২০১৯-০৯-২১ ১৭:২১ বাংলাদেশ সময়
  • ন্যান্সি পোলিসি
    ন্যান্সি পোলিসি

সৌদি আরবের দু'টি তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার ঘটনায় মার্কিন সরকার ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক অপপ্রচার চালানোর পর শেষ পর্যন্ত তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি পারস্য উপসাগরে আরো বেশী সৈন্য পাঠানোর কথা ঘোষণা করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিরুদ্ধে আরো কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি গত শুক্রবার এ নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, এটি হবে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কঠিন ও সর্বোচ্চ নিষেধাজ্ঞা। একইসঙ্গে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেয়ারও হুমকি দিয়েছেন। এদিকে, মার্কিন অর্থমন্ত্রণালয়ও এক বিবৃতিতে বলেছে, ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক, জাতীয় উন্নয়ন তহবিল এবং পার্স এতেমাদ কোম্পানির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

ওদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এক বিবৃতিতে বলেছেন, "ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে যাতে তেহরানকে চরম মূল্য দিতে হয়।" মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপার সৌদি তেল স্থাপনায় হামলার জন্য ইরানকে অভিযুক্ত করে বলেছেন, "সৌদি আরবকে রক্ষার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পশ্চিম এশিয়ায় আরো বেশি মার্কিন সেনা পাঠাতে সম্মত হয়েছে।"

এদিকে, বিভিন্ন খবরে জানা গেছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে সৌদি আরবকে রক্ষার জন্য ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ টিম সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া, সৌদি আরবের পানি সীমায় টহল দেয়ার জন্য আরো একটি জাহাজ বিধ্বংসী জাহাজ পাঠিয়েছে আমেরিকা। তবে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের প্রধান ন্যান্সি পোলিসি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, সৌদি আরবকে রক্ষার দায়িত্ব আমাদের ওপর বর্তায় বলে আমরা মনে করি না।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মার্কিন কর্মকর্তাদের নিষেধাজ্ঞা, হুমকি ও পরস্পর বিরোধী কথাবার্তা থেকে বোঝা যায় তারা ইরানের ব্যাপারে অর্থনৈতিক ও সামরিক দু'টি পন্থাই খোলা রেখেছে। এ কারণে সৌদি তেল স্থাপনায় হামলার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানকে অভিযুক্ত করে নানা বক্তব্য দেয়ার পর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিলেন। তবে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা একেবারেই লোক দেখানো। কারণ এর আগেও আমেরিকা ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। তারপরও নতুন নিষেধাজ্ঞাকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নজিরবিহীন উল্লেখ করলেও ইরানের কর্মকর্তারা একে নিষ্ফল ও অকার্যকর বলে অভিহিত করেছেন।

অন্যদিকে, সামরিক চাপ সৃষ্টির ব্যাপারেও মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা বাড়তি সেনা ও অস্ত্রশস্ত্র পাঠিয়ে ইয়েমেনিদের হামলা ঠেকাতে পারবে। কিন্তু সৌদি তেল স্থাপনায় হামলার ঘটনায় প্রমাণিত হয়েছে, কোটি কোটি ডলার ব্যয় করে মোতায়েন মার্কিন সামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেখানে অচল। এ কারণে শুধু যে মার্কিন সামরিক সক্ষমতা প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে তাই নয় একইসঙ্গে ইয়েমেনিদের হামলা প্রতিহত করার ব্যাপারে তাদের দুর্বলতাও প্রমাণিত হয়েছে। তাই নতুন করে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ইয়েমেনিদের হামলা ঠেকাতে পারবে বলে মনে হয় না।#      

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২১

ট্যাগ

মন্তব্য