২০১৯-০৯-১৯ ১৮:১০ বাংলাদেশ সময়
  • ড্রোন হামলায় সৌদি তেল শোধনাগার আগুনে জ্বলছে
    ড্রোন হামলায় সৌদি তেল শোধনাগার আগুনে জ্বলছে

ইয়েমেনের বিপ্লবী যোদ্ধারা সৌদি আরবের জাতীয় তেল কোম্পানি আরামকো পরিচালিত দু'টি তেল শোধনাগারে ১০টি পাইলটবিহীন বিমান বা ড্রোনের সাহায্যে হামলা চালানোর পর এ ঘটনার জন্য আমেরিকা আবারো ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে আরো কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য অর্থমন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ গতকাল (বুধবার) টুইটার বার্তায় বলেছেন, "তার দেশের জনগণের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক যুদ্ধ তীব্রতর করার পদক্ষেপ নেয়ার মাধ্যমে আমেরিকা এটা মেনে নিয়েছে যে তারা ইরানের সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য বানিয়েছে।" ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "আমেরিকার চাপিয়ে দেয়া অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ বেআইনি ও অমানবিক।" তিনি এ সন্ত্রাসবাদ বন্ধ করে সবার জন্য নিরাপত্তা বিধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

গত শনিবার সৌদি আরবের আরামকো তেল স্থাপনায় ইয়েমেনি যোদ্ধাদের পাল্টা ড্রোন হামলায় ওই দেশটির অর্ধেক তেল উত্তোলন বন্ধ হয়ে গেছে। সৌদি আরব গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ইয়েমেনে গণহত্যা চালিয়ে আসছে। এর জবাবে ইয়েমেনিদের পক্ষ থেকে পাল্টা প্রতিশোধ নেয়া স্বাভাবিক ব্যাপার। তেল স্থাপনায় হামলার ঘটনা সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সৌদি দুর্বলতাকে ঢাকার জন্য এবং তেল স্থাপনা রক্ষায় পাশ্চাত্যের প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইয়েমেনিদের হামলাকে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করছেন এবং এ ঘটনার জন্য ইরানকে অভিযুক্ত করছেন।

ইরানের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ ও হুমকির পর সৌদি তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলাকে কেন্দ্র করে এখন নতুন করে ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের নির্দেশ দেয়া হল। ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি মন্ত্রীসভার এক বৈঠকে ইরানকে অভিযুক্ত করার প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, এসব অভিযোগের পরিবর্তে জাতিগুলোর নিজস্ব শক্তির ওপর ভরসা করা উচিত কারণ জনগণের প্রতি আস্থা রাখা ছাড়া কোনো সরকারই টিকে থাকতে পারে না।

আরামকো তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার পর ইয়েমেনের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি তার দেশের ড্রোন সক্ষমতার কথা তুলে ধরে বলেছেন, "সৌদি অপরাধযজ্ঞের জবাবেই এ হামলা চালানো হয়েছে।" কিন্তু ইয়েমেনের এ স্বীকারোক্তির পরও আমেরিকা ইরানকে অভিযুক্ত করছে এবং এটা তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এটা সবাই জানে যে এ অঞ্চলে সংকট সৃষ্টির মূল হোতা আমেরিকা যারা কিনা আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হুমকির জবাবে ইরানের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারাও চুপ করে থাকেনি। ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির হাতামি বলেছেন, এ অঞ্চলে নিরাপত্তা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইরানের ভূমিকার বিষয়টি সবারই জানা আছে। তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যদি হুমকি দেয়া অব্যাহত থাকে তাহলে মার্কিন অত্যাধুনিক ড্রোন ভূপতিত করার মতো ফের শক্ত জবাব দিতে কুণ্ঠাবোধ করবে না তেহরান।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মার্কিন সরকারের বর্তমান নীতি পশ্চিম এশিয়া ও পারস্য উপসাগর অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করবে না। কারণ এ অঞ্চলে সংকট সৃষ্টির প্রধান কারণ হচ্ছে যুদ্ধবাজ সৌদি আরবের প্রতি মার্কিন সমর্থন। #   

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৯

ট্যাগ

মন্তব্য