২০১৯-১১-১২ ১৯:৩৬ বাংলাদেশ সময়

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ইউরোপীয় ত্রয়িকা মানে জার্মানি,ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্য ৪+১ গ্রুপের সদস্য হিসাবে পরমাণু সমঝোতা রক্ষার প্রয়োজনীয়তার উপর বরাবরই জোর দিয়ে এসেছে।

তারা পরমাণু সমঝোতা রক্ষায় এখনও বিশ্বাসযোগ্য  কোনো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে,তারপরও তারা ইরানকে পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়ন স্থগিত রাখার বিষয়ে সতর্ক করছে।

ইউরোপীয় ত্রয়িকা পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইইউর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান ফেদেরিকা মোগেরিনীসহ গতকাল একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন। ওই বিবৃতিতে ইরানের ফোরদো পারমাণবিক স্থাপনায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রমের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তারা বলেছেন ফোরদোয় নেওয়া সাম্প্রতিক পদক্ষেপ পরমাণু সমঝোতা থেকে ইরানের সরে যাওয়াকে ত্বরান্বিত করবে।

ফোরদু পরমাণু স্থাপনা

বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় পরমাণু সমঝোতার গুরুত্ব স্বীকার করলেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের প্রতিশ্রুতি পালনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে নি। আমেরিকার ওপর ইউরোপীয়দের নির্ভরতার কারণে তারা ইরানের সাথে ইনস্টেক্স বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। তারা ইরানকে তৎপরতা দেখিয়েছে ঠিকই কিন্তু শেষ পর্যন্ত মার্কিন চাপের মুখে ইনস্টেক্স চালু করে নি। আশ্চর্যের বিষয় হ'ল ইউরোপীয়রা অযৌক্তিক দাবি তুলে বলেছে ইরান যেন পরমাণু সমঝোতা মেনে চলে।

তারা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার নেতিবাচক প্রভাব হ্রাস করার জন্য কোনও পদক্ষেপ নেয় নি অথচ ইরানকে একতরফাভাবে সমঝোতা মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছে। ইউরোপের ওই ব্যর্থতার কারণে ইরান এ নিয়ে চার দফা পরমাণু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন স্থগিত রাখার পদক্ষেপ নিয়েছেۀ

ইউরোপীয়রা ব্যাপক প্রচারণা ও দাবি তোলা সত্ত্বেও এমন কী করেছে যে তারা এখন তেহরানকে পরমাণু সমঝোতা পুরোপুরি মেনে চলার কথা বলছে? তারা ইরানকে পরমাণু সমঝোতায় দেওয়া  প্রতিশ্রুতি বিশেষ করে অতিরিক্ত প্রোটোকলের কাঠামোর ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থাকে সম্পূর্ণরূপে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে। ইউরোপীয় ত্রয়িকা এবং মোগেরিনি এখন ইরানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন স্থগিত রাখার পদক্ষেপের ব্যাপারে উদ্বিগ্ন।

ইসহাক আল হাবিব

এখানে প্রশ্ন উঠতে পারে যে ইরান পরমাণু সমঝোতার ক্ষেত্রে এমন কী প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে বাস্তবায়ন করে নি?  ইউরোপীয়দের বিবৃতিতে নতুন যে বক্তব্যটি এসেছে তা আসলে ইরানের বিরুদ্ধে সতর্কতা। তবে তারা জানিয়েছে ইরানের পক্ষ থেকে পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়ন স্থগিত রাখা সংক্রান্ত 'বিরোধ নিষ্পত্তির' ব্যাপারটি বিবেচনা করতে প্রস্তুত।

বিশ্লেষক মহল মনে করছেন ইউরোপীয় এই সতর্কতার মধ্যে ইরানের ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞাগুলো পুনরায় চাপানোর ইঙ্গিত বহন করেছে। তবে ইউরোপীয়দের মনে রাখা উচিত যে ২০১৮ সালের মে'তে ওয়াশিংটন পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ইরান মার্কিন একতরফা নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রতিহত করেছে এবং ওয়াশিংটনের অবৈধ দাবির কাছে মাথা নত করে নি।

এতে প্রমাণ হয় যে ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা কিংবা হুমকির পদ্ধতি কাজে আসে নি। সুতরাং ইউরোপীয়রা যদি প্রকৃতই পরমাণু সমঝোতা রক্ষা করতে চায় তবে কথা বলার পরিবর্তে কাজ করতে হবে এবং তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। তাহলে ইরানও স্থগিত রাখা  প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে ফিরে আসতে পারে। জাতিসংঘে ইরানের উপরাষ্ট্রদূত ইসহাক আল হাবিব বলেছেন: পরমাণু সমঝোতা রক্ষার ভার ইরান একা বহন করতে পারে না,করতে চায় না, করা উচিতও নয়।#

পার্সটুডে/নাসির মাহমুদ/১২

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

 

ট্যাগ

মন্তব্য