২০১৯-১১-০৮ ১৯:৫৮ বাংলাদেশ সময়
  • ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাইয়্যেদ আব্বাস মুসাভি
    ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাইয়্যেদ আব্বাস মুসাভি

পশ্চিমা শক্তিগুলো মার্কিন সরকারের নেতৃত্বে ইরানের পরমাণু বিষয়ের অন্তর্জাতিক সমঝোতাকে অকার্যকর করে একে প্রতারণার মুলো হিসেবে ঝুলিয়ে রাখায় সম্প্রতি ইরান এ চুক্তির ধারাগুলোর পর্যায়ক্রমিক স্থগিতকরণ প্রক্রিয়ার চতুর্থ ধাপ চালু করেছে।

এই ধাপে ইরান  নাতাঞ্জ ও ফোরদু পরমাণু স্থাপনায় নতুন করে সেন্ট্রিফিউজ বসিয়ে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের প্রক্রিয়া জোরদার করায় পশ্চিমা শক্তিগুলো অযৌক্তিক হৈ-চৈ শুরু করেছে। এরই অংশ হিসেবে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মরগ্যান অর্টাগাস ইরানের  সাম্প্রতিক পরমাণু তৎপরতাকে তার ভাষায় 'পারমাণবিক চাঁদাবাজি' বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি তেহরানের ওপর চাপ বাড়াতে আন্তর্জাতিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।  
 
এরই জবাবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাইয়্যেদ আব্বাস মুসাভি বলেছেন, মার্কিন সরকার যখন সব ধরনের অপকর্মের নেতৃত্ব দানকারী এবং অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদের স্রস্টা ও সহযোগী তখন ইরানের বিরুদ্ধে এ ধরনের অপবাদ কি বিস্ময়কর নয়?

২০১৫ সালে পরমাণু সমঝোতা সই হওয়ার পর ওই সমঝোতার আলোকে ইরান তার পরমাণু কর্মসূচি সীমাবদ্ধ  করেছিল। মার্কিন ও পশ্চিমা সরকারগুলো ওই সমঝোতার আলোকে পরমাণু সম্পর্কিত সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে বলে কথা ছিল। কিন্তু তারা কিছুকাল কোনো কোনো নিষেধাজ্ঞা শিথিল করলেও প্রতিশ্রুত সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়নি, বরং নতুন নতুন নিষেধাজ্ঞা দিতে থাকে। এমনকি  ট্রাম্পের শাসনামলে তার নেতৃত্বে ওয়াশিংটন ওই সমঝোতা থেকে একতরফাভাবে পুরোপুরি বেরিয়ে যায় এবং ইরানের ওপর অতীতের সব নিষেধাজ্ঞা জোরদারের পাশাপাশি নতুন নতুন নিষেধাজ্ঞার জোয়ার বইয়ে দেয়।

আর সে সময় থেকে এখন পর্যন্ত ইউরোপিয় শক্তিগুলো বরাবরের মতই কপটতায় অবিচল থেকে মৌখিক কিছু আশ্বাস ও সান্ত্বনার বাণী শোনানো ছাড়া মার্কিন এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া তো দূরে থাক্‌, নিন্দাসুচক জোরালো বক্তব্য রাখতেও ব্যর্থ হয়েছে।

এখন মার্কিন সরকার ইরানের ওপর কথিত 'সর্বোচ্চ চাপ' প্রয়োগে ব্যর্থ হয়ে বিশ্ব-সমাজকে তেহরানের বিরুদ্ধে ক্ষেপানোর চেষ্টা করছে। 

নাতাঞ্জ পরমাণু চুল্লি

তেহরানের ওপর ওয়াশিংটনের কথিত 'সর্বোচ্চ চাপ' প্রয়োগের নীতি ব্যর্থ হওয়ার কারণ হল বিপ্লবী এই জাতির সর্বোচ্চ প্রতিরোধের পাশাপাশি রাশিয়া ও চীনসহ মার্কিন বিরোধী শক্তিগুলোর এবং স্বাধীনচেতা কোনো কোনো সরকারের ইরান-বান্ধব ন্যায্য ও যৌক্তিক নীতি। ইরানের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে বলে সম্প্রতি আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক উল্লেখ করেছে। ইসলামী এই দেশটির অর্থনীতি এখন অনেকাংশেই জ্বালানী তেল-নির্ভরতা থেকে মুক্ত হয়ে বহুমাত্রিক হয়ে উঠছে। 

'ফরেন পলিসি'সহ মার্কিন পত্রপত্রিকাই বলছে যে, ইরান মার্কিন নিষেধাজ্ঞাগুলো সাফল্যের সঙ্গে মোকাবেলা করছে এবং তার শান্তিপূর্ণ পরমাণু তৎপরতা জোরদারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিসরেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখছে।  

যে কোনো বিষয়ে, বিশেষ করে পরমাণু বিষয়ে চাপ দিয়ে ইরানকে যে নতজানু করা যাবে না তা মার্কিন বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকরাও স্বীকার করেন। কারণ তারা জানেন সব বিষয়ে ইরান স্বনির্ভর হয়ে উঠেছে এবং ইসলামী এই দেশটির পরমাণু প্রযুক্তিও পুরোপুরি দেশীয়।

অন্যদিকে মার্কিন সরকারের একপেশে ও বলদর্পি নীতি ওয়াশিংটনকেই বিশ্ব-অঙ্গনে ক্রমেই কোণঠাসা করছে। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ পরমাণু সমঝোতা-সম্পর্কিত ইরানের তৎপরতার প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছেন,  মার্কিন সরকার ওই সমঝোতা থেকে বের হয়ে কেবল আন্তর্জাতিক আইনই লঙ্ঘন করেনি, একইসঙ্গে নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়ে বিশ্বের দেশগুলোকেও এই সমঝোতা বাস্তবায়ন থেকে দূরে রাখছে। সম্প্রতি একই ধরনের কথা বলেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। 

এটা স্পষ্ট পরমাণু বিষয়ে মার্কিন ও ইউরোপিয় ভণ্ডামির জবাবে ইরানের তৎপরতাগুলো খুবই স্বাভাবিক, ন্যায়সঙ্গত ও যৌক্তিক এবং এমনকি তা পরমাণু সমঝোতার ধারাগুলোর সঙ্গেও সঙ্গতিপূর্ণ। আসলে বলদর্পি মার্কিন সরকারের হুমকি ও চাঁদাবাজির দিন শেষ হয়ে গেছে। #

পার্সটুডে/এমএএইচ/৮

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।
         


 

ট্যাগ

মন্তব্য