অক্টোবর ২৪, ২০১৯ ১৬:৩৮ Asia/Dhaka
  • মোহাম্মদ হোসেইনি নেজাদ
    মোহাম্মদ হোসেইনি নেজাদ

বিশ্বের স্বাধীন দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য পাশ্চাত্যের অন্যতম একটি হাতিয়ার বা অস্ত্র হচ্ছে 'মানবাধিকার' ইস্যু। বিশেষ করে স্বাধীন মুসলিম দেশগুলোর বিরুদ্ধে আমেরিকা মানবাধিকার বিষয়টিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি এ ব্যাপারে দ্বিমুখী নীতি গ্রহণ করেছে।

প্রতিটি দেশই তাদের নিজস্ব আর্থ-রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থা অনুযায়ী আইন প্রণয়ন করে থাকে। কিন্তু পাশ্চাত্য সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে নিজেদের মতো করে মানবাধিকারের ব্যাখ্যা দিয়ে অন্য দেশের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য রিপোর্ট প্রকাশ করে যার কোনো মূল্য নেই। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী সম্প্রতি প্রশাসনের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে ইসলামি দিকনির্দেশনার ভিত্তিতে আইন প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরান একটি ইসলামি রাষ্ট্র এবং ঐশী গ্রন্থ কোরআন শরীফের নির্দেশনা মেনে এদেশের আইনকানুন প্রণয়ন করা হয়েছে। আল্লার দেয়া শরীয়ত ও বিধিবিধান ইরানের আইনের প্রধান উৎস। ইরানের সংবিধান ও বিচারবিভাগ ইসলামি শরীয়ত অনুযায়ী ঢেলে সাজানো হয়েছে। ইসলামি শরীয়ত মেনেই অপরাধীদেরকে ফাঁসি কিংবা অন্যান্য শান্তি দেয়া হয়। এটা ইরানের ইসলামি সরকারের অন্যতম দায়িত্ব। বিচারক উপযুক্ত তদন্ত শেষে কোনো খুনি অপরাধীকে যদি ফাঁসির রায় দেয় তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির পরিবারবর্গ চাইলে ওই ব্যক্তিকে ফাঁসির হাত থেকে রেহাই দিতে পারে বা ক্ষমা করে দিতে পারে যা কিনা ইসলামি রীতিরই অংশ। কিন্তু অনেক দেশ এ রীতি মানে না এবং ইরানের সঙ্গে ওই দেশগুলোর আইনের পার্থক্য রয়েছে।

ইসলামি ইরানের সরকার মানবাধিকারকে কোরআন ও ইসলামি শরীয়তের আলোকে মূল্যায়ন করে থাকে যার সঙ্গে পাশ্চাত্যের মানবাধিকার সংক্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গির যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে। তাই মানবাধিকার বিষয়ে পাশ্চাত্য নিজস্ব চিন্তাভাবনাকে ইরানের মতো দেশগুলোর ওপর চাপিয়ে দিতে পারে না। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের কমিটিতে ইরানের প্রতিনিধি মোহাম্মদ হোসেইনি নেজাদ জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের বিশেষ প্রতিবেদক জাভেদ রহমানের ইরান বিরোধী প্রতিবেদনের সমালোচনা করেছেন। তিনি মানবাধিকার বিষয়ে ইরান বিরোধী এ প্রতিবেদনকে মার্কিন অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন, স্বৈরাচার সরকারগুলো ইরানের মানবাধিকার পরিস্থিতির ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে পারে না।

গতকাল বুধবার জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের বিশেষ প্রতিবেদক জাভেদ রহমানের প্রতিবেদনে আবারো ইরানের ইসলামি বিচারবিভাগের সমালোচনা করা হয়েছে। তিনি তার প্রতিবেদনে ইরানে মাদক চোরাকারবারিদের ফাঁসির সমালোচনা করে একে মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন।

অথচ ইরানে ইসলামিক বিচারবিভাগের আইন অনুযায়ী মাদক চোরাকারবারির ফাঁসি একটি স্বাভাবিক বিষয় এবং শরীয়ত মেনেই অপরাধীর সাজা দেয়া হয়। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, জাতিসংঘের এ কর্মকর্তার প্রতিবেদন থেকে বোঝা যায়, পাশ্চাত্য ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য মানবাধিকার ইস্যুটিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করছে।#

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২৪

ট্যাগ

মন্তব্য