জুলাই ১৮, ২০১৯ ১৭:২৩ Asia/Dhaka
  • ডক্টর আরমান জারগারান ছবি- সৈয়দ মূসা রেজা
    ডক্টর আরমান জারগারান ছবি- সৈয়দ মূসা রেজা

প্রাচীন এবং ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা শাস্ত্রকে অনেকেই চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক অজানা খনি বলে মনে করেন। বিশ্বব্যাপী এ দিকে নজর দেয়া শুরু হয়েছে। প্রাচীনকালের অনেক খাদ্য রোগীর পথ্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। একই ভাবে কোনো কোনো ওষুধকে আজও সঠিক ভাবে প্রয়োগ করা হয়ে সেরে উঠতে পারে নানা রোগ। কিংবা মান বাড়তে পারে রোগীর। তাই অতীতের চিকিৎসা ব্যবস্থা মোটেও অবহেলার বিষয় নয়। বরং গবেষণার বিষয় হতে পারে। এ কাজে ইরান অনেক এগিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে ইসলামি বিপ্লবের পর এদিকে গবেষণার জোয়ার ডেকেছে বললেও বেশি বলা হবে না।

সর্বডানে ডক্টর জারগারান - ছবি সৈয়দ মূসা রেজা

রেডিও তেহরানের স্বাস্থ্যকথা বিভাগকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এ সব সফলতার কথা তুলে ধরেন তেহরান ইউনিভার্সিটি অব মেডিক্যাল সায়েন্সের ডিপার্টমেন্ট অব ট্রাডিশনাল মেডিসিনের সহকারী অধ্যাপক এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ক ভাইস ডিন ডক্টর আরমান জারগারান। তিনি জানান, পারস্যের চিকিৎসা বিদ্যা বিষয়ক ফ্যাকাল্টিটি স্নাতকোত্তর পাঠ দানের কেন্দ্র। এর আওতায় ১৫টি ফ্যাকাল্টি রয়েছে। এতে প্রায় ১০০ ছাত্র অধ্যায়ন করছেন। তারা ইরানের ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা শাস্ত্র, ঐতিহ্যবাহী ওষুধ বিদ্যা এবং ঐতিহ্যবাহী ওষুধ তৈরির বিদ্যা বা ফার্মেসির ওপর পড়াশোনা করছেন । এ বিভাগে অধ্যায়নরত ছাত্ররা সবাই চিকিৎসক। পারাস্যের ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা শাস্ত্রের ওপর তারা পিএইচডি করছেন। বর্তমানে এ বিভাগে একজন বাংলাদেশি ছাত্রও যোগ দিয়েছেন।

প্রাচীন চিকিৎসাশাস্ত্রের কেতাব- ছবি সৈয়দ মূসা রেজা

গত এক দশকে এখান থেকে পাঁচশ'র বেশি গবেষণা-পত্র প্রকাশিত হয়েছে। প্রাচীন চিকিৎসা বিদ্যা এবং ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা বিদ্যার কার্যকারিতা সংক্রান্ত বিষয়ে  এ সব গবেষণা-পত্র প্রকাশিত হয়।

ইরানের ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং ওষুধের কথা প্রাচীন ওষুধ শান্ত্রে বলা হয়েছে তাকে আধুনিক চিকিৎসার মান উপযোগী করার তৎপরতা চলছে। ইরানের জগতবিখ্যাত চিকিৎসা-বিজ্ঞানী আবু আলী ইবনে বইতে যেসব ওষুধের এবং চিকিৎসা পদ্ধতির কথা হয়েছে তা নিয়ে গবেষণা চলছে এখানে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এখানে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর কাজ করা হয়েছে। স্কুল অব মেডিসিন এবং হাসপাতালের সমন্বয়ে এ সব কাজ করা হয়। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগেরও সহযোগিতা নেয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে মিগ্রেন, জিআই, এমএস, আলসার বা ক্ষত প্রভৃতি নিয়ে কাজ হয়েছে। এ ছাড়া, এমএস ভুগছেন যে সব রোগীর জীবন-মান উন্নত করার লক্ষ্যে কাজ করা হয়েছে। কাজ হয়েছে ক্যান্সার রোগীদের জীবনের মান উন্নয়ন নিয়ে। উদাহরণ হিসেবে হানিজেলির কথা বলেন তিনি। একে মান সম্পন্ন করা হয়েছে এবং গত বছর এটি ইরানের খাদ্য ও ওষুধ বিভাগের অনুমোদন পেয়েছে।

হানিজেলি ব্যবহারে এমএস রোগীদের জীবনের মান উন্নয়ন হয়। এটি প্রায় তিনটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল প্রকাশ করা হয়েছে। হানিজেলির কার্যকারিতা নিয়ে এসব পরীক্ষা নিরীক্ষা হয়েছে। ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার মাধ্যমে এর কার্যকারিতা নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এরই মধ্যে ইরানের কয়েকটি কোম্পানি পাঁচটি ওষুধের শিল্প পর্যায়ে উৎপাদন শুরু হয়েছে।  এ ছাড়া,  ইরানের অনেক কোম্পানির সঙ্গে এ বিষয়ে কাজ চলছে। ওষুধগুলোকে বাণিজ্যিক ভাবে উৎপাদনের কাজে তারা সহায়তা করছে। এর মধ্যে দায়াদারু নামের একটি কোম্পানির ওষুধ বাজারে ছাড়া হয়েছে।  তেহরান চিকিৎসা বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের নজরদারি এবং সহায়তায় এ সব ওষুধ তৈরি করা হচ্ছে। ইরানের খাদ্য এবং ওষুধ বিষয়ক সংস্থা এর অনুমতি দিয়েছে এবং এ সব ওষুধ এখন ইরানের ফার্মেসিগুলোতে পাওয়া যায়। 

অধ্যাপক জারাগারন সব শেষে বলেন, আধুনিক চিকিৎসা বিদ্যার ক্ষেত্রে ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা বিদ্যাকে একটি সুযোগ হিসেবে অভিহিত করা যায়। আধুনিক চিকিৎসাবিদ্যার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এর দ্বারা অনেক রোগের চিকিৎসা করা সম্ভব। এই দুই চিকিৎসা বিদ্যার থেকে কোনটা কার্যকর হবে তা  বিজ্ঞ চিকিৎসক নির্বাচন করতে পারবেন এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ডব্লিউএইচওর চিকিৎসা কৌশলও এটাই। এ ছাড়া, দুই চিকিৎসা বিদ্যার মধ্যে সমন্বয় ঘটানোও ডব্লিউএইচওর চিকিৎসা কৌশল। একই চিকিৎসা কৌশল গ্রহণ করেছে  তেহরান চিকিৎসা বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের পারস্যের চিকিৎসা বিদ্যা ফ্যাকাল্টি।#

পার্সটুডে/মূসা রেজা/১৮

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

 

 

ট্যাগ

মন্তব্য