসি সাম্প্রতিক ঘটনাবলী সম্পর্কে স্পষ্ট করে বলেছেন, 'প্রতিবাদ ও অশান্তির মধ্যে পার্থক্য রেখাকে সংজ্ঞায়িত করা উচিত।প্রতিবাদ, সমালোচনা ও বিরোধী বক্তব্যের এখানে সুযোগ আছে এবং এতে কোনো সমস্যা নেই। এসব প্রতিবাদের ভাষা শোনা উচিত। এটি শুনলে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে, কিন্তু দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং মানুষের জানমালের ওপর ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড বিশ্বের কোথাও গ্রহণযোগ্য নয়।'#

পার্সটুডে/এমবিএ/৩

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ